সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উৎযাপন অনুষ্ঠানে অবৈধ লটারীর রমরমা ব্যবসা, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন

unnamed (3)নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:: আনন্দ-উৎসব আর উচ্ছ্বাস-উষ্ণতায় নবীগঞ্জবাসী নতুন বছর ১৪২৪কে বরণ করে নিয়েছে। গত শুক্রবার পহেলা বৈশাখ যেন নাড়া দিয়ে গেছে নবীগঞ্জবাসীদের। বরাবরের মতো ভোরের আলো ফুটতেই নবীগঞ্জে শুরু হয় নতুনকে বরণ করে নেয়ার আয়োজন। একাধীক সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠানমালার। সব বয়সের নারী পুরুষ, তরুন-তরুনী এসে জড়ো হয় নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাঠ প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে। আর মানুষের উপস্থিতির সুযোগ নেয় একটি সিন্ডিকেট। মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সাথে সাথে র্যাফেল ড্র’র নামে শুরু হয়ে যায় অবৈধ লটারীর রমরমা ব্যবসা। এমন কৌশলে কুপন বিক্রি করা হয়, যা কিনতে বাধ্য হন অনুষ্ঠান দেখতে আসা মানুষ। লোকজনকে লোভনীয় পুরস্কারের কথা বলে লটারীর কুপন কিনতে প্রলুদ্ধ করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিম্ম আয়ের লোকজন। একই ভাবে শিশু কিশোরদেরও লটারীতে আসক্ত করা হয়। আর এতে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এই সিন্ডিকেট।

সুত্রে জানা যায়, উপজেলা শহরের কয়েকটি স্থানের মধ্যে প্রতি বছরই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদের মাঠে আনন্দ নিকেতন নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আর এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে উপজেলা প্রশাসন, যা ব্যানারেই উল্লেখ আছে। আর এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যায় বলে সূত্রে জানা গেছে।unnamed (4)

গত শক্রবার পহেলা বৈশাখ দিন শুরু থেকে বিকাল পর্যন্ত কম পক্ষে ১০ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়া আসা করে। আর সকাল থেকেই ওই অনুষ্ঠান আয়োজকদের ১৫/১৬ জনের একদল লোক ২০ টাকা মূল্যের “বৈশাখী আনন্দ কুপন” নামে অবৈধ লটারীর কুপনের বই হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েন। অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অনেকই আছে বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজন দিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসেন এই সুযোগে তাদের হাতে ২০ টাকা মুল্যের অবৈধ লটারীর কুপন দিয়েও সিন্ডকেটের লোকেরা বলেন লটারী কিনতে হবে, কিনলে ভালো পুরস্কার পাবেন। অনেকেই প্রকাশ্যে লজ্জায় বাধ্য হন কুপন কিনতে। আবার অনেকে হাতে ১০/১৫ টা কুপনও দড়িয়ে দেন। এভাবে মুহুর্তেই শেষ হয়ে যায় কুপনের বই। সিন্ডিকেটটি দিনে ৪/৫ হাজার অবৈধ লটারীর কুপন বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে। আর এই সিন্ডিকেটে তারা সবাই শহরের পরিচিত লোক বিভিন্ন প্রতিষ্টানের সাথে জড়িত। তাই তাদের সাথে মানুষের পরিচিতি বেশি, এমন পরিচিত মানুষকে কুপন কেনার কথা বললে না করার সুযোগ নেই কারন মাঠে আছেন হাজার হাজার নারী পুরুষ অনেকেই তাকিয়ে আছে কুপন বিক্রির দিকে। কিনতে না চাইলে নানা নীতিবাক্য পাঠ করে কটুক্তিমূলক কথা বার্তা বলেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। একটি কুপন সংগ্রহ করে দেখা গেছে, ফিছন দিখে লেখা রয়েছে পথম পুরস্কার একটি কালার টিভি। এছাড়াও ফ্যান, ঘড়ি, ছাতাসহ ১০টি পুরস্কার রয়েছে, যা নামে মাত্র তাও এসব পুরস্কার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে লেখা আছে। এমনকি কুপনের বই পর্যন্ত সৌজন্য দিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। ভবিষ্যতে এসব লটারীর কুপন বিক্রি নামক চাদাঁবাজি বন্ধের জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানিয়েছন সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজিনা সারোয়ার বলেন- ‘এ রকম কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’ ইউএনও‘র ভাষ্যে- ‘অনুষ্ঠান আয়োজন করতে ওই সংগঠনের অনেক টাকা ব্যায় হয়েছে, হয়তো লটারী বিক্রি করে কিছু সহায়তা হবে তাদের’। ১২ থেকে ১৩শ লটারী বিক্রি হতে পারে বলে ধারনা ইউএনও‘র।

অপর দিকে, নবীগঞ্জ এলাকায় অকাল বন্যায় ফসল হারানো কৃষক/কৃষাণিদের কান্না এখনও থামছেনা। কৃষকদের আহাজারীতে সব এলাকার আকাশ বাতাশ ভাড়ি হয়ে উঠেছে এর মধ্যে এসব আনন্দ উল্লাসের অনুষ্ঠানের আয়োজন রিতিমত সমালোচনা ঝড় বইছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ যেন কৃষকদের ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়াও এসব অনুষ্ঠান তরুন-তরুনীদের অবাধ মেলা মেশার সুযোগ করে দেয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: