সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অন্তহীন জীবন যন্ত্রণায় বস্তির কিশোরীরা

1492149127নিউজ ডেস্ক:: লিমার বয়স ১৭, নাইমার ১৬ আর রুমার ১৫ বছর। তারা থাকে শ্যামপুর ম্যাচ ফ্যাক্টরির বস্তিতে। সবাই এক কামরার বাসায় বাবা-মা, ভাই-বোনের সাথে থাকে। গোসল ও রান্নার জন্য একই গোসলখানা ও রান্নাঘর ব্যবহার করে। তাদের স্কুল কিংবা বাজারে যাওয়ার জন্য আলাদা কোনো রাস্তা নেই। এক একজনের বাড়ির ওপর দিয়ে তাদের দৈনন্দিন, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করতে যেতে হয়। ফলে দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা কাজে ঘরের বাইরে বেড়িয়ে নানা রকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলতে হয় তাদের।

এটা শুধু লিমা, নাইমা কিংবা রুমার সমস্যা নয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পাড় কদমতলী এলাকায় বস্তিতে থাকা সুমি, রিতা, শাবনূরদেরও একই সমস্যা। তাদের বস্তির রাস্তার পাশের এক চায়ের দোকানের তরুণ ও মাঝ বয়সের পুরুষরা তাদের দেখে নানা রকম বাজে কথা বলে। সুযোগ পেলে বাজে অঙ্গভঙ্গি দেখায়। এটি শুধু এই দুই এলাকায় না, মিরপুর এক নম্বর মাজার এলাকা, করাইল বস্তি, পূর্ব নাখালপাড়া ও কাওরানবাজার রেললাইনের আশ-পাশের বস্তি ঘুরে একই চিত্র পাওয়া যায়।

অপরিকল্পিত অবকাঠামো, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, স্মার্ট ফোনের দৌরাত্ম্য, পারিবারিক সহিংসতা, সুস্থ বিনোদনের অভাব বস্তির কিশোরীদের এমন সব সমস্যায় ফেলে বলে মনে করেন বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেন, সরকারে নানা কর্মসূচি থাকলেও সুযোগ গ্রহণ করার মত অবস্থা অনেক সময় এসব কিশোরীদের থাকে না। তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে উপেক্ষিত হওয়ার ভয়ে বেশিরভাগ সময়ই সেখানে যায় না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, শিক্ষা, সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিই পারে কিশোরীদের এ অবস্থার পরিবর্তন করতে।

বস্তিবাসী সুরক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ বস্তিবাসী ইউনিয়ন, এনডিবাস ও এনবাস চারটি বস্তি এলাকা নিয়ে কাজ করা সংগঠনের তথ্য মতে, ঢাকা শহরে ৪ হাজার বস্তিতে ৪০ লাখ মানুষ বাস করে। তাদের অর্ধেক নারী হলে ২০ লাখ বস্তিবাসী নারী।

শ্যামপুর ম্যাচ ফ্যাক্টরির বস্তির স্থানীয় মেম্বার আলী হোসেন সাজাহান বলেন, এসব ঘটনা এখনও বিদ্যমান। তারা সালিশের মাধ্যমে অনেক অভিযোগ সমাধান করেন। তিনি বলেন, ব্র্যাক ও প্লানের মতো উন্নয়ন সংস্থা এলাকায় এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে বলে ঘটনা আগের তুলনায় কমেছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম-এর তথ্য মতে, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ১৪৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। যা গত বছর ছিল ৯৬ জন। ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৫১ দশমিক ০৪ শতাংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শিশুর জন্য গণধর্ষণ বেড়েছে ১৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যৌন নির্যাতন বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। পর্নোগ্রাফির শিকার হয়ে শিশু নির্যাতন বেড়েছে তিন শত শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগ প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় গত এপ্রিল মাসে (২০১৬) শ্যামপুর ও বাউনিয়াবাঁধ এলাকায় গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, চায়ের দোকান, রিকশার গ্যারেজ, যানবাহনে, আলো কম এমন রাস্তায় অবস্থানরত যুবক ও প্রাপ্তবয়স্ক লোক মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একশন এইডের এক গবেষণায় দেখা যায়, রাস্তাঘাটে কুমন্তব্যের শিকার হন ৮৬ শতাংশ নারী। অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, দুর্ঘটনার ভয়ে থাকে ৪৬ শতাংশ নারী। শতকরা ৮৪ জন নারীকে বখাটেদের নিকট থেকে কটূক্তি ও অশোভন আচরণের সম্মুখীন হতে হয়। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক নিজের গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সকল এলকায় যৌন নির্যাতনের একটি বড় কারণ হচ্ছে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিশোর ও যুবক।

একশন এইড’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর পরিবারের শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার এবং অপরাধীর শাস্তির ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ধারণাগতভাবেই পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করা হয় না। আমরা এই ধরণা ভাঙার চেষ্টা করছি। থানায় নারী ও শিশু বিষয়ক ডেক্স ছাড়াও উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেটিভ সেন্টার বা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার রয়েছে। পুলিশের প্রশিক্ষণগুলোতেও জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ নির্যাতিত নারীর পুনর্বাসনে উন্নয়ন সংস্থার সাথে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

বস্তি এলাকায় অবকাঠামোগত ও সামাজিক অবস্থার কারণে অপরাধগুলো বেশি হয় বলে মনে করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি বলেন, সরকার বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনে কাজ করছে। তবে মানুষ আইন সম্পর্কে না জানায় তা বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন প্রুুিতমন্ত্রী।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: