সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাঙালির প্রাণে অপার আনন্দের পয়লা বৈশাখ আজ

14 April 2017_pic 009-1মারুফ হাসান ::

আজ শুক্রবার, বাঙালির প্রাণে অপার আনন্দের পয়লা বৈশাখ। চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবারই ১৪২৩ সনকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আজ যুক্ত হলো নতুন বছর ১৪২৪। স্বাগত, সুস্বাগত বাংলা নববর্ষ। জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করবে বাঙালি জাতি। পুরনো বছরের সকল অপ্রাপ্তি ভুলে গিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বাংলার আপমর জনতা। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জঙ্গিবাদ ও রাজাকারমুক্ত একটি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাঙালি পালন করবে বৈশাখী উৎসব। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আছে পুরো নগরী। সিলেট জুড়ে থাকছে বর্ষবরণের আরও নানা আয়োজন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসন ভিত্তি করে প্রবর্তন হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসা¤প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পয়লা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। সম্প্রতি (২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর) ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে।

বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে। পয়লা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারাদেশ। আজ বর্ষবরণের এ উৎসব আমেজে মুখরিত বাংলার চারদিক। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালি মিলিত হয়েছে তার সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। দেশের পথেঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে লক্ষ মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা।

নববর্ষ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিক তুলে ধরে ক্রোড়পত্র বের করেছে। সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নববর্ষকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলা ১৪২৩ সনকে বিদায় এবং নববর্ষ ১৪২৪ বরণকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স¤প্রদায় প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা পালন করছে। বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে সিলেট নগরী পুরোটাই ঢেকে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা চাদরে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যৌথভাবে কাজ করছে সব সংস্থা। সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম, অবজারভেশন পোস্ট ও চেক পোস্ট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি থাকছে গোয়েন্দা দলের সদস্য, বোমা ডিসপোজাল টিম ও মেডিক্যাল টিম।

আজকের আয়োজন : বর্ষবরণের কর্মসূচির মধ্যে বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বৈশাখি মেলা ছাড়াও আনন্দ শোভাযাত্রা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল গান ও পিঠা উৎসব রয়েছে। তবে এবারও সিলেট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিন ব্রিজের মোড়ে ১৫ দিনের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
সম্মিলিত নাট্যপরিষদের আয়োজনে গতকাল সুরমার পারে চাঁদনিঘাটে ১৪২৩ বাংলাকে বিদায় ও ১৪২৪ বাংলাকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দোৎসব পালন করে।

আজ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, এমসি কলেজে অনুষ্ঠান, শ্রীহট্ট সাংস্কৃতিক কলেজে বর্ষবরণ করতে নানা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্ষবরণের আয়োজনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনও বর্ণাঢ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ছাড়াও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সাংস্কৃতিক সংগঠন শিকড়, মাভৈঃ আবৃত্তি সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, মিউজিক্যাল সংগঠন রিম, নোঙরসহ বিভিন্ন সংগঠন বর্ষবরণের নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য বাংলা নতুন বর্ষ বরণ করতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতি-সিলেট প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করেছে ‘শ্রুতি শতকন্ঠে বর্ষবরণ উৎসব’-১৪২৪ বাংলা।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দিনব্যাপিী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, উদ্বোধনী সংগীত, চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, সমবেত সংগীত, সাপ খেলা প্রদর্শন, মোরগ লড়াই, নাটক, আবৃত্তি, বাউল গান,পালা গান ও ধামাইল সংগীত।

অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা : পয়লা বৈশাখকে ঘিরে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহানগরে দেড় সহগ্রাধিক পুলিশ সদস্য একদিন আগে থেকে মাঠে কাজ করবেন। সব মিলিয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা থাকবে। শ্রীহট্ট সাংস্কৃতিক কলেজে পুলিশের একাধিক টিম নিরাপত্তায় থাকার পাশাপাশি একদিন আগে থেকেই এ প্রতিষ্ঠানকে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছে পুলিশ। এছাড়াও যে সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পয়লা বৈশাখের দিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানেও পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে এমসি কলেজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদনিঘাট, কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়াম, সিলেট শিল্পকলা একাডেমিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

কয়েক হাজার পুলিশ নিয়ে পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। মোবাইল টিম, পুলিশের নির্ধারিত টিম, টহল টিম, বিশেষ টিম, ডিবি পুলিশের টিম, নগর বিশেষ শাখা, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা টিমের সদস্যরা মাঠে থাকবেন।

তবে হাওরপারের কৃষকদের কাছে এবারের বৈশাখে কোনো আনন্দ-উল্লাস নেই। আছে চৈত্রের শেষে অকাল বন্যায় সব হারানোর বেদনা আর বুকভরা হতাশা। কৃষকদের কাছে এই বৈশাখে আনন্দ না থাকলেও নগরজীবনে বৈশাখি হাওয়া বেশ ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছে।
অকাল বন্যায় বোরো ধান হারানো কৃষকরা মনে করেন, উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে চললেও এ মহাসড়কের যাত্রী হচ্ছেন, উপরতলার বাসিন্দারা শহরের ধনি-দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। হাওর এলাকার মানুষ এ মহাসড়কে উঠতে পারছে না। হাওরের আফাল ডিঙিয়ে, কাদামাটি লেপ্টা শরীরের মানুষগুলো এ মহাসড়কে উঠা বারণ। হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে চাইলেও উপর তলার মানুষরা তাদের ঠেলে ফেলে দিচ্ছে। কারণ হাওরের ভুখা-নাঙারা উন্নয়নের এ মহাসড়কে উঠে গেলে উপর তলা আর নিচতলা বলতে কিছু থাকবে না। তাই প্রতিবছরই হাওররক্ষা বাধ নিয়ে চলে লোকোচুরি খেলা। আর এই খেলার বলি হন কৃষকরাই। তাই কৃষকদের জীবনে উৎসবের উৎসবের বৈশাখ খুব কমই আসে।
হাওরের ফসলরক্ষায় দুর্বল বাঁধ ভেঙে ইতোমধ্যে সুনমাগঞ্জসহ সিলেটের বিভিন্ন হাওরের প্রায় তিন লাখ একর কাঁচা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। সারা বছরের খোরাক, চিকিৎসা, বস্ত্র, বিয়েশাদি সবই গেছে বানের জলে ভেসে।

fakhrul_islam

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: