সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্কুলে আনতে না গেলে ছেলে-মেয়েকে কৈফিয়ত দিতে হয় : বাবুল আক্তার

babul-akter20170413113809নিউজ ডেস্ক:: দেশব্যাপী আলোচিত পুলিশের সাবেক সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার তার ছেলে-মেয়ে ও তাদের পড়াশোনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

স্ট্যাটাসে সন্তানদের স্কুল ও অভিভাবকের করণীয় সম্পর্কে নানা বিষয় উল্লেখ করেছেন তিনি। গত ১১ এপ্রিল দেয়া বাবুল আক্তারের ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো।

এখন বাচ্চাদের প্রায়ই স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে আসতে হয়। মাঝে মাঝে না যেতে পারলে মেয়ের বকুনিও খেতে হয়, দিতে হয় হাজার কৈফিয়ত! “বাবা, তুমি কেন আনতে যাওনি আজ? দেখনা সবার আম্মুরা নিতে যায়?” “ওহ্ আচ্ছা বুঝতে পেরেছি, আমাকে তুমি ভালোবাসনা তাই যাও না।”

মাঝে মাঝে স্কুলের সামনে দাড়িয়ে ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে করতে দেখি স্কুল শেষে সন্তানেরা ফেরার সাথে সাথে কোন কোন অভিভাবক খাতা মিলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একদিন দেখলাম, ছুটির ঘন্টা বাজতেই এক ছোট্ট সোনামণি স্কুল শেষের স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফেরার উৎসাহে মায়ের কাছে দৌড়ে আসে। আর মা তখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন সন্তানের খাতাপত্র নিয়ে। ঠিকমত লিখেনি বলে বকুনি খেয়ে রীতিমত চেঁচিয়ে কাঁদছে বাচ্চাটি।

বাচ্চা দুটোকে একা সামলাতে গিয়ে সন্তান লালন-পালনের নানা আর্টিকেল পড়ি নিয়মিত। বুঝলাম, শিশুরা হয় বায়বীয়। তাদের যেই পরিবেশে রাখা হয় আর যেই অভ্যাসে অভ্যস্ত করা হয় তারা আজীবন তা-ই লালন করে।

স্কুল ছুটির সাথে সাথে `আজ ক্লাসে কী পড়িয়েছে?` `সব ঠিকমত লিখেছ?` এসব প্রশ্ন করে শিশুকে ভীতির মধ্যে ফেলে না দেওয়াই উত্তম। এই প্রশ্ন থেকে শিশু শিখে স্কুল শুধুই পড়ালেখার জায়গা। কিন্তু আসলেই কী তাই? লেখাপড়ার পাশাপাশি স্কুল শিশুর মানসিক, শারিরীক এবং সামাজিক উন্নয়নের সহায়ক প্রতিষ্ঠান।Untitled-120170413113943

ছুটির পর সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে যদি প্রশ্ন করা হয় `আজ কেমন দিন কাটালে, বাবা?` তবে গল্পে গল্পে সে আপনার সাথে প্রতিদিনের সব কথা শেয়ার করা শিখবে। দীর্ঘদিনের চর্চায় সন্তান হয়ে উঠবে আপনার বন্ধু। বড় হয়েও নিজের সব বিষয় জানাবে আপনাকে। তখন সন্তান কী করছে বা কার সাথে মিশছে সেই চিন্তায় অস্থির থাকতে হবে না। বন্ধুত্ব পরিচর্যার বিষয়, হঠাৎ করেই গড়ে ওঠে না।

সন্তানকে জিজ্ঞেস করা উচিৎ `সে স্কুলে কাকে কাকে সাহায্য করেছে, কী কী ভাল কাজ করেছে।` এতে সে শিখবে জীবনে অন্যকে সাহায্য করা, ভাল কাজের মাধ্যমে সৎ মানুষ হওয়া লেখাপড়া শেখার মতই গুরুত্বপূর্ণ।

বাচ্চার কাছে জানতে চাওয়া উচিৎ `সে নতুন কোন খেলা খেলেছে কী না। ক্লাসে মজার কিছু শিখেছে কী না।` এতে সে বুঝবে শেখার মাধ্যমেও জীবনকে উপভোগ করা যায়। অনেক বাচ্চাকে দেখেছি স্কুলে যেতে চায় না, কান্নাকাটি করে। কারণ সে স্কুলের আনন্দ উপভোগ করতে শিখেনি। অথচ স্কুল কোন ভীতির জায়গা না। নতুন এবং মজার কিছু শেখার আর করার জায়গা, উপভোগ করার জায়গা।

তাহলে কী লেখাপড়ার দরকার নেই?! আলবৎ আছে। তবে বাচ্চা তো এখন স্কুলে, সবে শুরু করেছে লেখাপড়া। সে কেবলই চিনে নিচ্ছে পথঘাট। আমাদের আচরণই সন্তানের জীবনকে আকার দেয়।

তাই কেবল পড়ালেখার গন্ডিতেই রাস্তা এঁটে দেওয়া উচিৎ না। সামনে এগুতে এগুতে সে নিজেই বুঝে যাবে পড়াশুনার মর্ম, প্রয়োজনীয়তা। কেবল অক্ষরজ্ঞানের দৌড়ে প্রথম হতে গেলে প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে এ.পি.জে. আব্দুল কালাম কখনও তার দেশের প্রসিডেন্ট এবং সেরা বিজ্ঞানী হতে পারতেন না। আমাদের উচিৎ বইখাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে সন্তানের চারপাশ প্রসারিত করে দেওয়া।

শৈশব একটাই। গত হলে আর ফিরে আসবে না। আজ থেকে বিশ বছর পর আমাদের সন্তান যেন শৈশবের সুখস্মৃতি মনে করতে পারে, যেন রোমন্থন করতে পারে স্কুল শেষে আপনার আর তার গল্পের ফুলঝুরি আর স্মৃতিকথা।
শুদ্ধ মমতায় প্রতিটি শিশুই পাক নিখাদ শৈশব।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: