সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইলিশ বিহীন হোক পহেলা বৈশাখ

 

14 April 2017_pic 007কানিজ কবির ::
পহেলা বৈশাখ! বাঙ্গালির সার্বজনীন প্রানের উৎসব হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃস্টান, ধনী গরিব সকলের মাঝেই আনন্দের বারতা বয়ে নিয়ে আসে যে উৎসব তা হচ্ছে এই বৈশাখি উৎসব। ঘরে ঘরে জেগে উঠে সাজ সাজ রব। প্রখর উষ্ণতায়ও বাঙ্গালি জেগে উঠে উৎসবের আমেজে। এদিনটি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একই সাথে নববর্ষ হিসেবেই পালিত হয়।

আজকের এই পহেলা বৈশাখের সাথে কালাতিক্রমে যোগ হয়েছে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষ বরণ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতা, পান্তা ইলিশ (!), নৌকাবাইচ, বউ ও ঘোড়ামেলা ইত্যাদি। পাপেট, ঘোড়া, হাতি, ময়ুর, পালকি ও নানারকম শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় চারুকলার পাদদেশ থেকে সমাজের অসুর বিনাশের প্রতীকী পরিকল্পনায়। এই অর্থে এই শোভাযাত্রা ভীষণ অর্থব্যাঞ্জক! বছরের প্রথম দিনে এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিকৃতি সাজিয়ে অপশক্তির অবসান ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে বৈশাখি মেলা অনুসঠিত হয়। এই মেলায় চমৎকার সব মাটির খেলনা, পুতুল, হাড়ি পাতিল, মুড়ি মুরকি, বাতাসা কদমা নানা ধরনের উপকরণ বিক্রি হয়। নাগরদোলার দোল দোলানিতে ছোট বড় সকলেই হারিয়ে যায় অসীম আনন্দে। এবার আসি মুল প্রসংগে।

আগেই উল্লেখ করেছি বেশ কবছর ধরে পহেলা বৈশাখের অন্যান্য অনুষঙ্গের সাথে প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে পান্তা ইলিশ। পান্তা ইলিশ ছাড়া বাঙ্গালির বৈশাখ উদযাপন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সুদুর অতীত বলে ভিন্ন কথা। দূর অতীতে পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশের প্রচলন ছিল না বললেই চলে। চিড়া, মুড়ি, খই, দই, ঘোল, বাতাসা, মিষ্টি, কদমা, তিলের গজা, লাড্ডু ইত্যাদি নাস্তার উপকরণ আর দুপুরের খাবারের সাথে ছিল বিভিন্ন রকম ভর্তা, ভাজি, সবজি, সুক্তো, চাটনি, ডাল, শাক ইত্যাদি। সেখানে ইলিশের স্থান কোথায়? কিন্তু কালের পরিক্রমায় ইলিশ যে কখন ও কেন বাঙ্গালি জীবনে ঠিক এই দিনেই পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছে, তা আজও সবার অজানা। অথচ এখন ইলিশ ধরার সময় একেবারেই নয়।

ইলিশ ধরা এখন ঘোর অন্যায় বলেও কম বলা হবে। অক্টোবর নভেম্বরে ইলিশের প্রজনন হয়ে মার্চ এপ্রিলে অর্থাৎ বৈশাখে ইলিশ থাকে শিশু পর্যায়ে যাকে আমরা জাটকা বলি। ইলিশ প্রজননের সময় সরকার এখন মা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ইলিশের প্রজনন হয় গত সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। কিন্তু গন হারে জাটকা নিধন করে এই ইলিশগুলোকে অচিরেই মেরে বা খেয়ে ফেলে ভরা মৌসুমে ইলিশের ক্রমবর্ধমান গতিকে পুরোপুরি রোধ করার প্রয়াস চলে এই বৈশাখে।

পহেলা বৈশাখে একদিনের ইলিশ খাওয়ার আনন্দে ভরা মৌসুমের না খাওয়ার হতাশা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। বৈশাখে এই হারে জাটকা নিধন না হলে ভরা মৌসুমে সাধারণ মানুষও ইলিশ খেত জমিয়ে। এখন কার্যত কি হচ্ছে? কার্যত ইলিশ খাওয়া হচ্ছে শুধুই বৈশাখে বর্ষ বরণ উপলক্ষে, আর বর্ষা কালে ইলিশের সময়ে অপ্রতুলতা ও অতিরিক্ত দাম হেতু তা সাধারণ মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে থেকে যাচ্ছে। সার্বজনীন এই উৎসবকে প্রাণবন্ত করার জন্য ইলিশের প্রয়োজন নেই কিন্তু। মানুষের মাঝে নববর্ষের চেতনা এমনিতেই জাগ্রত।

নববর্ষ আমাদের মন ও মননে। বরঞ্চ ইলিশ উৎসব হোক ভরা বর্ষায় বা ভাদ্রে। ধনী গরিব সবার মাঝেই ইলিশ আসুক খুশির বারতা নিয়ে। ইদানীং বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার মাঝেও কিন্তু কিছুটা সচেতনতা জাগ্রত হয়েছে। প্রয়োজন শুধু বাস্তবায়ন। আসুন, সকলেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হই, এবারের পহেলা বৈশাখ হোক ইলিশবিহীন যা কোন কালেই আমাদের ঐতিহ্যের অংশ ছিল না। জাটকা নিধনের এই খেলায় নিজেরা শরীক না হয়ে পহেলা বৈশাখকে করে তুলি আরো প্রানবন্ত, সতেজ ও সজীব। ইলিশবিহীন পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালি জীবনে আসুক নতুনের জয়গান নিয়ে, নতুন আশার আলো নিয়ে।

লেখক: পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: