সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমাকে না জনিয়েই ইন্টারনেট ও এসসিএসের তার কাটা হয় : মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী

12 April 2017_pic 002নজস্ব প্রতিবেদক ::
‘সোমবার মধ্যরাতে মহানগরের কেন্দ্রস্থলের জিন্দাবাজার এলাকায় সিলেট কেবল সার্ভিস (এসসিএস) ও ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে ফেলে সিটি করপোরেশন। এতে করে গোটা নগর মঙ্গলবার প্রায় সারা দিন ইন্টারনেটের ব্রড লাইন ও স্যাটেলাইট টিভির লাইন সংযোগবিহীন হয়ে পড়ে। সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযানের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’ গতকাল মঙ্গলাবর বিকেলে তাঁর মেয়রের চেয়ারে বসার তিন কার্য দিবসে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
মেয়র আরিফ বলেন, এ অবস্থায় নগরজুড়ে একটি এক ধরনের অপপ্রচার রটানো হয় যে, আরিফুল হক মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পরই এ কাজ করেছেন। এ বিষয়ে সকাল থেকে বিভিন্ন সংস্থা থেকে তাঁর কাছে জানতে চাওয়ায় আরিফুল সংবাদ সম্মেলন করে মেয়রের চেয়ারে বসলেও প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা এখনও দেওয়া হয়নি-এ বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।
মেয়রের চেয়ারে বসার তিন কার্যদিবসেও প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পাননি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফুল বলেন, গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা ২১ মিনিটে আমি মেয়রের চেয়ারে বসি। ওই দিন কিছু ডকেট ফাইল সই করি। এরপর গত রোববার থেকে মঙ্গলবার এই তিন কার্যদিবসে প্রশাসনিক ও আর্থিক কোনো কাজ করতে পারছি না। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসেনি জানিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে কৌশলে কোনো কাজ করতে দিচ্ছেন না।’
তিন কার্যদিবসের মাথায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন মেয়র আরিফুল। তিনি বলেন, গত সোমবার মধ্যরাতে মহানগরের কেন্দ্রস্থলের জিন্দাবাজার এলাকায় সিলেট ক্যাবল সার্ভিস (এসসিএস) ও ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে ফেলে সিটি কর্পোরেশন। এতে গোটা নগর মঙ্গলবার প্রায় সারা দিন ইন্টারনেটের ব্রড লাইনবিহীন ও স্যাটেলাইন টিভির সংযোগবিহীন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযানের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এ অবস্থায় নগরজুড়ে একটি এক ধরনের অপপ্রচার রটানো হয় যে, আরিফুল হক মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পরই এ কাজ করেছেন। এ বিষয়ে সকাল থেকে বিভিন্ন সংস্থা থেকে তাঁর কাছে জানতে চাওয়ায় আরিফুল সংবাদ সম্মেলন করে মেয়রের চেয়ারে বসলেও প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা এখনও না দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।
নগরের কিনব্রিজ এলাকায় সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সিটি কপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলররাও উপস্থিত ছিলেন। আরিফুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে মেয়র অব অফিস। কিন্তু আমি মেয়রের চেয়ারে বসলেও প্রশাসনিক কোনো কাজকর্ম করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কাজ করছেন সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনিসহ প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বশেষ নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনের পর আরিফুল হক চৌধুরী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দপ্তরে বসেন। সেখানে বসে বলেন, ‘বলতে পারেন আমি শুধু এই চেয়ারটি পেয়েছি। আর কোনো কাজকর্ম নেই।’
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘একই আইনি আমরা তিনজন বরখাস্ত হয়েছিলাম। উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবার ফিরে এসেছি। তাঁরা (রাজশাহী ও হবিগঞ্জের মেয়র) দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ আমার বেলায় মন্ত্রণালয় দেখানো হচ্ছে। এটা আসলে কার ইশারায় হচ্ছে, জানা দারকার। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদেরও আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’ কী, কোথায় প্রক্রিয়াধীন-জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র বরখাস্ত হওয়ায় আমাকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব স্থানীয় সরাকর মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম দফা বরখাস্ত আদেশ উচ্চ আদালত স্থগিত করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি চিঠি দিয়েছিল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। পরে আবার বরখাস্ত হন। তখন নতুন করে আর কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ায় আমাকেই পালন করতে হয়।’
মেয়রকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় মেয়রের বরখাস্ত আদেশ স্থগিত হওয়ার পর আমরা অপেক্ষায় আছি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আদেশ পাওয়ার।’
কেবল লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হয়েছে : নগরের কেন্দ্রস্থলের জিন্দাবাজার এলাকা থেকে ক্যাবল লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগের তার অপসারণ সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক নথিতে সচিব মোহাম্মদ বদরুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সচিব স্বাক্ষরিত পত্র সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমি যে প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পাইনি, এর প্রমাণ এটিই।
সিটি করপোরেশনের ৭৪৪ নম্বর স্মারকের এ চিঠি নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব নিশ্চিত করেন। তবে তিনি জানান, অবৈধ কিছু তার কাটতে গিয়ে ভুলক্রমে কেবল ও ইন্টারনেট সংযোগ লাইন এভাবে কাটা ভুল হয়েছে। এ বিষয়ে সিলেট কেবল সার্ভিস লি. ও ইন্টারনেট সংযোগ লাইনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কাটা লাইনের কিছু অংশ মেরামত করে আবার সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। আজ বুধবার বাকি অংশের কাজ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: