সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিসিক কর্তৃক স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন : ব্যাংক-বিমায় লেনদেন হয়নি, দিনভর দুর্ভোগ

12 April 2017_pic 001স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট নগরীর সড়কগুলোতে ঝুলে থাকা স্যাটেলাইট ডিশের কেবল (এসসিএস)-এর লাইন ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কেবলের তার অপসারণে অভিযান চালায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। গত সোমবার মধ্যরাতে নগরীর জিন্দাবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করে সিলেট সিটি করপোরেশন।
এরপর থেকে প্রায় ১৮ ঘন্টা নগরবাসী অনলাইনভিত্তিক সকল সেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গতকাল সারা দিন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক-বিমা ও বিমানের টিকেট পর্যন্ত কাটা যায়নি। এতে তারের মাধ্যমে সেবাদানকারী ইন্টারনেট, ডিস ও টেলিফোন কোম্পানির গ্রাহকরা পড়েন ভোগান্তিতে। কোন ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে সংযোগ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার লোকজন। কেননা সব ব্যাংকই এখন অনলাইন সেবা প্রদান করে থাকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মাধ্যমে। সকাল থেকেই সিলেটের বিভিন্ন ব্যাংকে অনেকগুলো শাখায় সম্ভব হচ্ছে না অনলাইন ব্যাংকিং সেবা। এতে করে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন সিলেট নগরের গ্রাহকেরা।
শুধু ব্যাংকই নয়; বিভিন্ন অনলাইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেও একই অবস্থা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকেরা। তবে গতকাল বিকেল ৫টায় জিন্দাবাজার এলাকায় ইন্টারনেট সচল হয়।
এ অবস্থায় গতকাল বিকেল নগরীর কিনব্রিজ এলাকায় সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে সিটি কপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন ‘সোমবার মধ্যরাতে মহানগরের কেন্দ্রস্থলের জিন্দাবাজার এলাকায় সিলেট কেবল সার্ভিস (এসসিএস) ও ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে ফেলে সিটি কর্পোরেশন। এতে করে গোটা নগর মঙ্গলবার প্রায় সারা দিন ইন্টারনেটের ব্রড লাইন ও স্যাটেলাইট টিভির লাইন সংযোগবিহীন হয়ে পড়ে। সারা দিন নগরের লাখ লাখ নাগরিক দুর্ভোগ পোহান। অথচ এই অভিযানের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। যারা এই অভিযান চালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়র আরিফ বলেন, এ অবস্থায় নগরজুড়ে একটি এক ধরনের অপপ্রচার রটানো হয় যে, আরিফুল হক মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পরই এ কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে সকাল থেকে বিভিন্ন সংস্থা থেকে তাঁর কাছে জানতে চাওয়ায় আরিফুল সংবাদ সম্মেলন করে মেয়রের চেয়ারে বসলেও প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা এখনও দেওয়া হয়নি বলে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, এসসিএসের কেবল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তার অবৈধ নয়, তবে ভুলক্রমে তা অপসারিত হয়েছে। এজন্য গ্রাহকদের অসুবিধা হওয়ায় আমরা দুঃখিত। মেয়রকে না জানিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আরিফুল হক সাহেব বৃহস্পতিবার থেকে অফিস করছেন। যা কিছু করছেন সব কিছুই তাঁর জানামতোই হচ্ছে। এখানে কোনো কিছু গোপনে করা হয়নি। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে অবৈধভাবে ঝুলে থাকা তার অপসারণে একাধিকবার নোটিশ করা হয়। এরপরও বিদ্যুতের খোঁটা থেকে তার না সরানোয় সোমবার রাতে ওই অবৈধ তার অপসারণে জিন্দাবাজার এলাকায অভিযানে নামে সিটি কর্পোরেশন। তখন ভুলক্রমে কিছু তার কাটা পড়ে।
এদিকে, কেবল অপসারণের ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নগরীর কিছু এলাকার ইন্টারনেট সংযোগ। বন্ধ থাকে পুরো নগরীর ডিশ সংযোগ। কেবল স্থাপনের জন্য দায়ী না হয়েও এর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ইন্টারনেট না থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরও।
সিলেটে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম আম্বার আইটির ইনচার্জ সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেট কেবল অপসারণ করা হবে এমন কোনো নোটিশ আমাদের দেয়া হয়নি। আমাদের একবার বলা হয়েছিল, কেবলগুলো যেন আমরা গুছিয়ে সুন্দরভাবে রাখি। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তা সরাতে হবে, এমন কিছু আমাদের বলা হয়নি।
গ্রাহক দুর্ভোগ আরও কিছুদিন থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ আগামী ৩/৪ দিন বন্ধ থাকবে।
ইন্টারনেটের পাশাপাশি গত সোমবার মধ্যরাত থেকে নগরীতে বন্ধ রয়েছে ডিশ সংযোগও। এর ফলে কেবল টিভি চ্যানেল দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিশ সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান সিলেট কেবল সিস্টেমস (এসসিএস) প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনেল আহমদ বলেন, হঠাৎ করেই গতরাতে আমাদের কেবল লাইন অপসারণ করা হয়েছে। এর জন্য আমাদের কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা এর কারণ জানতে চাইলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী সিসিকের কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কেবলের কারণে জঞ্জাল সৃষ্টি হয়েছে, তাই তারা কেবল অপসারণ করছেন।
তিনি আরও জানান, আমরা আশা করছি, আজকের মধ্যেই বিষয়টির সুরাহা করতে পারবো। তবে কেবলগুলো উচ্ছেদ করার কারণে সেগুলো প্রতিস্থাপন করতে বেশ কিছু সময় লাগবে। সংযোগ চালু হতে কয়দিন লাগতে পারে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
সিলেটে স্যাটেলাইট কেবল সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান আলাপ কমিউনিকেশন লিমিটেডের সিলেট বিভাগীয় ইনচার্জ অর্ণব বলেন, কোনোরকম নোটিশ ছাড়াই গতকাল মধ্যরাতে ডিশের কেবলগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এতে গ্রাহকরা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি আমরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরাও চাই, সিলেটের সৌন্দর্যবর্ধন হোক। সেক্ষেত্রে আমাদের সাথে আলোচনা করা যেত। কোনো ভিন্ন উপায় থাকলে আমরা অবশ্যই তা মেনে চলতাম। কিন্তু কিছু না জানিয়েই হঠাৎ করে আমাদের কেবলগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, আমরা এখন সিসিক কার্যালয়ে আছি। চেষ্টা করব সিসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে ফলপ্রসূ বৈঠক করার জন্য। যদি বৈঠকে কোনো সমাধান হয়, তবুও সংযোগ চালু করতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: