সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে চালের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি : নেপথ্যে ব্যবসায়ীদের কারসাজি

10 April 2017_pic 013মারুফ হাসান ::
হঠাৎ করেই সিলেটের বাজারগুলোতে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। খুচরা বাজারে কেজিতে বেড়েছে ৬ থেকে ৮ টাকা। চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্য ও নিম্নবিত্তসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারের চাল মজুদকরণ, অকাল বন্যা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। চালের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে জেলা প্রশাসনের মনিটরিং সেলের কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

নগরীর কালীঘাট ও কাজিরবাজারে চালের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি ৫০ কেজি চালের বস্তায় ২শ থেকে ৩শ টাকা মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। পুরাতন ২৮ চাল বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২৮ সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ২২শ থেকে ২২শ ৫০ টাকা, স্বর্ণা গুটি সিদ্ধ ১৯শ ৫০ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা শাইল ২৫শ থেকে ২৮শ ৫০ টাকা, স্বর্ণা-৫ প্রতি ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ২০ থেকে ২হাজার ৭০ টাকা, কাটারি আতপ ২১শ থেকে ২১শ ৮০ টাকা, নতুন মালা (সাতক্ষীরা) ২১শ থেকে ২১শ ৫০ টাকা, নাজির শাইল ২২শ থেকে ২৫শ টাকা, নাজির শাইল (১ নম্বর) ২৫শ থেকে ২৭শ টাকা, মোটা আতপ ১৯শ থেকে ২ হাজার, বুক কাটারি ২৩শ থেকে ২৫শ টাকা, মালা-২৯ চাল ২১শ থেকে ২২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দু সপ্তাহ পূর্বে মালা-২৮ বিক্রি হয়েছে ১৯শ ৫০, মালা-২৯ ১৯শ টাকা, স্বর্ণা সিদ্ধ ১৮শ ৫০ টাকা, মোটা আতপ ১৬শ ৫০ টাকা, স্বর্ণা গুটিসিদ্ধ ১৭শ টাকা এবং কাটারি ১৯শ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

চালের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবস্থা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং চালু আছে কিনা জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাঁর পক্ষে কল সিরিভ করেন সিলেটের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) দেবজিৎ সিনহা। তিনি বলেন, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু আছে। নিয়মিত চালের বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কালীঘাট চাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি ফারুক আহমদ ডেইলি সিলেটকে বলেন, সরকার বাজার থেকে মোটা চাল সংগ্রহ ও মজুদ করায় এবং সম্প্রতি ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চালের মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। তাছাড়া অধিক মুনাফা লাভের আশায় স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চাল মজুদ করেছেন। পাশাপাশি পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বোরো ফসল বাংলাদেশের চালের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চৈত্রের মাঝামাঝি পর্যায়ে আড়তদাররা বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারতেন; কিন্তু এবার তা হলো না। এর ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। অপরদিকে মিল মালিকরা বোরো ফসল উঠানোর জন্য বৈশাখের আগেই মিল খালি করেন। এখন তাদের কাছেও চাল নেই।

কালীঘাটের চাল ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জানান, সিলেট অঞ্চলের চাল ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে নওগাঁ, নাটোর থেকে চাল আমদানি করে থাকেন। গত ১৫ দিনে এই রুটে ট্রাকপ্রতি পরিবহণ খরচ বেড়েছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ, আগে ১৫ টন চালের একটি ট্রাক সিলেটে পৌঁছতে ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা ভাড়া লাগত। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকা। এতে ব্যবসায়ীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই চালের দাম বাড়িয়েছেন।

চাল আমদানিকারক হাজি মো. আব্দুল মতিন মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, হঠাৎ অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষ আশঙ্কায় পড়ে যান। তাঁরা দ্রুত বাজার থেকে চাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সিলেটের বাজারে ভিড় করেন। তাদের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হয়। এতে চালের কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল আমদানি করায় বর্তমানে আর কোনো সংকট নেই।

পাইকারি বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সিলেট মহানগরীর শাহি ঈদগাহ, শাহজালাল উপশহর, পীরমহল্লা, আম্বরখানা, রিকাবিবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, মেজরটিলা, বন্দরবাজার, লালাবাজার, টুকেরবাজার এলাকার খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তাঁরা কেজি প্রতি ৬ থেকে ৮ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দাম কিনতে হচ্ছে; তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

নাটোর কানাইখালি চালপট্টির পাইকারি চাল ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, বিগত তিন মাস ধরে সব ধরনের চালের দাম বেড়ে চলছে। মোটা চালে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা, চিকন মিনিকেটসহ অনান্য চালে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ বাড়ার কথা ছিল, সে পরিমাণ চালের দাম বাড়েনি বলেও দাবি করেন এই ব্যবসায়ী।

মিল মালিকরা বলছেন, বর্তমান সময় কৃষকের ঘরে ধান না থাকায় মিল মালিকরা ধান পাচ্ছেন না, যার কারণে ধানের সংকট রয়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে বেশিরভাগ চাতাল বন্ধ থাকে। তাই নতুন ধান না ওঠা পর্যন্ত চালের বাজার এরকমই থাকবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসন থেকে অনেকদিন যাবৎ বাজার মনিটরিং করতে দেখা যায়নি।

fakhrul_islam

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: