সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘আত্মহত্যা নয়, রাউধাকে হত্যা করা হয়েছে’

8aprilnewspic010ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
মালদ্বীপ মডেল কন্যা রাউধা আতিফের আত্মহত্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলো। এখন পর্যন্ত এর কোন কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের গৃহীত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিও কোন রিপোর্ট পেশ করেনি। ফলে এ ঘটনা জন্ম দিচ্ছে নানা রহস্যের। প্রশ্ন উঠছে নানান রকম। এই যখন অবস্থা, তখন অনেক পরে হলেও সাংবাদিকদের সামনে অবশেষে মুখ খুললেন সাগর কন্যার বাবা ভারতে কর্মরত ডাঃ মোহাম্মদ আতিফ। তিনি দাবি করলেন রাউধা আত্মহত্যা করেননি, হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে বেশ কিছু যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মামলা করার। তবে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি বলে জানান শাহমুখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান।

রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে পড়তে আসা রাউধা আতিফের আত্মহত্যার বিষয়টি কখনই মেনে নেননি তার বাবা। পুলিশের কাছে লিখিতভাবে না জানালেও একাধিকবার বলেছেন রাউধা আত্মহত্যা করতে পারেনা। এর পেছনে অন্য কোন রহস্য রয়েছে। আর সেই রহস্য উদঘাটনের জন্য ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দায়ের করা অপমৃত্যু মামলাটি শাহমুখদুম থানা থেকে হস্তান্তর করা হয় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে। তাদের তদন্ত শুরু হতে না হতেই এই ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেন মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রিয়াজ ও সিনিয়র পরিদর্শক আলী আহমেদ। কিন্ত এখন পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর পুলিশ ঘটনার রহস্য সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারেনি। এর মধ্যে দফায় দফায় তারা রাউধার হোস্টেল পরিদর্শন করেছেন। কথা বলছেন রাউধার সহপাঠি, শিক্ষক ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। বুধবার তারা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিক থেকে মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে যান রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। বিদেশি ছাত্রীদের ব্লকে আরো ১৪ জন বিদেশি ছাত্রী থাকেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। তাদের সাথে কথা বলে বেরিয়ে যাবার সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাউধার ভাই হাসান আতিফ। তবে এ সময় তদন্তকারী মালদ্বীপ পুলিশ কর্মকর্তারা কথা বলতে চাননি এমনকি ছবিও তুলতে দেননি।

মোহাম্মদ আতিফ ভারতের ভোপাল গান্ধি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তিনিও ফরেনসিক মেডিসিন পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘না, এটা নিছক আত্মহত্যা নয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে লাশ দেখা হয়েছে। এটা আত্মহত্যা নয়। পরিকল্পিতভাবে রাউধাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের অবস্থা ও বিভিন্ন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ কাউকে বাঁচানোর জন্য সত্য কথা বলছে না। এমনকি মৃত্যুর দিনের ভিডিও ফুটেজ দিতে পারছেন না কলেজ কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ রাউধার বাবার।

অন্যান্য দিনের ফুটেজ রয়েছে তাহলে ঐদিনের থাকবেনা কেন এমন প্রশ্ন আতিফের। ধাক্কা দিলেই রাউধার ২০৯ নং রুমের দরজা খুলে যায়। কিন্তু তাদেরকে বলা হয়েছে দরজা ভেঙে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও পুলিশ পৌঁছার আগেই কর্তৃপক্ষ লাশ নামায় বলে তারা জানায়। কিন্তু সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একজন মানুষ ঝুলে থাকার কোন আলমত দেখা যায়নি। আদো রাউধা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ছিল কিনা এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে মডেল কন্যার বাবার। কারণ দরজা আটকে রাউধা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছিল। গলায় ফাঁস দিলে পুলিশ যাওয়ার আগেই কেন লাশ নামানো হলো? দরজা কেন খোলা হলো? দরজার ছিটকানি ভাঙার কোনো নমুনা দেখা যায়নি।

রাজশাহীতে আসার পর ক্যাম্পাসে নিজের মতো করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। সেখান থেকে মনে এমন অনেক প্রশ্ন জেগেছে যার উত্তর পাওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। মহানগর পুলিশের মুখমাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘মালদ্বীপের পুলিশ কর্মকর্তারা লিখিতভাবে কোনো প্রতিবেদন জমা দেননি। তারা কোনো ‘পরামর্শ’ দিতে চাইলে দূতাবাসের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিতে হবে বলে জানান তিনি।

২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩১ মার্চ শুক্রবার লাশের ময়না তদন্ত হয়। পরের দিন মহানগরীর হেতেম খাঁ গোরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি কলেজটির এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তবে একজন উঠতি মডেল হিসেবে তার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ২০১৬ সালের অক্টোবর সংখ্যায় ভারতের বিখ্যাত ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ সাময়িকীর প্রচ্ছদে স্থান পান মালদ্বীপের নীল নয়না এই মডেল।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: