সর্বশেষ আপডেট : ৩২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাণপন চেষ্টায় বাঁধ রক্ষা করতে পারছেন না কৃষক

17353324_1363547567035558_7738384111834593317_n-600x338ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাওরে বোরো ফসল পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে বাধঁ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করে সরকার। কিন্তু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় অসাধু রাজনীতিবিদদের ছোবলে ফসল রক্ষার বাধেঁ অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কৃষকের অভিশাপ আর ক্ষোভে হাওর পাড়ের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে । এমনকি স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে প্রাণপন চেষ্টা করেও পানি থেকে ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষা করতে না পেরে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন কৃষকরা।

বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে তারা দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দাবীর আন্দোলন করছেন। কৃষকদের অভিযোগ অতীতেও বৈরী প্রাকৃতিক পরিবেশে তারা হাওরের ধান তুলতে পেরেছেন। গত কয়েক বছর ধরে হাওর রক্ষা বাধেঁর নামে অসাধুরা বরাদ্দের টাকা হরিলুট করেছে। বাধঁ রক্ষায় যে ব্যয় হওয়ার কথা তার অনেকাংশ হয়নি। এতে পানি রক্ষাকারী বাধঁ কলাপাতা দিয়ে ভানের পানি আটকানোর চেষ্টা করেছে।

সিলেট বিভাগের প্রত্যক জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোমবার বাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন হাওর তলিয়ে গেছে। কোন কোন জায়গায় নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিনরাত ওড়া-কোদাল নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন হাওর পাড়ের নারী পুরুষ এমনকি কিশোর-কিশোরীরাও স্বেচ্চাশ্রম দিচ্ছেন। হাওর এলাকাকে দুর্গত ঘোষণার দাবী উঠছে বিভিন্ন সুশীল মহল থেকে।
এদিকে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, দক্ষিণ সুরমা জৈন্তাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়ে ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি দোকানপাটে পানি উঠায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পাথর কোয়ারীগুলোও বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিশ্বম্ভরপুরে পাউবোর বাঁধ ভেঙ্গে ৫ হাজার হেক্টরের অধিক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খরচার হাওরে সমস্ত বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাঝে করুণ আহাজারী বিরাজ করছে। কৃষকরা দিশেহারা হয়ে কান্নায় কান্নায় হতাশার মধ্যে পরিবার পরিজনের খাবার ও গো খাদ্যের খাবার নিয়ে মহা-দুশ্চিন্তায় পতিত হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে খরচার হাওরের হরিমনের ভাঙ্গাসহ আরো কয়েকটি পাউবোর বাঁধ ভেঙ্গে সমস্ত বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আঙ্গারুলী সনার হাওরসহ প্রায় ৫২০০ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে। তবে বাস্তবতায় এর পরিমাণ আরো অনেক বেশী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জগন্নাথপুরের সব ক’ টি হাওরের ফসল পানিতে ডুবে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার ভোর থেকে উপজেলার দ্বিতীয় বৃহৎ মইয়ার হাওরে পানি প্রবেশ করছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। গত শনিবার জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলার নলুয়া হাওরের ফসল রক্ষার কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ওই হাওরের ১০ হাজার হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। নলুয়ার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পাশের মইয়ার হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এই হাওরে এবার ৪ হাজার হেক্টর ফসলের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার পিংলার হাওরের ফসল বৃষ্টির পানি আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তাহিরপুরের শনি হাওরের বাঁধগুলো রক্ষায় প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাওর পাড়ের শত শত কৃষক ও সাধারণ জনতা। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর উপজেলার বেশক’টি হাওর তলিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে জেলার বৃহৎ দুটি হাওর শনি ও মাটিয়ান। আর এ দুটি হাওর রক্ষা করার জন্য গত ৩ দিন ধরে হাওর পাড়ের কৃষক ও সর্বস্তরের মানুষ পানির সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়িত। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ রাত পোহালেই ওরা-কোদাল নিয়ে নৌকায় করে রওয়ানা হচ্ছেন হাওরের বাঁধগুলোতে।
দরাই উপজেলার বরাম হাওর, টাঙ্গনির হাওর পানিতে তলিয়ে গেলেও চাপতির হাওর নিয়ে এখনও আশাবাদী কৃষকরা। চাপতির হাওরে চাতল থেকে কলিয়ারকাপন পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁেধ মাটি ফেলছেন কৃষকরা। সোমবার দুপুরে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. জয়াসেন গুপ্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বাঁধ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এছাড়া, একই হাওরের খাকছিড়া বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা চাতল থেকে কলিয়ার কাপনের দিকে ছুটছেন। স্থানীয় জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ জানান, এলাকার লোকজন চাপতির হাওর রক্ষার জন্য দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন।
খরচার হাওর পাড়ের মুক্তিখলা গ্রামের মছিউর রহমান জানান, ২৬ কেদার জমির ধান পানিতে ভেসে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবেন-এ নিয়ে হাওর পাড়ে বসে বসে মাথায় হাত দিয়ে কাঁদছেন। কৃষ্ণনগর গ্রামের কাজল বর্মন জানান, তার একান্নবর্তী পরিবার। এবার ৩৬ কেদার জমি চাষাবাদ করেছিলেন। সর্বনাশা পাউবোর বাঁধ ভেঙ্গে অকালে সমস্ত ফসল তলিয়ে গেছে। এভাবে শত শত কৃষক হাওরের সবুজ ধান যখন বাঁধ ভাঙ্গা পানিতে সাদা হয়ে বাতাসে ঢেউ খেলছে তা দেখে শুধু নিরবে চোখের পানি ফেলছেন। পাউবোর, পিআইসিও ঠিকাদাররা অবহেলা, অনিয়ম দুর্নীতি ও উদাসীনতায় হাওর পাড়ের মানুষ হতবাক। শেষ মুহুর্তে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় কৃষক জনতার স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ রক্ষার ব্যাপারে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাঁধ গুলোর মূল ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় চোখের সামনে ভেঙ্গে যায়। পানি দ্রুত প্রবেশ করায় ক্ষতির পরিমাণ আরো ব্যাপক হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। পাউবোর অনিয়ম দুর্নীতির সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্ত মূলক শান্তির দাবীর পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেবার জন্য এলাকায় কৃষক জনতার দাবী উঠছে।
এছাড়াও ফেঞ্জুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, কুলাউড়া, সিলেট সদর , বিশ্বনাথ , কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমি বাধেঁর দূর্বলতায় পানির নিচে ডুবে গেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: