সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জামালগঞ্জে টানা ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসলী জমি, ঝুকিপূর্ণ রয়েছে ফসল রক্ষা বাঁধ

unnamed (1)জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার টানা ভারী বর্ষণে কৃষকদের সোনালী ফসল ঘরে তুলার স্বপ্ন ধুলিষাৎ হতে চলেছে। এক ফসলী বোর জমির উপর নির্ভরশীল হালির ও পাকনার হাওরের ১ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে হালির হাওরে কচমা, সুন্দরপুর, কেচকিমারা, আলীপুর, ছাতীধরা সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক নামে ছোট হাওরগুলিতে ৪০০ হেক্টর ও পাকনার হাওরের মধ্যে পাকনা, গজারিয়া, বিনাজুরা, মল্লিকপুর, চাগাইয়া, চাওডা, মিনি পাগনা ছোট হাওরগুলির ৫০০ হেক্টর ফসল, ছানুয়া ও ডাকুয়া হাওরের ১০০ হেক্টর ফসল তলিয়ে গেছে।

যার সাড়ে সাত হাজার বিঘা জমিতে প্রায় ৪১৬৬ মেট্রিকটন ধান যার বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। পাগনার হাওরে ৪৭ বছর যাবত কানাইখালী নদী ও গজারিয়া স্লুইস গেইট এলাকা খনন না করায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল অনাবাদি রয়েছে। সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষনে উপজেলায় পাউবোর ১৯ টি অসমাপ্ত ফসল রক্ষা বাঁধ ও ভেরী বাঁধ ধ্বসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পিআইসি ও টিকাদার কমিটির অবহেলায় ২৮ ফেব্রুয়ারী বাঁধ নির্মান কাজের নির্দিষ্ট সময় সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। ফলে হালির হাওরের কালীবাড়ির খাল, আছানপুর ও হরিপুরের মধ্যবর্তী ভেরী বাঁধ, সুচিয়া হইতে কেচকিমারা খাল, হেরারকান্দী বাঁধ, হাওরীয়া আলীপুর হইতে রাঙিয়া নদী ভেরী বাঁধ, ঝালখালী বাঁধ সহ ১৩ টি ও পাগনার হাওরের বগলাখালী, মতিরঢালা, কামধরপুরের খাল, মড়লপুরের ঢালা, ফুলিয়া টানা খাল (দিরাই থানাধীন) পিআইসি, পিটালিয়া বাঁধ, কুরালিয়া খাল রয়েছে অরক্ষিত।

বাঁধগুলির মধ্যে বাঁশ ও বস্তা পুতে না দেওয়ায় অকাল বন্যার ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্খা করছে কৃষকেরা। স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকরা কাজ করছে বাঁধে। টনা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় হারাম হয়েছে কৃষকের ঘুম। জনপ্রতিনিধিরা বাঁধ নির্মাণ কাজের উপর নজর নেই। ভারী বর্ষনে ফসল ক্ষতির ব্যাপারে উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও হাওর বাঁচাও দেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইউসুফ আল আজাদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিধিরা পিআইসিদের জোকসাজুসে কাজ বিলম্ব ও দুর্নীতি করে কৃষক নিধনের পায়তারা করছে। এ বছর আগাম বন্যায় বাঁধ ভেঙ্গে ফসল তলিয়ে গেলে কৃষকদের নিয়ে আন্দোলনে নামব। অতি সত্তর বাঁধ নির্মান কাজ সম্পন্ন না করলে কৃষকরা সংশ্লিষ্ট পিআইসি ও টিকাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করতে বাধ্য হবে।

পিআইসি প্রতিনিধি ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু তালুকদার বলেন, কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছি কিন্তু অর্থ পাই নাই, বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার বলেন, সময় মতো পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফায়েত আহমদ সিদ্দিকী বলেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমান আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। এ বছর আবহওয়া ফসলের প্রতিকুলে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা পিআইসিদের সর্তক করে দিয়েছি, আমরাও তীকè দৃষ্টি রাখছি, অতি সত্তর বাঁধ ও ভেরী বাঁধ নির্মান করার জন্য। অসমাপ্ত কাজগুলোতে আগামীকাল বস্তা পাঠাব, গতকাল শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি শিক্ষা) মহোদয় হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন, আকাল বন্যায় যেন ফসল তলিয়ে না যায় সরকারের পক্ষে সর্বাত্মক সহযোগীতা করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: