সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিউইয়র্ক হিন্দুদের দোল উৎসব ২০১৭ অনুষ্ঠিত

unnamed (11)জ্যামাইকা সংবাদদাতা:: গত ১২ই মার্চ রবিবার ছিল হিন্দুদের দোল পূর্ণিমা দোল উৎসব। নিউইয়র্ক কুইন্সের জ্যামাইকাস্থ গীতা শিক্ষা কেন্দ্র পঞ্চতত্ব গীতাপিঠ তাদের বিদ্যাধাম সেন্টারে মহা ধুমধামে দোল উৎসব পালন করে। দোল উৎসবে রং মেখে হলি খেলাই ছিল প্রধান আকর্ষন।

বিদ্যাধাম সেন্টারের চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ দে গীতা শিক্ষা কেন্দ্র পঞ্চতত্ব গীতাপিঠের সভাপতি দীপক দাস ও সেক্র্রেটারী সমর রায়কে স্কুলের পরিবার ও বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে আয়োজিত উৎসবের প্রসংশা করেছেন। উৎসবকে সাফল্যমন্ডিত করার ভূমিকায় স্কুলের ধর্মীয় প্রধান পরিমল দেবনাথ সহ অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন মিথু দাস, মিন্টু নাখ, রন্জন দে, চন্দন মিত্র, ঝুলন সেন, স্বপন ভট্টাচার্য প্রমুখ। সেন্টারের সেবাপ্রদানকারী পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের পক্ষথেকে গৌরাঙ্গ দাশ, নেপাল মজুমদার ও পুরহিত প্রদীম ভট্টাচার্য সাবইকে রং মেখে মনের অসুর দুর করার হলির আনন্দে অংশগ্রহনের প্রশংসা করেছেন।

উল্লেখ্য, দোল উৎসবে হলি কি? হলিতে রং মাখা হয় কেন? ইহা অনেকেরই জিজ্ঞাসা। উত্তর না জেনে অনেকেই মনগড়া আজগবি এবং কুরুচিপূর্ণ গল্প তৈরী করে থাকেন।
বর্তমান সময়ে কোথাও কোথাও রঙের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বিপরীত লিঙ্গীয় মানুষের মাখামাখি এমনকি শ্রীকৃষ্ণ রাধার হোলি মাখা ছবিগুলো দেখে অনেকেই বলেছেন এর নামই কি হোলি?

unnamed (12)আসলেই হলি খেলা হলো দোল পূর্ণিমার দিনে হলিকা নামক পরম শক্তিশালী দৈত্যের পরাজয় ও আগুনে পুড়ে যাওয়া হলিকার ধংসস্তুপের ছাই মেখে অসুরদের আক্রমন থেকে নিস্তার ও মুক্তির পরম আনন্দ উৎসব।

দৈত্যরাজ হিরণ্যকিশপুর কাহিনি আমরা সকলে জানি। ভক্ত প্রহ্লাদ অসুর বংশে জন্ম নিয়েও পরম ধার্মিক ছিলেন। তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ হোলিকা এই বর পেয়েছিল যে আগুনে তার কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় কাজে শক্তি প্রয়োগ করায় হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলে বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ অগ্নিকুণ্ড থেকেও অক্ষত থেকে যায় আর ক্ষমতার অপব্যবহারে হোলিকার বর নষ্ট হয়ে যায় এবং হোলিকা পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, এই থেকেই হোলি কথাটির উৎপত্তি।
অন্যদিক বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামক অসুরকে বধ করেন। কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর নামক অসুর বধের কথাও আছে।

অঞ্চল ভেদে হোলি বা দোল উদযাপনের ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে সংপৃক্ত লোককথার ভিন্নতা থাকলেও উদযাপনের রীতি এক। বাংলায় আমরা বলি ‘দোলযাত্রা’ আর পশ্চিম ও মধ্যভারতে ‘হোলি’,। কোথাও কোথাও রঙ উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে ।
অন্যায়কারী, অত্যাচারী অসুরদের পতন ও দুর্দশা নিস্তারের সেই হলিকার পুড়ে যাওয়া ছাইমাখা আনন্দ অনুসরন করে প্রতি দোল পূর্ণিমায় এই দিনটি পালান করা হয়। এই অন্যায় শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ কালক্রমে মহাআনন্দে পরিণত হয়।
দোল বা হলি অনুষ্ঠানে নানান রঙের ছাই মেখে মনের অসুরকে বধ করে ইন্দ্রীয় দমনের অভ্যাস বা প্রতিজ্ঞা পালনের এই উৎসব কালক্রমে হিন্দু বা ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক উৎসবে পরিনত হয়। এ যেন হিংসা বিদ্বেষ, জাতি, ধর্ম ও বর্নবাদের উর্ধে উঠার প্রক্রিয়া তথা সভ্যতার উৎসব।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: