সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নবীগঞ্জের ‘মামা হুজুর’কে নিয়ে তোলপাড়, লাশ দাফন

14701231462মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত নবীগঞ্জের মামা হুজুরকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। হরকাতুল জিহাদের আঞ্চলিক কমান্ডার তাইজুল ইসলাম প্রকাশ মামা হুজুরের লাশ গ্রহণে অপারগতা জানিয়েছে তার পরিবার। ২০০৮ সালে মাহমুদ প্রকাশ মামা হুজুর (৪৫) হিসেবে পরিচিত ওই জঙ্গিকে উপজেলার দিনারপুর পাহাড়ি এলাকা থেকে ১০ জন সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশরে সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ নিহত হয় সে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামা হুজুর নবীগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাপুর গ্রামের মৃত মাওলানা আইন উদ্দিনের পুত্র। বন্দুকযুদ্ধকালে পুলিশের উপপরিদর্শক বেলাল হোসেনসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি ককটেল, একটি পাইপগান, ৯ রাউন্ড কার্তুজ ও ৫টি চাপাতি উদ্ধার করে। নিহত তাইজুল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে একাধিকবার জঙ্গি সন্দেহে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে আসার পর থেকেই সে পলাতক ছিল। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করলেও পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহি উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিহত মামা হুজুর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা।

গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কবিরাজ ফরিদ মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে তার নাম উঠে আসে। পুলিশ জানায়, নাশকতার উদ্দেশ্যে মামা হুজুর ও তার দল কুটি এলাকায় জড়ো হয়েছে এমন খবরের ভিত্তিতে অভিযানে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মামা হুজুরের লোকজন পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা শুরু করে। জঙ্গিরা ১৪টির মতো ককটেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মামা হুজুর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১০ সালে উপজেলার দিনারপুর এলাকা থেকে জঙ্গি সম্পৃক্ততায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। অন্ধকার জগৎ থেকে পুত্রকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে তার পিতা স্ট্রোক করে মারা যান। সে এলাকায় একসময় অটোরিকশা (সিএনজি) চালানো ছাড়াও ট্রাভেলস ব্যবসায় জড়িত ছিল। বিভিন্ন কোম্পানির মালামাল বহন করতো। তার মৃত্যুর খবর নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি কসবা উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কবিরাজ ফরিদ মিয়ার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে দায়েরকৃত মামলায় আটক আসামির জবানবন্দিতে কথিত মামা হুজুরের নাম আসে। ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে মামা হুজুরের নির্দেশে হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়ার পর মামলার মোটিভ পাল্টে যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার সন্ধান পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। এ সময় মারমুখী মামা হুজুর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: