সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রার আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)

16933834_1006008909501291_756859278_nমো. সাইদুর রহমান:: এথেন্স আসার কিছুদিন পর জানতে পারলাম জর্জিয়া থেকে তুরস্ক আসার সময় ঠান্ডা আর বরফে অসুস্থ হয়ে আমাদের পরিচিত সুমেল মারা যায়।অন্যদিকে এহসান রশিদ রাজু ভাই সহ আরও কিছু লোক আজারভাইজান চলে গেছে।সেখান থেকে ইরান ঢুকার সময় আজারবাইজান বার্ডার গার্ডের গুলিতে আমাদের পরিচিত সুমন ও জমির নামের দুই বাংলাদেশী সহ চার জন নিহত হয়।রাজু ভাই ভাগ্যক্রমে পরের গেইমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এখনও তিনি আজার ভাইজান আছেন ,মাঝেমধ্যেই আমার সাথে কথা হয় এবং প্রাসয়ই তিনি তাঁদের স্মৃতিচারন করে আফসোস করেন।আমরা সবাই কিছু দিন বিশ্রাম শেষে আপাতত গ্রীসে থাকার সিধান্ত নিলাম।কারণ এই মুহুর্তে সামনের দেশ গুলোর বর্ডার খুবই গরম ছিলো।তাছাড়া আমরাও তখন শারিরিক কিংবা মানসিক কোন ভাবেই আর বাইরোডে গেইম করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।কিন্তু গ্রিসে নতুন মানুষের পক্ষে কাগজ ছাড়া শহরে থাকা খুবই কঠিন।কারণ কাগজ ছাড়া শহরে কোন কাজ পাওয়া যায় না।তাই দুই জন পরে আমরা সাত জন বিভিন্ন ভাগে গ্রামে কাজের খুঁজে চলে যাই।

গ্রামে যাওয়ার পর আমরা যে পরিস্থিতির স্বীকার হই তা ছিলো অকল্পনীয়।কারণ কোন দেশেই প্রবাসিরা এই রকম জীবন যাপন করে না। যাইহোক গ্রীসের গ্রামে অবস্থানরত প্রবাসীদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে ইনশাআল্লাহ্‌ পরবর্তীতে কিছু লেখার চেষ্টা করবো। আমাদের সাত জনের মধ্যে কেউই বেশীদিন গ্রামে থাকতে পারেনি।তিন মাস পরে চারজন জঙ্গলে জঙ্গলে ২০ দিনের গেইম শেষে গ্রিস থেকে মেসিডোনিয়া,সার্বিয়া,হাঙ্গেরী,অস্ট্রিয়া হয়ে ইতালি প্রবেশ করে।এখন কেউ ইতালি,কেউ ফ্রান্স,আবার কেউ স্পেইন স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে।আরো ছয় মাস অপেক্ষা শেষে এক দালালের মাধ্যেমে গ্রিস থেকে সরাসরি ইতালি ফ্লাইট কন্ট্রাকে ইতালি হয়ে ফ্রান্স আসলাম।এখানেই স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছি।অপর দুই জন এখনও গ্রীস আছে। একেঅপরের সঙ্গে সবারই যগাযোগ হয়।সবাই একটি শান্তি ,সুন্দর আর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে ব্যস্ত।কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনে ঘটে যাওয়া সব ভুমিকম্প আর ঘূর্ণিজর কেউ ভুলেনি।ভুলবে না।এ যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরনা।

17006258_1006008896167959_1998798366_nবি. দ্র. আমার এই লেখাটি কাউকে উসসাহিত বা অনুপ্ররনা দেওয়ার জন্য নয়।এটি আমার কিংবা আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ইতিহাস।কেবল একটু শান্তি,ভালো ভাবে বেঁচে থাকার তাগিদ বা পরিবারের স্বপ্ন পুরনের আশায় আমি আমার চোখে দেখা তিন তরুণ কে হারিয়ে যেতে শুনেছি।যাদের লাশটাও পরিবার পায় নি।এ ভাবে কত তরুণ হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আমার কাছে প্রতিনিয়ত অনেকেই ফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে যোগাযোগ করে জানতে চান—-এই দেশে লোক যাচ্ছে…ঐ দেশে যাচ্ছে…। আমি আমার জানার মধ্যে পরামর্শ দেই।দয়া করে কেউ অবৈধ ভাবে বাইরোড কিংবা সমুদ্র পথে রওয়ানা দিবেন না।দালালের কথা প্রথমেই বিশ্বাস না করে যাচাই-বাচাই করুন।নিজে সরাসরি এম্বেসি ফেইস করে ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করুন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: