সর্বশেষ আপডেট : ৩০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক মায়ের আর্তনাদ : ভালবাসার হাতটা বাড়িয়ে দিন

10 march news pic -000ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

প্রতিটি মা-বাবার কাছেই তাদের সন্তানেরা অতি আদরের, হোক না সে অন্ধ, বোবা, কুৎসিত কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। কোনো মা-বাবাই এসব কারণে তাদের সন্তানদের রাতের অন্ধকারে মাটি চাপা দিয়ে আসে না কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে রেখে আত্মগোপন করে না। বরং সুস্থ্য সবল স্বাভাবিক সন্তানদের চাইতেও তাদের প্রতি মমত্ববোধটা আরো বেশি থাকে তাদের। তাইতো অনেকেই সম্পন্ন অবস্থা থেকে গরীব হতে হতে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়া পর্যন্ত এমন সন্তানদের সুস্থ করে তোলার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যান হাসি মুখে। আজ আমরা এমনই একজন শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর কথা পাঠক সমীপে তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি তারই মায়ের জবানীতে যিনি অত্যন্ত মর্মস্পর্শি ভাষায় তার সন্তানের প্রকৃত অবস্থা মানবদরদী মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন।

“ভালবাসার হাতটা বাড়িয়ে দিন” -এই শিরোনামে তিনি লিখেছেন, “আমি একজন শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সন্তানের মা। আমার এই একমাত্র সন্তানটি হাটতে পারে না, বসতে পারে না, দু’হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরতে পারে না, এমনকি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারে না, খেলতে পারে না। পুরো শরীরই তার অচল ও বিকলাঙ্গ। মস্তিষ্ক কাজ করে না বলে সে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তার বয়স ২২ বছর। কিন্তু দেখতে শিশু মত। কারণ অপুষ্টির কারণে তার শারীরিক বৃদ্ধি থেমে গেছে অনেক আগেই।’’

10 march news pic -001‘‘আমার এই ছেলেটির চিকিৎসা করতে যেয়ে জমি-জমা, টাকা-পয়সা এমনকি ভিটা বাড়িটুকু বিক্রি করে আজ আমি নিঃস্ব। পরিবারটি আজ দারিদ্র্যের চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। আমার ছেলেটির শরীর শুকিয়ে এমন হয়েছে যে, ছেলেটির হাড়-মাংস এক হয়ে গেছে। কঙ্কাল সার অসুস্থ্য দেহ নিয়ে পড়ে আছে বিছানায়। আমার এই ছেলেটি যে বয়সে দুরন্ত বালক হয়ে পথ-ঘাট ঘুরে বেড়ানোর কথা, সারাবেলা ছোট্ট বেলা দস্যিপনায় মেতে উঠার কথা, মা মা ডাকে আমাকে অস্থির করে রাখার কথা, আমার চিবুকে আদরের চুমুতে ভরিয়ে দিয়ে আমার মাতৃত্বকে পরিপূণ করার কতা। কিন্তু হায়! আমার এই ছেলেটি এমন অসহায় অবস্থায় শুয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে চারদিকে। দু’চোখে ফুটে উঠেছে তার বেঁচে থাকার আর্তি। শারীরিক নানান জটিলতায় ছেলেটিকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। দীর্ঘ ২২টি বছর বিছানায় শুয়ে শুয়ে তার পৃথিবী সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ছোট্ট একটি ঘরে। আমি মা আমার সুখ স্বাচ্ছন্দ হারিয়ে গেছে এই অসুস্থ্য ছেলেটির জন্য। আমার এই ছেলেটির বোঝা দীর্ঘ ২২টি বছর হলো বয়ে বেড়াচ্ছি। এই ছেলেটির বোঝা টানতে টানতে এখন আমি বড়ই ক্লান্ত, অসুস্থ্য ও অসহায়।’’

‘‘আমি বিশ্বাস করি নিশ্চয় আপনাদের রয়েছে দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত মমত্ববোধ। আপনিও এই অসহায় ছেলেটির কথা পরিবারটির সার্বিক অবস্থা বিবেচনা পূর্বক বাড়িয়ে দিবেন ভালবাসার হাত। যে হাতটি হবে এই পরিবারটির জন্য অত্যন্ত নির্ভরতার হাত। সর্বশেষ আমার আর্তনাদ ওকে বাঁচান, ওর আত্মাকে বাঁচান, ওকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।”
এই অসহায় ছেলেটির মায়ের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা আছে। মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন, সঞ্চয়ী হিসাব নং-৪০২২০১৩৮৪২, ঢাকা ব্যাংক লি: সিরাজগঞ্জ শাখা, সিরাজগঞ্জ। অথবা মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন সঞ্চয়ী, হিসাব নং-২১৪৬৭, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি: সিরাজগঞ্জ শাখা, সিরাজগঞ্জ। বিস্তারিত তথ্যের জন্য মোবাইল ০১৭১৮-৯৯৫৮৪৬ (বিকাশ একাউন্ট করা আছে)।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: