সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ বিশ্ব নারী দিবস : নারী-পুরুষ সমতায় বদলে যাবে বিশ্ব

8march2017-pic-004ডেইজী মউদুদ ::
আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতিবছর আমরা দিবসটি পালন করি অনেক ঘটা করে। কয়েক দশক ধরেই পালন করছি। আমাদের অসচেতন নারী সমাজকে তাদের ন্যায্য অধিকার এবং তাদের প্রাপ্য মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই এই দিবস পালনের অন্যতম লক্ষ্য। আর নারীদের এই সমান অধিকারপ্রাপ্তির পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এক সাহসী ও সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ আমেরিকার এক সুতা কারখানায় মজুরি বৈষম্যের প্রতিবাদে নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসলে তাদের রক্তে সেদিন রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের এই রক্তাক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইতিহাসে নারী দিবসের সূচনা হয়। দিবসটির উদ্যোক্তা জাতিসংঘ। জাতিসংঘ বিশ্বে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আর দিবসটি পালনের জন্য আহবানকারী নারী হলেন জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিন। তিনি ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম নারী সমাবেশ। ওই সমাবেশে নারীরা প্রথম তাদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলেন। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় বিশ্ব নারী সম্মেলন। বিশ্বর ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সম্মেলনে ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে। এর ধারাবহিকতায় ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়েই ৮ মার্চ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন স্লোগানে জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী নারী সমাজকে বিশ্বনারী দিবস পালনের আহবান জানায়। এ বছরের স্লোগান হলো ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’।

বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। যেমন : আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া গিনি-বিসাউ, ইরিত্রিয়া কাজাখাস্তান, কিরগিজিস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাম্বিয়া।
এছাড়া ও, চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালে শুধুমাত্র নারীরাই সরকারি ছুটি হিসেবে নারী দিবসে ছুটি ভোগ করেন।

আজ নারী দিবসে লিখতে গিয়ে বার বার প্রশ্ন জাগছে, প্রতিবছরে আমরা বিশ্বনারী দিবস পালন করি ঠিকই, বিশ্ব নারী দিবসে আমরা আসলেই কি পেয়েছি ? আমাদের দেশের আনাচে কানাচে প্রতিনিয়ত যে নারীরা খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও হামলার শিকার হচ্ছেন তাদের জন্য বিশ্ব নারী দিবস কি বার্তা বয়ে আনছে ? একটু পেছনে তাকালে আমরা দেখি, সেই কতো আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নীহার বানু হত্যা থেকে শুরু করে, সালেহা হত্যা, শারমীন রীমা হত্যা, তিতাস পাড়ে শিশু সুমী হত্যার ঘটনা ছিল দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। এরপর দিনাজপুরের ইয়াসমিন, ঢাকার ফাহিমা, মহিমা, শাজনীন হত্যা, রাউজানের পুলিশ হেফাজতে সীমা ধর্ষণ পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনা ছাড়া ও প্রতিনিয়ত নারী ও শিশুহত্যার ঘটনার ঘটনা ঘটে চলেছে। অতি সম্প্রতি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্রী ইতি চাকমাকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে।

কক্সবাজারে নাহিদা আক্তার নামে এক ছাত্রীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে জাহেদুল ইসলাম নামে এক বখাটে। কারণ সে নাকি ওই দুর্বৃত্তের ‘প্রেমের প্রস্তাবে’ সাড়া দেয়নি। এছাড়া ও পুলিশ অফিসারের স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এখনো কোনো কূলকিনারা আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। আর সিলেটের খাদিজা তো ঘাতক বদরুলের দায়ের কোপে মরতে মরতে বেঁচে যায়। বিধাতার কৃপায় সে ফিরে আসলো মৃত্যুর দুয়ার থেকে। খুন ও হত্যার ঘটনা ছাড়া ও দেশব্যাপী বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে রয়েছে যৌন হয়রানির অভিযোগ। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে, কোথায় আজ নিরাপদ নারী ? জন্মের আগেই কন্যাশিশুর ভ্রূণকে হত্যা করা হয়। জন্মের পর মেয়ে জন্ম দেয়ার অভিযোগে মাকে তালাক দেয়ার ঘটনা তো ঘটছে হরহামেশা। এমনকি কন্যাশিশুকে মেরে ফেলাও হচ্ছে। নতুবা অনাদরে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠছে সে। অন্যদিকে পারিবারিক নির্যাতন, স্বামী ও শ্বশুরপক্ষের আত্মীয়দের হাতে খুন এগুলো তো কোনো বিষয়ই না। পথেঘাটে বখাটেদের হাতে ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ চলছে তো চলছেই। কক্সবাজারে বখাটের আক্রমণের শিকার নাহিদা আকতার, খাগড়াছড়িতে খুন হওয়া ইতি চাকমা আর প্রতিনিয়ত খুন ধর্ষণের শিকার আদিবাসী, বাঙালি, পাহাড়ি, সমতলবাসী, সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু সকল নারীর কাছে যেদিন সমঅধিকারের বার্তা পৌঁছাবে, সেদিন আর কত দূরে জানি না। সেইসঙ্গে দেশের প্রতিটি পুরুষ কবে নারী-পুরুষ সকলের অধিকার নিয়ে সচেতন হবে, নিজের পুরুষতন্ত্রের খোলস ছিঁড়ে মানুষ হয়ে উঠবে জানি না। কবে ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র হননে ব্যস্ত না হয়ে সম্মিলিতভাবে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হবে জানি না। ১৯১০ সালে ক্লারা জেটকিন যে নারী দিবস ঘোষণা করেছিলেন, জানি না আর কত শতাব্দী পরে তা সমানাধিকারের, বৈষম্যহীনতার আলোয় সার্থক হবে, উজ্জ্বল হবে। এই লড়াইয়ে শুধু নারী নয়, সামিল আছেন সকল বিবেকবান পুরুষ। নারীর মুক্তি, নারীর অধিকার মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত হোক নারীর অধিকার, প্রতিষ্ঠিত হোক সকল নাগরিকের মানবিক অধিকার। বৈষম্যহীন বিশ্বের পথে সফল হোক নারীর অগ্রযাত্রা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: