সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিএনপিতে ফিরছেন সংস্কারপন্থিরা

1488510787নিউজ ডেস্ক:: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংস্কারপন্থি বলে পরিচিত নেতাদের পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে বিএনপিতে। ইতিমধ্যে দুই নেতা ফিরেছেন। আরো অন্তত ৩০-৩৫ জন ফিরতে চেয়ে যোগাযোগ করছেন। তাদের কয়েকজনকে সহসা ঠাঁই দেয়া হবে দলে। তবে এক দশক ধরে দলের বাইরে থাকা যেসব সংস্কারপন্থি বিএনপির ‘প্রতিপক্ষ’ হওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের জন্য বন্ধ দরোজা আপাতত খুলছে না বলে জানিয়েছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন সিনিয়র নেতা। তিনি জানান, সংস্কারপন্থিদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছেন দলের হাইকমান্ড। যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং দলের ফেরার জন্য অব্যাহতভাবে যোগাযোগ করে আসছেন তাদেরকে ফেরার সবুজ সংকেত মিলেছে। এজন্য তাদেরকে এক প্রকার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চেয়ে ফিরতে হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত অন্যদেরকেও ডাকা হবে। ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

জানা যায়, কয়েকটি কারণে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে সংস্কারপন্থিদের। অন্যতম কারণ হলো-বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য মাঠ জরিপ চলছে নানাভাবে। সংস্কারপন্থি অন্তত ৩০ জন নেতার আসনে বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী নেই। মাঠ জরিপে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী তালিকায় সংস্কারপন্থি বেশ কয়েকজন নেতা এগিয়ে রয়েছেন। দশ বছর ক্ষমতার বাইরে প্রতিকুলতা পরিস্থিতিতে থাকা বিএনপিতে বহু নির্বাচনী এলাকায় বিকল্প শক্তিশালী এবং প্রতিপক্ষ দলকে মোকাবিলা করার মত নেতা এবং প্রার্থী তৈরি হয়নি। ফলে সংস্কারপন্থি নেতাদের ক্ষমা করে দলে নেয়া হচ্ছে।

দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনের হিসাব নিকাশ বড় জটিল। সামনে চেয়ারপার্সনের মামলার রায় হবে, সিনিয়র অনেক নেতার মামলার রায় হবে। তাদের সাজা হলে বর্তমান পরিস্থিতি আর থাকবে না। আন্দোলন হবে। দল ভাঙ্গার চেষ্টা হবে।

নির্বাচনের আগে বিএনপির একটি অংশকে নিয়ে আলাদা ‘প্লাটফর্মে’ দাঁড় করানোর গুজব অনেকদিনের। সেখানে দলের বাইরে থাকা সংস্কারপন্থিদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন সাবেক সংসদ সদস্যকে টার্গেটে নেওয়া হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকজন সংস্কারপন্থি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে এমন বার্তা খালেদা জিয়ার কানে যায়। এরপর ভবিষ্যতে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে না- এমন অঙ্গীকার নিয়ে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয় সংস্কারপন্থিদের। সংস্কারপন্থি নেতা ও নিস্ক্রিয়দের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করানোর জন্য মহাসচিবসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে দায়িত্ব দেন। বিএনপি হাইকমান্ড সরকারকে কোন ‘সুযোগ’ দিতে চান না। এছাড়া সামনে নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আন্দোলনের যে পরিকল্পনা চলছে তাতে কেন্দ্র থেকে শুরু করে অঙ্গ সংগঠনগুলো ও তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ, চাঙ্গা এবং শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাংগঠনিক ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন বেগম জিয়া।

বেগম জিয়া নেতাদের বলেছেন, সামনে নির্বাচন ঘিরে সরকার নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে। তাই আমি আর কোনো ভেদাভেদ দেখতে চাই না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের ভেতর বিভেদের সুযোগ দেয়া যাবে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন এবং সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দলে ফিরেছেন। তারা অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে আর ভুল হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন। তারা দুইজন বলেছেন, ভবিষ্যতে ভুল করব না। রাজনীতিতে একই ভুল বার বার হয় না। খালেদা জিয়া তাদেরকে দলে সক্রিয় হতে নির্দেশ দেয়ার পর তার খুবই খুশি।

দলের একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, অতীতের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ভুল না করার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই নেতাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিরা এ ধরনের অঙ্গীকার করলে এবং দলের হাইকমান্ড আশ্বস্ত হলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত যে, ১/১১-এর সময়ে দলের সে সময়কার মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ১১০ জন সংসদ সদস্য সংস্কার পন্থার পথ নেয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে সংস্কারপন্থি বিএনপি গঠন করে। এর পর চলতে থাকে সংস্কারপন্থি বিএনপি ও খালেদাপন্থি বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বিএনপির বেশ কজন সিনিয়র নেতা কারাবন্দী থাকায় এক পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে সংস্কারপন্থিরা। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া জেল থেকে মুক্ত হলে এবং তারেক রহমান চিকিত্সার জন্য লন্ডন চলে গেলে সংস্কারপন্থি নেতাদের তত্পরতা আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে যায়। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংস্কারপন্থি বিএনপির বেশ কজন নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে দলে ফিরে আসে। মান্নান ভুঁইয়াসহ কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে। অনেক সংস্কারপন্থি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এ সব নেতার অনেকেই নানা সময়ে বিএনপিতে ফিরলেও এখনো ৫০ জনের বেশি দলের বাইরে রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ স্থানীয় পর্যায়ে এখনো তুমুল জনপ্রিয়। এসব নেতা গত এক দশকে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যাননি। বিএনপি চেয়ারপারসনের পরামর্শে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও দলের সংস্কারপন্থি সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতাদের নিয়ে মির্জা ফখরুল বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে সরকারের কোনো লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ‘একতরফা’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়। পরামর্শ অনুযায়ী সংস্কারপন্থি কোনো নেতাই ওই নির্বাচনে অংশ নেননি। অবশ্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে সংস্কারপন্থি নেতাদের কোনো পদ-পদবি না দেওয়ায় তারা হতাশ ছিলেন। এখনো বিএনপিতে ঠাঁই হয়নি এমন সংস্কারপন্থি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন: চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম, মেজর জেনারেল জেড এ খান (অব.), দলের সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আশরাফ হোসেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আনোয়ারুল কবির তালুকদার, শাহ মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, সাবেক হুইপ ও পিরোজপুর জেলার সাবেক সভাপতি সৈয়দ শহীদুল হক জামাল, সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, সাবেক এমপি ও সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি নজির হোসেন, চাঁদপুর জেলার সাবেক সভাপতি এস এ সুলতান টিটু, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান, বরগুনার সাবেক জেলা সভাপতি নূরুল ইসলাম মনি, সাবেক এমপি শামীম কায়সার লিঙ্কন, বগুড়ার সাবেক এমপি ডা. জিয়াউল হক মোল্লা ও জি এম সিরাজ, সাবেক এমপি এম এম শাহীন, সাবেক হুইপ খলিলুর রহমান, সাবেক এমপি আবদুল করীম আব্বাসী, সাবেক এমপি শাম্মী শের, সাবেক এমপি আবদুল গনি, সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন দুলু, আতাউর রহমান খান আঙগুর, মনি স্বপন দেওয়ান, ডা. সালেক চৌধুরী, দিলদার হোসেন সেলিম, অধ্যাপক মো. ইউনূস, আবদুল মতিন, অ্যাডভোকেট আবু রেজা ফজলুল হক, আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী, ডা. মো. সানাউল্লাহ প্রমুখ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: