সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ ও কিছু কথা

20170117214100মো. ইউনুস আলী মিয়া ::
বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস অনেক প্রাচীন। বাংলাদেশ পুলিশ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। পাক সেনারা ২৫ মার্চ কালরাত্রীতে যখন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স আক্রমণ করে তখন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা পাক সেনাদের সর্বপ্রথম প্রতিরোধ করে। পাক সেনাদের আক্রমণে অনেক পুলিশ সদস্য তখন শহীদ হয়। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে একটি গৌরবময় উজ্জল ভূমিকা। বাংলাদেশ পুলিশের অনেক সদস্য দেশপ্রেম ও দেশাত্ববোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন। যার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বাংলাদেশ পুলিশকে ২০১১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেন।

পুলিশ বাংলাদেশ সরকারের এমন একটি বাহিনী, যে বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ ও উদঘাটনের দায়িত্ব প্রাপ্ত এবং পুলিশ ফৌজদারী অপরাধ বিচার ব্যবস্থার (Criminal Justice System) অন্যতম একটি প্রধান অঙ্গ। অপরাধ বিষয়ক কর্মকান্ডের পাশাপাশি পুলিশ অনেক সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম করে থাকে। সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দাম্পত্য কলহ নিস্পন্ন ও বিবাহ বিচ্ছেদ প্রতিরোধ, পারিবারিক দ্বন্ধ নিরসন, জমি সংক্রান্ত দ্বন্ধ নিরসন, দলের মধ্যকার দ্বন্ধ নিরসন, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির অনুসন্ধান, অসহায় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা প্রদান, জননিরাপত্তা প্রদান, দেওয়ানী বিষয়াদী নিস্পত্তি, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকার নিরাপত্তা বিধান, মিছিল সমাবেশ নিয়ন্ত্রন ইত্যাদি।

দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে অনেক সময় পুলিশ কর্র্তৃক শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি অনেক সময় বিতর্কের সৃষ্টি করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক শক্তির কঠোরতা কখনো জনগণের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনে পুলিশের শক্তি প্রয়োগ অতি সম্ভব বাড়াবাড়ী হলে তা পুলিশের ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কুখ্যাত অপরাধী বা সন্ত্রাসীদের প্রতি পুলিশের কঠোরতা কিংবা শক্তির প্রয়োগে জনগণ অনেক খুশি হয়ে থাকে। ব্যাপক শক্তি ছদ্মবেশী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের শক্তি প্রয়োগে জনগণ অনেক খুশি হয়। পুলিশের শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিতে বিভিন্ন জনগণের বিভিন্ন মতামত থাকে। আমরা জানি ২০১২ ও ২০১৩ সালে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অবৈধ কর্মসূচিতে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ, বোমাবাজি করে দেশের ব্যাপক ক্ষতি ও জননিরাপত্তার বিঘœ ঘটায় এবং মানুষ হত্যা করা হয়। ওই সময় পুলিশ জননিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য শক্তি প্রয়োগ করে দেশের জননিরাপত্তা বিধান করে। এতে পুলিশের ২১ জন সদস্য নিহত হয় এবং অনেক সদস্য পঙ্গুত্ব বরণ করে। উক্ত কর্মকান্ডে পুলিশ চরম ধৈর্য, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং আইনসম্মতভাবেই পেশাদারিত্বের মধ্যেই কাজ করেছে যা দেশের জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে।

দেশের জঙ্গিবাদ দমনে (Curbing Militancy) পুলিশ জীবনবাজি রেখে নিষ্ঠার সাথে অভিযান পরিচালনা করছে। অতি সম্প্রতি গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারী ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ্ মাঠে নামাজ আদায় করার সময় যে জঙ্গি আক্রমণ হয় পুলিশ নিজের জীবন দিয়ে সেই আক্রমণকে প্রতিহত করে জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে। উল্লেখিত ঘটনায় পুলিশের দুইজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন কনস্টেবল নিহত হন। তা ছাড়াও ঢাকা মহানগরের মিরপুর, জাহাজ বিল্ডিং এবং দক্ষিনখানের একটি বাসাবাড়িতে পুলিশ দক্ষতার সাথে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে সফলতার সাথে গ্রেপ্তার করে। জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যা সর্ব মহলে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং কুখ্যাত অরাধীদের গ্রেপ্তারসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা অত্যন্ত গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করে। যে কোন জাতীয় দুর্যোগে পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ চরম ধৈর্য, নিষ্ঠা, দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়েই তা মোকাবেলা করেন। কর্তব্য পালন কালে প্রতি আক্রমণে অনেক পুলিশ সদস্য নিহত হয়। কর্তব্য পালন কালে পুলিশ আত্মত্যাগের যে মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তা গোটা পুলিশ বাহিনীকে গৌরবান্বিত করে। বাংলাদেশ পুলিশ নিহত সদস্যদের কাছে চিরঋণী। তাই বাংলাদেশ পুলিশ মনে করে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত সদস্যদের অবদানকে স্মরণ করার মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বিশ্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা এবং পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে একটি দিনকে নির্বাচন করে তাদের অবদানকে স্মরণ করে। বাংলাদেশও অনুরুপ দিবস পালনের জন্য পুলিশের পলিসি গ্রুপ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে পুলিশের পলিসি গ্রুপের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর ১ মার্চ পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালন করা হবে। তাই আসুন আমরা সবাই কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি যাতে একটু হলেও নিহত পুলিশ সদস্যদের আত্মা শান্তি পায় এবং শোকগ্রস্ত পুলিশ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আমরাও সমব্যথী হই।

মো. ইউনুস আলী মিয়া : সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর), জামালপুর।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: