সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রার আত্মকাহিনী (পর্ব ৫)

16933834_1006008909501291_756859278_nমো. সাইদুর রহমান:: দুই দিন পর আমাদের সাথে এসে যোগ দিলেন উমান ও ইরাক থেকে আসা আরো চার জন। উমান এবং ইরাক থেকে মুলত ইরান হয়েই তুরষ্ক ঢুকতে হয়।উমান থেকে ইরান আসতে হয় দীর্ঘ সমুদ্র পারি দিয়ে আর ইরাক থেকে ইরান পায়ে হেঁটে।ইরাক থেকে আসা ভাইদের কাছ থেকে শুনলাম যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইরাকে বাংলাদেশী প্রবাসীদের জীবনের সকল অনিশ্চয়তার গল্প।তাঁদের একদিনের বিশ্রাম শেষে আমরা নয় জন রওয়ানা দেই গ্রিসের উদ্দেশ্যে গেইম করার জন্য। পাকিস্তানী দালালের সাথে আমাদের চুক্তি হলো-আমরা ৯জন এক বোটে যাবো এবং আমরা সবাই বাংলাদেশী।সে বললো টাকা বেশী লাগবে,আমরা রাজি হলাম।

চুক্তি অনুযায়ী বাস ও ট্যাক্সির মাধ্যেমে সমুদ্রের নিকঠবর্তী একটি জঙ্গল বাড়ীতে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো।সেখানে আরও বিশ জনের মতো পাকিস্তানী গেইমের জন্য অপেক্ষা করতেছে।আমাদের ছোট একটি ঘর দেখিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বললো। সন্ধ্যার দিকে মূল দালাল আসবে,কোন ভাবেই ঘর থেকে বাহিরে যাওয়া যাবে না।পরিত্যক্ত বাড়ি হওয়াতে এমনিতেই পচা গন্ধ,তার উপর ঘরের মধ্যে খোলা বাথরুম ৩০ জন ব্যবহার করলে যা হয়।কি আর করা…।

ইরানের ভেড়ার ঘরের মতো একই অবস্থা। সন্ধ্যার দিকে দালাল আসলে অনেক লম্বা কথা হলো।আগামী তিন দিন কোন গেইম করা যাবে না।আবহাওয়া খুবই খারাপ।যেকোন সময় দূর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে।আমাদের এখানেই অবস্থান করতে হবে।স্কয়ার আট ফুটের একটি ঘরে নয় জন মানুষ থাকতে হবে তাও ঘর থেকে বাহির হওয়া যাবে না।আর খাওয়া-দাওয়ার আবস্থা ছিলো অবর্ননীয়।যাইহোক কষ্ট করে তিনদিন অতিক্রম করলাম।দালাল প্রতিদিনই আসে কিন্তু আবহাওয়ার কোন পরির্তন নেই।

17006258_1006008896167959_1998798366_nআবহাওয়া বার্তা বলছে আরও তিন-চার দিন একই অবস্থা।এদিকে আমরা সবাই অসুস্থ।ঠান্নডা,পেঠ খারাপ,সর্দি,জ্বর।আরো চার দিন অর্থাৎ মোট এক সাপ্তাহ পর আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন তাও আবার রাত নয়টার পর সমুদ্র উত্তাল থাকবে।ঠিক হলো আজই গেইম হবে।সে অনুযায়ী সবাই প্রস্তুত। দালাল সহ দুপুর ১২টার দিকে তিনটি ট্যাক্সি করে আমরা ত্রিশ জন সুমুদ্রতীরের দিকে রওয়ানা দিলাম। এখন আর একটি ট্যাক্সিতে দশজন বসতে আমাদের অসুবিধা হয় না। ভ্যানে এক, মধ্যে সাত আর সামনে দুই জন করে। রাস্তায় তুর্কি বর্ডার গার্ড আমাদের গাড়িসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তিন ঘন্টা রাখার পর আমাদের নিকটবর্তী শহরে ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে বলে। আমাদের সঙ্গে দালালও ছিলো। সে বললো আগামী সাপ্তাহ আবহাওয়া আরো বেশী খারাপ। তাই আজই গেইম করতে হবে এবং রাত আটটার মধ্যে। কারন এর পরে সমুদ্র উত্তাল থাকবে।

তাই আমরা আবারও রওয়ানা দিলাম, এবার পাবলিক বাসে করে। নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আবার সবার সাথে দেখা হলো। তারাসহ এখানে একশতর ও বেশী লোক অপেক্ষা করতেছে। সবাই গেইম করবে।এদের মধ্যে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সংখ্যা বেশী। আমরা কজনই ছিলাম কেবল বাংলাদেশী। সন্ধ্যা শুরু হতেই একটার পর একটা বোট যাওয়া শুরু হয়।কেউ যাচ্ছে আবার কাউকে তুরস্কের নেভী আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কোন বোট কিছুদুর যাওয়ার পর ফেটে যাচ্ছে। যাত্রী সবাই সাতার কেটে আবার পারে আসতেছে।আমরা দেখতেছি, সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

এতামধ্যে দালালকে টাকা দেওয়া হয়েছে। আজ যদি আমি মারা যাই তাহলে আমার পরিবার আমার লাশতো দুরের কথা জানতেও পারবেনা আমি কোথায় মারা গেছি।যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাজলা দিদির কথা মনে হলো-লাশও নাই টাকাও নাই কেমন মজা হবে।এলোমেলো সকল চিন্তার মধ্যেই আমাদের সময় চলে আসে।এক সঙ্গে আমরা দুটো বোট যাত্রা শুরু করবো।সমুদ্রে নেমে যখন আমরা বোটে ঊটতে যাবো তখন দালাল বলে বাংলাদেশী সবাই একটাতে যাওয়া যাবে না।ভাগ হয়ে যেতে হবে।আমরা প্রতিবাদ করলে অনেক কথা কাটাকাটি হয়।পরে একরকম অসহায় আর বাধ্য হয়েই আমরা বোটে উটি।নয় জনের জায়গায় তের জন,আমরা একটায় চারজন আরেকটায় পাচজন।দশমিনিট ব্যবধানে আমরা যাত্রা শুরু করি।আমাদের বোটে আমরা বাংলাদেশী চারজন ছিলাম।

১০-১২ মিনিট পর উত্তাল ঢেউ আর প্রবল বাতাসে বোটে পানি ঊটতে শুরু করলে ইঞ্জিল নষ্ট হয়ে যায়।এই অবস্থায় ঢেউ আর বাতাসের সাথে শুরু হয় সংগ্রাম।বৈটা ছিলো চারতা।দুইটা আমাদের কাছে আর দুইটা পাকিস্তানীদের কাছে।পাকিস্তানিরা বৈটা কিভাবে ধরতে হয় তা-ই জানে না বাওয়া ত দুরের কথা।আবার আমাদের কাছেও দিবে না।একটু পর পর এই সমুদ্রের মধ্যেই শুরু করে ঝগড়া।সবাই যে যার মতো করে বোট থেকে পানি বাহিরে ফেলার চেষ্টা করতেছে।দীর্ঘ দুই ঘন্টা ত্রিশ মিনিট ঢেউ আর বাতাসের সাথে যুদ্ধ করে আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌছালাম।সেখান থেকে জাতিসঙ্গের কিছু কর্মী আমাদের উদ্ধার করে একটি ক্যাম্পে নিয়ে যায়।আমাদের থাকা,খাওয়া আর গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করে।সেখানে জাতিসঙ্গের নিয়ন্ত্রাদিন ক্যাম্পে তিন দিন থাকার পর তাঁরা আমাদের একমাসের একটি কাগজ দেয় যেটা দিয়ে আমরা পুরো গ্রিস ঘুরতে পারবো।কিন্তু এক মাসের মধ্যে আমাদের গ্রিস ত্যাগ করতে হবে এই শর্তে।এই কাগজের মাধ্যেমে আমরা জাহাজের টিকেট করে এথেন্স আসি।

চলবে…

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: