সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রার আত্মকাহিনী (পর্ব ৪)

16808805_998874153548100_144247305_nমো. সাইদুর রহমান:: দেশে জানালাম টাকা পেমেন্ট করার জন্য।এখানে আরও কয়জনের সাথে কথা হলো,তারা ১০দিন থেকে এখানে আছে -তাঁদের গেইমে তাঁদের সাথে আসা ৫জনের কোন খোঁজ তাঁরা পাচ্ছে না। দালাল বলতেছে সে জানে না,অথচ তাঁরা একসাথেই গেইম শুরু করেছিলো। আমাদের টাকা পেমেন্ট হলে তুরষ্কের দালাল আমাদের ইস্তাম্ভুলের বাসে তুলে দেয়। ইতিমধ্যে কয়েকবার বাংলাদেশী দালালের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়। তার ভাইয়ের কাছেই মুলত পেমেন্ট করা হয়। পেমেন্টের সময় আমাদের একজনের ছোট ভাই সেটা ভিডিও করেও রাখে।

৩০মিনিটের কথা বলে ১২ ঘন্টা হাঠানোর পরও সে আমাদের কাছে অতিরিক্ত ২০০ ডলার করে দাবী করে। সেভরুমের অবস্থা দেখে আমরা বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে দেই। ১২০০ ডলার করে পেমেন্ট করার পর যখন আমরা গাড়িতে উটি তখন সবাই খুবই ক্লান্ত। ক্ষুধার্ত আর চার দিন যাবত ঘুম নেই। গাড়িতে উঠার ঘন্টা দুয়েক পর আমাদের কাছে বাংলাদেশী দালাল আবার ফোন দেয়। সে আবার ও আমাদের কাছে ৬০হাজার করে টাকা দাবী করে। টাকা না দিলে সে নাকি আমাদের তুলে নিয়ে মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দিবে বলে হুমকি দেয়। গাড়িতে থাকা তার লোক আমাদের সাথে এসে কথা বলে দ্রুত টাকা দিয়ে দেওয়ার জন্য বলে,না হলে সমস্যা হবে।

এমতাবস্থায় ইস্তম্ভুলে থাকা আমাদের লোকের সাথে আমরা যোগাযোগ করে সব কথা বলি। তিনি গাড়ির ড্রাইভারের সাথে কথা বলে আমাদের নিরাপদে ইস্তাম্ভল পৌছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ড্রাইভার ও আমাদের নির্ভয় দেন। পথিমধ্যে ঐ লোক কয়েকবার আমাদের নানা রকম হুমকি দেয়। আর দালালের ফোন তো আছেই। ইস্তাম্ভুল পৌছার পর সেখানে অস্থানরথ ভাই আমাদের রিসিভ করেন।টার্মিনালে ঐ লোকের সাথে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটির পর তিনি আমাদের নিয়ে আসেন। অন্য দিকে বাংলাদেশের দালাল আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

16780102_998874150214767_466505187_n২৪ঘন্টা বাস জার্নি শেষে আমরা তুরষ্কের সীমান্তবর্তী গ্রাম থেকে ইস্তাম্মভুল আসি। পাঁচ দিন পর গোসল, খাওয়া, বিছানা। রুমে দেখা হলো ১ম গ্রুপে সরাসরি জর্জিয়া থেকে তুরষ্ক আসা তিন জনের সাথে।খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম শেষে একে অন্যের এডভেঞ্জার শুনা।১সপ্তাহ বিশ্রাম শেষে তুরষ্ক থেকে গ্রিস অভিমুখে সমুদ্র যাত্রার প্রস্তুতি। এদিকে জর্জিয়ায় থাকা এহসান রশিদ রাজু ভাই সিদ্ধান্ত নিলেন আজারভাইজান থেকে রাশিয়া হয়ে নরওয়ে বা সুইডেন ঢুকার।অন্যদিকে জর্জিয়া থেকে সরাসরি তুরস্ক আসা ১ম তিন জনের একজন সিদ্ধান্ত নেয় তুরষ্কে থেকে যাওয়ার।আর অপর দুই জন ইতিমধ্যে গ্রিসের উদ্দেশ্য একটি গেইম করে ফেলেছে।কিন্তু তাঁরা পৌছাতে পারেনি।তাদের প্রথমে ট্যাক্সি করে সমুদ্রের নিকটবর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়।

সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে অত্যন্ত গোপনীয় ভাবে সমুদ্রতীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁরা একটি পাহাড়ে ঝুপের আড়ালে অবস্থান নেয়। পাহাড় থেকেই গ্রীস সীমান্তের ভীতরে অবস্থিত দ্বীপ দেখা যাচ্ছিলো। স্বাভাবিক কারণে এখানে গ্রীস এবং তুরস্ক বর্ডার গার্ড ও নেভীর টহল ছিলো খুবই বেশী। এই টহলের মধ্যেই সুযোগ করে প্লাস্টিকের বেলুনে তৈরি স্পিড বোডে তুলে দেয়া হবে।যারা যাবে তাঁদের মধ্যে থেকেই একজন ড্রাইভ করবে।আট জনের ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন বোটে ১৩ জন তুলে দেয়।তারা রওয়ানা দেওয়ার সময় কেবল পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই সাথে নিতে দেওয়া হয়নি।একটি লালবাতিকে লক্ষ্যে করে দ্বীপে গিয়ে পৌছাতে হবে।বোটে ছিলো তাঁরা দুইজনই কেবল বাংলাদেশি।বাকিরা আফগানী ও পাকিস্তানি।

কিন্তু দুর্ভাগ্য… কিছু দূর যাওয়ার পর ডেউয়ের পানিতে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। সমুদ্রের মধ্যেই পাকিস্তানী এবং আফগানীরা ঝগড়া করে দালালের দেওয়া বৈটা সমুদ্রে ফেলে দেয়।একদিকে ইঞ্জিন নষ্ট অপরদিকে বৈটা নেই।সমুদ্রের মধ্যে বাতাস আর ঢেউয়ের প্রবল ঝাঁপটায় তাঁদের সবার দিশেহারা অবস্থা।ঢেউ,বাতাস আর বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা মোবাইলের ও কোন সংযোগ পাচ্ছিলো না। প্রবল ঢেউ,বাতাস আর বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা কেবল আল্লাহ আল্লহ করছিলো। এ ছাড়া তাঁদের কোন উপায় ছিলো না।দীর্ঘ ৬ঘণ্টা বাতাস আর ঢেউ তাঁদের বোটকে ছোট একটি দ্বীপে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁরা তুরষ্কের নেভীর সাথে অনেক চেষ্টার পর যোগাযোগ করে হেল্প চায়। ঠান্ডা,বাতাস আর বৃষ্টিতে তাঁদের অবস্থা ছিলো করূন। এই ভাবে সেখানে আরো চার ঘন্টা থাকার পর সকাল ৮ টার দিকে তুর্কি নেভী তাঁদের উদ্ধার করে। সেখানে তাঁরা তাঁদের পরিচয় রোহিঙ্গা বলে। একদিন জেলে রাখার পর বর্ডার গার্ড তাঁদের নিকটবর্তী শহরে ছেড়ে ফিরে যেতে বলে। সেখান থেকেই তাঁরা আবার ইস্তাম্ভুল চলে আসে। তাদের কাছ থেকে এই ভয়াবহ বিবরণ শোনার পর আমরা তো শংকিত।কি করবো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।

কিন্তু ফিরে আশা দুই জন আলি এবং নাজিম ভাইয়ের উসসাহে আমরা গেইমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তারাও আমাদের সঙ্গে যাবে। সবাই পরামর্শ করে ঠিক করলাম আমরা শুধু বাংলাদেশীরা একটা গেইম করবো এবং আমরা বোটে নয়জনের বেশী উঠবো না।সেই অনুযায়ী আমরা দালালের সাথে কথা বলি। কিন্তু আমরা বাংলাদেশী ছিলাম পাচজন।এইজন্য আমরা আরো চারজনের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: