সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বেলজিয়ামে ছেলের জঙ্গি হওয়ার গল্প বললেন মা

full_1756491401_1487085741নিউজ ডেস্ক:: মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে শর্ত বেলজিয়ামে মানা হয়, তার অপব্যবহার করত ওই লোকগুলো। তারা অন্য ধর্মের নামে বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলত। সাবরিকে সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য উসকানি দিত। তারা সব ঘটনার পেছনেই ষড়যন্ত্র খুঁজত। ঘটনাগুলো কিন্তু পুলিশের সামনেই ঘটছিল। কিন্তু ওই যে মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, তাই পুলিশ কখনো এ ধরনের আলোচনায় হস্তক্ষেপ করেনি।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ২০১৩ সালে সাড়ে ১৮ বছরের ছেলে সাবরি বেন আলীর জঙ্গিতে রূপান্তর এবং শেষ পরিণতির করুণ কাহিনী বর্ণনা করেছেন তার মা সালিহা। তিনি সোসাইটি অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজমের (সেভ) প্রতিষ্ঠাতা।

সালিহা বলেন, ভুল সময়ে ভুল মানুষের খপ্পরে পড়েছিল তার সাড়ে ১৮ বছরের ছেলে সাবরি।

তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত সালিহা বেন আলী বেলজিয়ামের নাগরিক। তিনি বলেন, আমার সাবরি আর দশটা কিশোর তরুণের মতোই স্বাভাবিক ছিল। নিয়মিত স্কুলে যেত। তার মাথায় সারাক্ষণ নানা প্রশ্ন কিলবিল করত। এমন এমন প্রশ্ন, যার উত্তর খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গান ভালোবাসত। খেলাধুলাও করত নিয়মিত। ছবি তুলতেতো খুব ভালোবাসত।

একসময়ে সে স্কুলে বিরতি নিয়ে কাজে যোগ দিতে চাইল। মনে করল, সে কাজ পাবে না, পেলেও যা পাবে তা চাকরবাকরদের কাজ হবে। ভাবল, সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। সুযোগ পেল না। ফাইটার হতে চাইল, সেখানেও সাবরিকে কেউ নিল না। বলল, লেখাপড়া শেষ করে আসতে।

তিনি বলেন, সাবরির মাথায় তখন নানা চিন্তা, নানা প্রশ্ন। যেমন, আমি তিনটি ভাষা জানি, কিন্তু কাজ পাই না। আচ্ছা আমাদের সব সময় নজরদারিতে রাখা হচ্ছে কেন? পুলিশ এত চেক করে কেন? বাসে ওঠার সময় তো বটেই, বান্ধবীকে নিয়ে সিনেমা থেকে ফেরার পথেও। এত কি দেখে ওরা? কিছু শিক্ষক সাম্প্রদায়িক। আমাকে আমার মতো যারা, তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

সাবরির মাথায় ঢুকেছিল যে সারা বিশ্বের মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আরব দেশগুলোর এ অবস্থা। সরকার কী করছে, সাবরি ও তার পরিবারই বা কী করছে?

সালিহা বেন আলী বলছিলেন, তখন থেকেই সে ধর্ম নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু মসজিদের ইমাম তাকে খুব একটা সহযোগিতা করেননি। তিনি ডাচ বা ফ্রেঞ্চ বলতে পারতেন না। এদিকে সাবরি আরবি বোঝে না। এ সময়ই সে ভুল মানুষের খপ্পরে পড়ে যায়। মসজিদের কাছে, খেলার মাঠের কোনায় দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিছু লোক সাবরিকে ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে শুরু করল। তারা ছিলো ডাচ ও ফ্রেঞ্চ ভাষাভাষী।

সালিহা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে শর্ত বেলজিয়ামে মানা হয়, তার অপব্যবহার করত ওই লোকগুলো। তারা অন্য ধর্মের নামে বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলত। সাবরিকে সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য উসকানি দিত। তারা সব ঘটনার পেছনেই ষড়যন্ত্র খুঁজত। ঘটনাগুলো কিন্তু পুলিশের সামনেই ঘটছিল। কিন্তু ওই যে মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, তাই পুলিশ কখনো এ ধরনের আলোচনায় হস্তক্ষেপ করেনি।

একপর্যায়ে সাবরি আর মসজিদে যেত না। বলত, মসজিদে ঠিকভাবে নামাজ পড়ানো হয়না।

সাবরি চলে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে উদ্দেশ করে লিখে, ‘আমাকে মাফ করে দাও, মা। আমি সিরিয়ায় এসেছি।’ সালিহা উপর্যুপরি অনুরোধ করেন ছেলেকে ফিরে আসতে। ছেলে জানায়, এমন অনুরোধ করলে আর কেউ তা দেখে ফেললে সে আর কথা বলার সুযোগ পাবে না। ছেলের জীবন বাঁচাতে থেমে যান সালিহা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তিন মাস পর একটা ফোন আসে। সাবরির বাবাকে অপরিচিত কেউ জিজ্ঞেস করে, আপনি আবু তোরাবের বাবা বলছেন? উত্তরে তিনি বলেন, না আমি সাবরি বেন আলীর বাবা। অচেনা কণ্ঠস্বর জানায়, এইমাত্র আপনার ছেলে মারা গেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: