সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাফলং-লালাখাল-বিছনাকান্দিতে একযুগে অর্ধশত পর্যটকের মৃত্যু !

1. daily sylhet 0-7এম,এ আহাদ:: আনন্দভ্রমণে গিয়ে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রকৃতি প্রেমিদের মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। নতুন করে যোগ হয়েছে মেডিকেল শিক্ষার্থীর আরো দুটি লাশ। সাঁতার না জেনে নদীতে গোসল করতে নামলে মৃত্যু হয় তাদের। এ নিয়ে গত একযুগে অর্ধশত পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে প্রকৃতি কন্যা জাফলং, বিছনাকান্দি ও লালাখালে।

কেন একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে? আর বন্ধই বা করা যাচ্ছেনা কেন? এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সর্বত্র। উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে ডেইলি সিলেট।

প্রথমেই আসা যাক গতকাল মঙ্গলবারের দুর্ঘটনায়। কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের ৫ শিক্ষার্থী ঘুরতে যায় নীল পানির লালাখাল নদীতে। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে পড়তে আসা ভারতের দু’জন শিক্ষার্থী।

লালাখাল ঘুরতে যাবেন কিন্তু ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা লালাখাল নদীর স্বচ্ছ পানিতে গা ভাসিয়ে সময় পার করবেনা এমন লোক খুব কমই আছে। এই মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও নীল পানির লোভ সামলাতে না পেরে নেমে যায় নদীতে। কিন্তু সাঁতার জানতোনা কেউই। পরিণতি মৃত্যু!

ঘটনার সূত্রপাত এভাবে, প্রথমে সাঁতার না জানা একজন পানিতে নেমে ডুবে যাচ্ছিল। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যায় আরেকজন। কিন্তু সেও জানতোনা সাঁতার! আস্তে আস্তে পানিতে ডুবে যায় তারা। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে তাদের। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ! মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন মেডিকেল শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ সাঈদ ও ইসহাক ইব্রাহীম। ভাগ্যিস বাকী তিনজন উদ্ধারে এগুয়নি। না হলে সাঁতার না জানায় হয়তোবা তাদেরও প্রাণ যেত বন্ধুদের সাথে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিউল কবির ডেইলি সিলেটকে জানান, সাঁতার না জেনে পানিতে গোসল করতে নামায় ঘটনাটি ঘটেছে।

শুধু লালাখাল নয়, পানিতে ডুবে এমন মৃত্যুর ঘটনা সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অপরহ ঘটছে। বর্ষা মৌসুমে বেড়ে যায় মৃত্যুর সংখ্যা।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত একযুগে শুধুমাত্র জাফলংয়ে মৃত্যু হয়েছে ত্রিশজনের বেশি পর্যটকের। আর বিছনাকান্দি, লালাখালসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র মিলে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত!

দিনদিন পর্যটকদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসন রয়েছে সুখ নিদ্রায়। মাঝে মাঝে পর্যটন পুলিশের দেখা মিললেও দুর্ঘটনা রোধে উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

তবে, প্রতিবছর ঈদ আসলে পর্যটকদের সচেতন করার জন্য মাইকিং, সতর্কবার্তা লেখা কয়েকটি সাইন বোর্ড টানিয়ে দায়মুক্তির ঢেকুর তুলে প্রশাসন।

দুর্ঘনার পর উদ্ধার কাজে দেরি হওয়ায় অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সিলেট থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে চালাতে হয় উদ্ধার কাজ। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়।

সাঁতার না জানলে পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে নদীতে না নামার পরামর্শ দেন সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম। যদি কেউ নামেও তাহলে সাঁতার সামগ্রী যেন পড়ে নামে। আর ডুবুরী সংকটের কারণে উদ্ধার কাজে বাঁধার সৃষ্টি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, মাত্র একজন ডুবুরী দিয়ে গোটা সিলেট কাভার করতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: