সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে ভুমি জালিয়াত চক্রের সদস্য নজরুল দু’ সপ্তাহ ধরে আত্মগোপনে

01.-daily-sylhet-Chhatak-news2ছাতক প্রতিনিধি:: ছাতকে ভুমি জালিয়াত চক্রের সদস্য নজরুল হক দু’ সপ্তাহ ধরে আত্ম গোপনে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভুমি জাল-জালিয়াতির যথেষ্ট প্রমান থাকায় নিজেকে জেল-জরিমানা থেকে বাঁচাতে নজরুল হক এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। নজরুল হক পৌর শহরের বৌলা মহল্লার নুরুল হকের পুত্র।

জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নজরুল হক ও তার ক’জন সহযোগি মিলে ভুমি জাল-জালিয়াতির কাজ করে আসছে। ভুমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন জাল কাগজ-পত্র সৃষ্টি করে প্রকৃত ভুমি মালিকদের হয়রানী ও ভুমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত ছিল এ চক্রটি। দলিলসহ ভুমি বিষয়ের যাবতীয় জাল কাগজ সৃষ্টি করে ভুয়া মালিক সেজে হয়রানী করা ও প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়াই ছিল এ চক্রটির প্রধান কাজ। জাল-জালিয়াতির জন্য এ চক্রটি সহকারী কমিশিনার (ভুমি), তহশীলদার, সাব-রেজিষ্ট্রারসহ ভুমি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ও পদবী সম্বলিত তৈরী করা সিল তাদের সংগ্রহে ছিল।

এছাড়া কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরও তারা জাল করে একাধিক ভুমিসংক্রান্ত কাগজ প্রস্তুত করার অভিযোগও রয়েছে এ চক্রটির বিরুদ্ধে। প্রায় দু’ সপ্তাহ আগে বিষয়টি জানতে পেরে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান পুলিশ বাহিনী নিয়ে জালিয়াত চক্রের প্রধান নজরুল হককে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালান। বিষয়টি অনুমান করতে পেরে ম্যাজিষ্ট্রেট আসার আগেই সে পালিয়ে যায়। এখনো নজরুল হক পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

এসময় তার কক্ষ থেকে ইউএনও, সহকারী কমিশিনার (ভুমি), সাব-রেজিষ্ট্রার, তহশীলদার, কাননগোসহ ভুমি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ও পদবী সম্বলিত তৈরী করা সিল উদ্ধার করা হয়। নজরুলসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ভুমি দখলের একাধিক মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৩ সালের ৩০ আগষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শফিক আহমদ মালিকানাধীন মন্ডলীভোগ মৌজার সাড়ে ২৬ শতক ভুমি জাল কাগজ-পত্র সৃষ্টি করে জবর দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে নজরুল হক ও তার সহযোগি বিল্লাল আহমদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ভুমির উত্তরাধিকারী মুক্তিযোদ্ধা কন্যা হেনা বেগম সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মুক্তিযোদ্ধা সফিক মিয়ার মৃত্যুর পর থেকে হেনা বেগম উক্ত ভুমি ভোগ দখল করে আসছিলেন। স্বামীর বাড়ি বিশ্বনাথের মিরেরচর হওয়ার সুবাধে এ জালিয়াত চক্র হেনা বেগমের পৈত্রিক ভুমি দখলের চেষ্টা চালায়। অবশেষে ২০১৫ সালে ছাতকের বৌলা মহল্লার বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল অদুদ গংদের কাছে উক্ত ভুমি রেজিষ্ট্রি করে বিক্রি করনে হেনা বেগম। বর্তমানে এ ভুমির ক্রয়সুত্রে মালিক হন আব্দুল অদুদ গং। এ রকম আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে নজরুলদের বিরুদ্ধে।

সহকারী কমিশনার(ভুমি) শেখ হাফিজুর রহমান জানান, প্রতারক নজরুলকে আটক করতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পালিয়ে বেশীদিন থাকতে পারবে না। মামলাও দেয়া হবে তার বিরুদ্ধে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: