সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আবদুল হাকিমের মতো একটি ‘আইডি কার্ড’ আমারও আছে

image-19105শেখ রোকন:: কী লিখবো? দুপুর থেকে ভেবে কুল পাচ্ছি না। যেমন ইচ্ছে লেখার ফেসবুক ওয়াল আছে, টাইপিং স্পিডও ভালো; কিন্তু আঙ্গুল সরছে না। ফেসবুকে লিখে কী হয়! শাহজাদপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যুযুধান দুই উপদলের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল হাকিম নিহত হয়েছেন। আমাদের রাজনীতি এমনই জাল পেতেছে সংসারে, যে কেউ যে কোনো সময় তাতে আটকে প্রাণ হারাতে পারেন। হারাচ্ছেনও না?

ফেসবুকে লিখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইতে পারি। ‘দৃষ্টান্তমূলক’ লিখতে মোটে ১৪-১৫ বার কী চাপতে হয়; কিন্তু ১৪-১৫ বছরেও কি সেটা পাব? অনায়াসে লেখা যায় নানা চালু শব্দ- সহমর্মিতা, সমমর্মিতা, ক্ষোভ, নিন্দা ইত্যাদি। সঙ্গে আন্তরিক বা তীব্র প্রভৃতি বিশেষন যোগ করাও আঙ্গুলের অক্লেশ মাত্র। কিন্তু কোনো শব্দই কি এই মৃত্যুর প্রতিকার দিতে পারে? দুর্বৃত্তের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে? কতকিছুই তো প্রতিদিন লিখি! আবদুল হাকিমকে নিয়ে দুই প্যারা লেখা কী আর এমন! তাতেই দায়িত্ব কিংবা দায় শেষ?

নিজেদের সঙ্গে লতায়পাতায় সম্পর্কিত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে, তাদের নিপীড়ন, নির্যাতন, বঞ্চনা নিয়ে লিখে না হয় যোগাযোগ শাস্ত্রের ভাষায় নিজের ‘ক্যাথারসিস’ হলো; প্রতিদিন আরও কত মানুষ এভাবে অপরের কারণে অস্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করছে, তাদের বেলায় সেটুকুও কি করতে পারি?image-19101_1

আবদুল হাকিমের মতো একটি ‘আইডি কার্ড’ আমারও আছে। পারতপক্ষে ব্যবহার করি না, প্রয়োজনও হয় না। কিন্তু সেটা ব্যবহার করে কি অস্বাভাবিক মৃত্যু ঠেকানো যায়? এই দেশে যে কোনো পরিচয় বা পরিচয়পত্রই কি সুরক্ষা দিতে পারে? সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পুলিশ, প্রতিরক্ষক, রাজনীতিক, উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক, লেখক- কে তার পরিচয় নিয়ে নিরাপদ? সকালে হাটতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হতে পারি, সন্ধ্যায় ড্রইং রুমে বসেও গুলিবিদ্ধ হতে পারি। কেবল গোলাগুলির কথা বলছি না- বেপরোয়া গাড়ি ধাক্কা দিতে পারে; লিফট ছিড়তে পারে; যে ভবনে দিন বা রাত কাটাই, সেটা ধসতে পারে। কেউ চাপাতি নিয়ে ছুটে আসতে পারে, জনসমাগমস্থলে এলোপাথারি গুলি ছুড়তে বা বেমক্কা বোমা মারতে পারে। কোথাও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়ে পড়ে থাকলেই বা কী করার আছে? নেহাত ‘নিখোঁজ’ হওয়াও কি খুবই কঠিন?

খুন হওয়ার আরও নানা সুলভ পদ্ধতি রয়েছে- শীসাভরা এই শহরে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে, ডেঙ্গু হতে পারে, খাবারে ভেজালের কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে। হার্ট এটাক বা স্ট্রোক তো নিদারুণ সম্ভাবনাময়। সামান্য জ্বরে প্যারাসিটামলের বদলে অন্য অষুধ খেয়ে মারা যেতে পারি; ভুল ডায়গনসিসের অস্ত্রপচার টেবিলে জীবন যেতে পারে।
পকেটে দেড়শ টাকার বেশি না পেয়ে ছিনতাইকারী যদি রেগে পেটে চাকু ঢুকিয়ে দেয়, কী করার আছে! সেখানেই পড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেলেও হাসপাতালে কেউ নেবে? বড়জোর ছবি বা ভিডিও কনটেন্ট তৈরি হয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। হাসপাতালে নিলেও বাঁচব? সময়মতো জরুরি চিকিৎসা মিলবে? এই দেশে এসবই যখন প্রায় ভবিতব্য, অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে কী-ই বা লিখতে পারি?

লেখকঃ সহকারি সম্পাদক, সমকাল

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: