সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২২ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিক্ষার্থীদের শরীর সেতুতে চড়ে বিপাকে উপজেলা চেয়ারম্যান

full_919371407_1485946534নিউজ ডেস্ক:: দুই সারিতে স্কুল শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে মেলে দেয়া হাতের ওপর একজন শিক্ষার্থী শুয়ে আছে। আর তার পিঠের ওপর দিয়ে জুতো পায়ে হেটে যাচ্ছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। অন্যপাশে একজন শিক্ষার্থী হাত আর হাঁটুর উপর ভর দিয়ে উবু হয়ে রয়েছে, যাতে তিনি তার পিঠের ওপর পা দিয়ে নামতে পারেন।

এই ছবিটি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আর সমালোচনার ঝড় তৈরি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায়।

মঙ্গলবার সেখানকার নীলকমল উছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছিল। সেই অনুষ্ঠানে আরো অনেক কিছু শরীর চর্চার মতো মানবদেহের পদ্মা সেতু তৈরি করে। আর সেই পদ্মা সেতু শরীরের ওপর দিয়ে হেটে যান হাইমচর উপজেলার চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কয়েকটি ইভেন্টের মধ্যে একটি ছিল প্রতীকী পদ্মা সেতু তৈরি করে তার ওপর দিয়ে চলাচল। ক্রীড়ানুষ্ঠানের এক পর্যায়ে স্কুলছাত্রদের শরীরে পদ্মাসেতু তৈরি ও তা পরিদর্শনের জন্য প্রধান অতিথি নূর হোসেনকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আহ্বান জানানো হয়। এ সময় তিনি প্রতীকী সেতু তথা শিক্ষার্থীদের শরীরের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে আপত্তি জানান। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ছাত্রদের অনুরোধের ভিত্তিতে উপজেলা চেয়ারম্যান সেখানে ওঠেন এবং শিক্ষার্থীদের শরীরের ওপর দিয়ে হেঁটে ওই ‘সেতু’ পার হন। পরে ওই ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কারও দেন।

তবে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ”প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা এরকম সেতু তৈরি করে থাকে এবং সেখানে অনেকবার প্রধান অতিথিকে হেটে যাবার অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগের প্রধান শিক্ষক হেঁটেছেন, একজন ইউএনও হেঁটেছেন এমন ছবি আছে। এবারও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান হেটে যাওয়ার অনুরোধ করলে প্রথমে তিনি রাজি না হলেও, পরে রাজি হন।”

কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে অনেকে প্রকাশ করেছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।

যোগাযোগ করা হলে হাইমচর উপজেলার চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারি এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ”আমি ওই মানব সেতুতে উঠতে চাইনি। কিন্তু তারা বলে, এটা নাকি তাদের স্কুলের ঐতিহ্য। এমনকি তারা আমাকে জুতা খুলেও উঠতে দেয়নি, কারণ সেতুতে নাকি কেউ জুতা খুলে ওঠে না। এর আগেও নাকি অনেকে উঠেছে। পরে সম্মানী হিসাবে আমি পাঁচ হাজার টাকাও দিয়েছি।”

কিন্তু স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উপর দিয়ে হেটে যাওয়াটা একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে কতটা ভালো হয়েছে, জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ”আমার বিবেক বাধা দিয়েছে। কিন্তু তাদের জোরাজুরির কারণে আমি বাধ্য হয়েছি।”

তবে ফেসবুকে অনেকে শিক্ষার্থীদের শরীরের উপর জুতো পায়ে হাটার এই ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও শাস্তি দাবি করেছেন।

স্কুলটির একজন সাবেক শিক্ষার্থী হাসান দবির বলেন, ”অনেকদিন ধরে স্কুলে এটা চলছে। আমিও স্কুলটির ছাত্র থাকাকালে এ ধরণের ঘটনার শিকার হয়েছি। কিন্তু এটা বোঝার মত বয়স তখন আমাদের ছিল না। কিন্তু এখন বুঝতে পারি এটা কতটা অমানবিক। এটা আসলে স্কুল কমিটিকে খুশি করার জন্য করে। একজন শিক্ষার্থী আরেকজন শিক্ষর্থীর গায়ে উঠতে পারে। কিন্তু বয়স্কদের ক্ষেত্রে ওঠার এই পরম্পরা বন্ধ হওয়া উচিত।”

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: