সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ রাবিতে বিদেশীদের সংখ্যা বাড়ছে

unnamed (3)সালমান শাকিল, রাবি:: প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত দেশের অন্যতম বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষার উন্নত পরিবেশের দরুণ বরেন্দ্র ভূমির এই ক্যাম্পাসে পড়তে বাড়ছে তাদের আগ্রহ। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন তারা। এর মধ্যে আছেন নেপাল, জর্ডান, সোমালিয়া সহ বিভিন্ন দেশের ২৯ জন শিক্ষার্থী।

বিশেষত বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে ফার্মেসী, ইলেক্ট্রিকাল ও ইলেক্টনিক, ভূতত্ব-খনিবিদ্যা, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ব্যাংকিং ইন্সুরেন্স, একাউন্টিং, কৃষি অনুষদের এগ্রোনোমি এন্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন, ভেটেনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগ সমূহের উন্নত শিক্ষার পরিবেশ ও বিশে^ বিভাগ গুলোর গ্রহনযোগ্যতার কারণে বিদেশীদের এই বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার এবং ভর্তি হওয়ার আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা যায়।
বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখা সূত্রে জানা যায়, স্নাতক ও স্নাকোত্তর পর্যায়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের এই বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থাকে। পূর্বের শিক্ষাবর্ষে নেপাল থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। এবার নতুন করে জর্ডান ও সোমালিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আবেদন করেছেন। নেপাল ও নতুন দুই দেশ মিলে স্নাতক ও ¯œাকোত্তর পর্যায়ে অনলাইনে মোট আবেদন কারীর সংখ্যা ছিল ৩৪ জন। তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৯ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির অফার লেটার পাঠানো হয়।

একাডেমিক শাখার উপরেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন জানান, এবারের শিক্ষা বর্ষে রাবির ফার্মেসী বিভাগে ভর্তি হয়েছে নেপালের কৃষ্ণ মহড়া ও কৃষ্ণ প্রষাদ, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন জর্ডানের সইফ আদ্দিন সাঈদ আদ্দিল কাদির শিহাদেহ, সোমালিয়ার ওমার ওয়েইস আবু মোহামেদ, মোহামুদ মোহামেদ সাঈদ, নেপালের অভিশেক কুমার সাহ। ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স বিভাগে ভর্তি হয়েছেন আহমেদ মোহামুদ আলি।
¯œাতক পর্যায়ে মোট ১১ জন নেপালী, সোমালিয়ার-৩ ও জর্ডানের-১ ও ¯œাকোত্তর পর্যায়ে ৯ জন সোমলীয়কে এই অফার লেটার পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে ১১ বিদেশী শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়ে ক্লাস করছেন। বাকী শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে একাডেমিক শাখা থেকে জানানো হয়।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের আবাসন সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে আসলাম হোসেন বলেন, ‘বিদেশী শিক্ষার্থীদের ছেলেদের থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর আব্দুল কাউয়ূম আন্তর্জাতিক ডরমেটরি রয়েছে। অন্যদিকে মেয়েদের জন্য বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলে একটি আধুনিক আলাদা উইং বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদেশী শিক্ষার্থী ও গবেষকরা সেখানে সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পায় সেদিক চিন্তা করেই আধুনিক এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নেপাল থেকে আসা রাবির ফার্মেসী বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ মহড়া বলেন, কয়েকদিন হলো এসেছি। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মাধ্যমে আমি ডরমিটরিতে থাকার সুযোগ পেয়েছি। সুন্দর পরিবেশে সুস্থ আছি।

বিশ^বিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ার পিছনে কারণ হিসেবে উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, স¦রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সমস্যার মধ্যে পড়ত এছাড়াও বেশ কিছু জটিলতা যেমন তাদের অর্থ আদান প্রদানে দেশীয় মুদ্রার প্রচলন ছিলনা ডলারের মাধ্যমে অর্থব্যবস্থা থাকার কারণে ভর্তির পরিমাণ কম ছিল। তবে এবার এসব জটিলতা মুক্ত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সহজ হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ^বিদ্যালয় থেকে তাদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। তবে যেহেতু তারা আমাদের অতিথি তাই তাদের প্রতি সকলকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান।##
ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবীতে
রুয়েট দ্বিতীয় দিনের মত শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন
রাবি প্রতিনিধি:
পরবর্তী বর্ষে উঠতে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ক্লাস বর্জন করে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহীদ মিনার চত্বরে ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। শনিবারও একই দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ দাবি অযৌক্তিক বলে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রুয়েট ভিসি প্রফেসর রফিকুল আলম বেগ শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, অকৃতকার্য হয়ে কি কখনো ওপরের ক্লাসে ওঠা যায়? আমরা তবুও দুই-তিনটি বিষয়ে ফেল করলেও পরের বর্ষে উঠার ব্যবস্থা রেখেছি। ওরা সব বিষয়েও ফেল করে পরবর্তী বর্ষে উঠার দাবি করছে।
তিনি আরও বলেন, গত শনিবার বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রুয়েটে ১৩ সিরিজের ব্যাচ বা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নূন্যতম ৩৩ ক্রেডিট প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। এই পদ্ধতিতে স্নাতক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীদেরকে ১৬০ ক্রেডিটে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রথম বর্ষের দুই সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩৩ ক্রেডিট পেলে পরবর্তী বছরে বর্ষে পদার্পনের কথা বলা হয়। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ এই দুই শিক্ষাবর্ষের মোট ১৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬০ জনের উপরে শিক্ষার্থী ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে পারেনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সঙ্কট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে।
এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। প্রশাসন কোনো পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা সবদিক বিবেচনা করে করা উচিত বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা এন এইচ এম কামরুজ্জামান সরকার দাবি করে বলেন, ‘(রোববার) ১৫ সিরিজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে জোর করেই আন্দোলন চালাচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ নিয়মেই ক্লাস করতে আগ্রহী।’##
বিজয়ীরাই ইতিহাস রচনা করে, পরাজিতরা নয়: আলী রিয়াজ
রাবি প্রতিনিধি:
‘ইতিহাসের সঙ্গে ক্ষমতার একটা সর্ম্পক আছে। সে ক্ষমতায় যারা বিজয়ী হয় তারাই ইতিহাস রচনা করে। পরাজিতরা ইতিহাস রচনা করে না। আর বিজয়ীরা তাদের মতো করে, তাদের অবস্থানে থেকে ইতিহাস রচনার চেষ্টা করে থাকে।’ রোববার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) সম্মেলন কক্ষে এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়নস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. আলী রিয়াজ।
‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস রচনার সমস্যা’ শীর্ষক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে ড. রিয়াজ আরো বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস বিষয়ক বেশিরভাগ পুস্তকগুলো রচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারের শাসনামলের প্রভাব লক্ষ করা যায়। এজন্য সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ইতিহাসের ভাষ্য রচনার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া আমাদের অধিকাংশ রাজনীতিবিদরা আত্মজীবনী লিখে না দুই একজন বাদে, যা রাজনৈতিক ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে তথ্য প্রাপ্তিতে সমস্যা হয়।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর স্বরোচিষ সরকার-এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে নরওয়ের বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও সংগঠনতত্ত্ব বিষয়ের শিক্ষক ড. ইসতিয়াক জামিলও বক্তৃতা করেন।##

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: