সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুস্থদের কাছে আইনগত সেবা পৌঁছাতে গণমাধ্যমকে প্রধান বিচারপতির আহ্বান

image-17088-600x360নিউজ ডেস্ক:: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দুস্থ ব্যক্তিদের কাছে আইনগত সেবা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আজ সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় ও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান। সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট টাইটাস হিল্লোল রেমা।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আগে প্রতিটি জেলায় প্রখ্যাত আইনজীবীরা ফৌজদারি মামলায় এপিপি হিসেবে নিয়োগ পেতেন। এই নীতি বেশ কিছু সময় চলার পর এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবীদের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রথিতযশা আইনজীবীদের নিয়োজিত থাকার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ফলে মামালায় ভারসাম্য থাকে না। তিনি বলেন, এক পক্ষে প্রথিতযশা ও অভিজ্ঞরা থাকেন আর অন্য পক্ষে মোটামুটি প্রখ্যাত না, অনভিজ্ঞরা থাকেন। এর ফলে সরকারি তহবিল থেকে টাকা চলে যাচ্ছে, অথচ দুঃস্থরা প্রকৃতপক্ষে বিচার পাচ্ছে না। এ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি নিরসনে সবার সহযোগিতা চান। তিনি প্যানেল আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান বিচারপতি লিগ্যাল এইডের মামলায় অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগে ব্যক্তিগতভাবে একটি তহবিল গঠন করার কথা জানান।
সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে শুনে আসছি আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং আইনের আশ্রয় সমানভাবে পাওয়ার অধিকারী-এটি কত দূর দিতে পেরেছি এ প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি বলব, পারিনি। এটি আমাদের অপারগতা।’

গত ২৬ জানুয়ারি গাজীপুরের কিশোর ও কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, সেখানে শুধু গরিবেরা নয়, ধনাঢ্য পরিবারের ছেলেমেয়েরাও আছে। সেখানে আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও একটু বাড়াবাড়ি হচ্ছে। দেখলাম, কেউ কেউ আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার পরীক্ষার্থী, তাদের যেন জামিনের ব্যবস্থা করা হয় তা বলেছি। সেখানেও মানুষ আইন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে নিম্নহারে কর আরোপ করা হয়েছে, তারপরও শত শত কোটি টাকার মালিক এমন অনেকেই আছেন যারা আয়কর দিচ্ছেন না।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায় সম্ভলহীন,অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে সরকারি খরচে আইনী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০” প্রণয়ন করে। আওয়ামী লীগ ২০০০ সালে তৎকালীন শাসন আমলে আইনটি প্রনয়ন করে । তারপরের সরকার গুলো আইনটি কার্যকরে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণের বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আইনটি কার্যকরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।
২০০০ সালে প্রণীত আইনটি অনুযায়ি “জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা” গঠন করা হয়। রাজধানীর ১৪৫, নিউ বেইলী রোডে এ সংস্থার প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর ব্যাপ্তি সুপ্রিমকোর্ট, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেয়া হয়। জেলা কমিটি গঠন, প্রতিটি জেলা জজ আদালতে এর কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এতে দরিদ্র-অসচ্ছল ও অসহায় জনগন বিচারপ্রাপ্তিতে সুবিধা পাচ্ছে। নানা প্রচার, প্রচরণা, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সেবা বিষয়ে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: