সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লুই আই কানের নকশা বিন্যাসের কাজ শেষ

1485485865 (1)নিউজ ডেস্ক:: ঢাকায় এসে পৌঁছনো লুই আই কানের তৈরি করা জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রস্তাবিত সচিবালয় এলাকার মূল নকশার বিন্যাসের কাজ শেষ করেছেন স্থপতিরা। মোট ৩ হাজার ৪১২টি নকশা বিন্যাস করেছেন তারা। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে এখন অপেক্ষা শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নকশার একটি করে সেট হস্তান্তর করবেন। অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবার সিডিতে মূল নকশার সফ্ট কপি আনা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মঙ্গলবার বলেন, ‘নকশাগুলো বিন্যাস হয়ে গেছে। এখন প্রধানমন্ত্রী কবে আসতে পারবেন—সেজন্য একটি তারিখের অপেক্ষা করছি আমরা। প্রধানমন্ত্রী নকশাগুলো এবং এর বিন্যাস দেখবেন, তারপর তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি করে সেট তুলে দেবেন।’

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ ভবনের ২ নম্বর স্থায়ী কমিটির কক্ষে গত ৮ ডিসেম্বর নকশার বাক্সগুলো প্রথম খোলা হয়। স্থাপত্য অধিদফতরের স্থপতি সাইকা বিনতে আলমের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা এই নকশা বিন্যাসের কাজ করেন। নকশাগুলো মেলাতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে। প্রথমে একটি সেট মিলিয়ে সেটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ব-বিদ্যালয়ের মহাফেজখানা থেকে লুই কানের তৈরি করা ৮৭৩টি নকশা ও ৫৫টি ডকুমেন্ট ঢাকায় আসে। ৪১টি বাক্সে মোট চার সেট নকশা আনা হয়। সংসদ সবিচালয়ের অতিরিক্ত সচিব এওয়াইএম গোলাম কিবরিয়া জানান, নকশাগুলো আনার জন্য সরকার প্রায় চার লাখ ডলার বরাদ্দ করে, যা ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি।

স্পিকার শিরীন শারমিন জানান, নকশাগুলোর একটি সেট সংসদ ভবনে সংরক্ষিত থাকবে। এর বাইরে গণপূর্ত বিভাগ, স্থাপত্য অধিদফতর, জাতীয় জাদুঘর ও জাতীয় আর্কাইভসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে একটি করে সেট রাখা হবে। সংসদ সচিবালয় ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্ত মূল নকশার আলোকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংসদ সচিবালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জাতীয় জাদুঘর, স্থাপত্য অধিদফতর ও জাতীয় আর্কাইভসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে বৈঠক হতে পারে। লুইয়ের নকশা অনুযায়ী সংসদ ভবন এলাকায় কী কী থাকবে এবং কী কী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করতে সম্ভাব্য ওই বৈঠকে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে।

বিএনপি ইতোমধ্যে অভিযোগ করে বলেছে, সংসদ ভবন-সংলগ্ন উদ্যান থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর উদ্দেশ্যেই এই নকশা আনা হয়েছে। আর গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন একাধিকবার বলেছেন, লুই আই কানের নকশা যেভাবে আছে, সে অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য যা যা করণীয়, সবই করা হবে। তা ছাড়া সংসদ ভবন কোনো কবরস্থান নয়।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সংসদ ভবন এলাকায় থাকা অন্যান্য কবর সরিয়ে নেওয়া হবে বলে পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বারবার যে কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যাপারে স্পিকার ইত্তেফাককে বলেন, ‘পূর্ত মন্ত্রণালয় বা সরকারের বক্তব্য সম্পর্কে আমার কোনো মন্তব্য নেই। কারণ সেটা সরকার বা নির্বাহী বিভাগের ব্যাপার। সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্ব হলো নকশাগুলো সংরক্ষণ করা। এর বাইরে পূর্ত মন্ত্রণালয় বা সরকারের কী পরিকল্পনা আছে বা করবে সেটা স্পিকার হিসেবে আমার বলার বিষয় নয়।’

নকশাগুলো দেশে আসার পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, সরকার সচেতনভাবে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে চায়। এজন্য তার কবর সরানোর ষড়যন্ত্র করছে।

প্রসঙ্গত, লুই আই কান নকশাটি করেন ১৯৭৪ সালে। নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবর ও মাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত লাগোয়া স্থানে পাঁচ বিঘারও বেশি জায়গা জুড়ে ‘জাতীয় কবরস্থান’ নাম দিয়ে আরো অন্তত সাতজনকে সমাধিস্থ করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খানের কবর রয়েছে সেখানে।

এসব কবর ছাড়াও শেরেবাংলা নগরে আছে লুই কানের নকশাবহির্ভূত আরো সাতটি স্থাপনা। এগুলোর মধ্যে বড় স্থাপনা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি), স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন। এর বাইরে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরের চারদিকে থাকা চারটি প্রবেশপথের শুরু বা শেষ প্রান্তে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, সম্মেলন কেন্দ্র ও মসজিদসহ চারটি স্থাপনা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: