সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রার আত্মকাহিনী (পর্ব ২)

16216131_976525625782953_109310624_nমো. সাইদুর রহমান: পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী ইরান থেকে তুরস্ক যাওয়ার গেইমের দালালের লোক আমাদের রিসিভ করে।সেখান থেকে শুরু হয় আর এক যাত্রা।আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও তিন জন।তিন জন করে দুইটা গাড়ীতে করে তাঁরা আমাদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে কয়েকবার পুলিশ আমাদের ধাওয়া দেয়। কিন্তু যারা আমাদের নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছিল তাঁরা এতই এক্সপার্ট ছিলো যে, তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভের সকল স্মৃতি আজও যখন মনে পরে তখন গায়ের রোম সোজা হয়ে যায়।আমরা ৮ঘন্টার মতো জার্নি করে সিমান্তবর্তী একটি শহরে যাই।

৮ ঘন্টা জার্নির ১ সেকেন্ডও আমাদের কারও চোখে সামান্য পরিমান ঘুম ছিলো না তাঁদের বিপজ্জনক গাড়ি চালানো দেখে। শেষ সীমান্তবর্তী শহর থেকে যখন আমাদের কোন এক গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় তখন প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা তাঁরা অন্ধকারে লাইট নিভিয়ে গাড়ি চালায়,আর এই অবস্থায় গাড়ির গতি ছিলো অকল্পনীয়।

রাত ১১টার দিকে আমাদের একটা ঘরে ঢুকানো হয়।আজকের রাত এখানে থাকতে হবে।আগামীকাল সন্ধ্যা ৬ টায় আবার যাত্রা শুরু হবে।ঘরে দেখলাম আরও ১৬ জন আছে। স্কয়ার ১৫ ফুটের মতো ঘরের মধ্যেই কাপড় দিয়ে আড়াল করা বাথরুম। এটি ছিলো মূলত দুম্ভা/ভেড়ার ঘর।দুম্ভার গন্ধ,বাথরুম,এরই মধ্যে আরও কয়েক তিন জনের আগমন।সব মিলিয়ে যতটুকু মনেপড়ে ২৫ জন।ঠান্ডা,গন্ধ… যা লিখে প্রকাশ করার মতো নয়।

মাটির উপর পুরনো কার্পেট দিয়ে সবাই কোন ভাবে রাত অতিক্রম করলাম।বাংলাদেশী ছিলাম কেবল আমরা তিন জন।পুরো এক দিন কিছু খাওয়ার কোন সুযোগ হয়নি। সকালে খুবই ক্ষুধার্ত। একজন আমাদের সবার জন্য রুটি নিয়ে আসে।রুটি এতই শক্ত যে তা দুহাত দিয়ে ছিঁড়াও কষ্টকর।পানি আর বিস্কিট খেয়েই সকাল কাঁটিয়ে দিলাম। দুপুরে সেই একই রুটি সঙ্গে একটা করে সিদ্ধ ডিম।আমরা ডিম নিলাম। দুই দিনে পানি, বিস্কিট, আর একটা ডিম।যাই হোক ভাবলাম এই তো সন্ধ্যায় তুরস্ক ডুকে যাবো।16244276_976525649116284_397585817_n

৫টার দিকে একজন এসে বললো বর্ডারের অবস্থা ভালো না তাই আজ গেইম হবে না। এই শুনে আমরা তো শেষ। বাকী পাকিস্তানী আর আফগানিদের সাথে কথা বলে আমরা আরও হতাশ। তারা একেকজন ১৫-২০ দিন ধরে এইভাবে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে আছে। ক্ষুধা, গন্ধ আর ঘুম ছাড়া তখন আমরা ছিলাম খুবই ক্লান্ত। বিস্কিট ও শেষ। রাতে ক্ষুধার জ্বালায় এই শক্ত রুটিই আমার কাছে খুবই সুস্বাদু লাগছিলো। ঘর থেকে বাহিরে যাওয়া যাবে না।

অনেক কষ্ট করে রাত আর পরের দিন কাঁটিয়ে দিলাম।বিকাল চারটায় বললো তৈরী থাকার জন্য পাঁচটায় যাত্রা শুরু হবে। সবাই তৈরী, হঠাত করে একটা ভেন গাড়ি আসে,আমাদের সবাইকে এই একটাতেই তুলে।ছোট গাড়িতে ২৫ জন। কিছুদুর যাওয়ার পর আরও একটা ঘর থেকে ১৫ জনের একটি গ্রপ আমাদের গাড়িতে তুলে। তখনকার অবস্থা চিন্তা করার মতো না। আমি কতজনের নিচে ছিলাম বলতে পারি না তবে আমার নিচে ছিলো তিন জন। আমি আমার সঙ্গীদের খুজছিলাম।কিন্তু কোন সাড়া পেলাম না। হাত নাড়ানোর মতো জায়গা নেই। আমার শ্বাসপ্রশ্বাস অন্য আরেকজনের মুখে পড়তেছে।

আমার পা আমার নিচের জনের মুখের উপর এমন ভাবে ছিলো যে আমি বুঝতে পারছি সে খুব ব্যাথা পাচ্ছে কিন্তু আমি আমার পা সরানোর কোন সুযোগ পাচ্ছি না। কোন ভাবে হাত দিয়ে ওর নাকের ওপর ছোঁয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু শ্বাসপ্রশ্বাস অনুভব না করায় আমি ভয় পেয়ে গেলাম। জানি না শেষ পর্যন্ত তার অবস্থা কি হয়…

চলবে…

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: