সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এমপি লিটন হত্যা : নিখোঁজ ইউপি সদস্য গ্রেফতার

1485161047নিউজ ডেস্ক:: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের মধ্যে নিখোঁজ স্থানীয় সর্বানন্দ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড (রামভদ্র গ্রাম) সদস্য রেজাউল ইসলাম লিটন ওরফে ডিস লিটন (৪০) নিখোঁজের ১০দিন পর সুন্দরগঞ্জ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

রবিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল ইসলাম লিটনের মা আম্বিয়া খাতুন জানান, গত ১৪ জানুয়ারি উপজেলার ময়েজ মিয়ার হাট এলাকা থেকে সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইজার আলী ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা অজ্ঞাত কারণে রেজাউল ইসলাম লিটনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে এব্যাপারে স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় বার বার যোগাযোগ করেও ওইদিন থেকেই নিখোঁজ লিটনের এখন পর্যন্ত কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এনিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, বামনডাঙ্গায় ৪ পুলিশ হত্যাসহ একাধিক নাশকতা মামলার পালাতক আসামী জামায়াতের সক্রিয় কর্মী রেজাউল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করতে সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) ইজার আলী সেদিন ধাওয়া করেছিল। কিন্তু তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থেকে তার পরিবারের ‘এই সংবাদ সম্মেলন’ একটি নাটক মাত্র।

তিনি আরো জানান, তাকে সোমবার ভোর রাতে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা এলাকা থেকে এমপি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ বিকালের মধ্যে রিমান্ড চেয়ে তাকে গাইবান্ধা আদালতে পাঠানো হবে।

এদিকে এমপি লিটন হত্যার পর পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাপুর উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ ও যুবদলের চার নেতা নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে তারা আবারো একদিনের ব্যবধানে ১০ ও ১১ দিন পর দুইজন করে বাড়ী ফিরে আসেন। ফিরে আসার পর তাদের সাথে কথা বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে তুলে নিয়ে যায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেলেও, তারা কোন বাহিনীর সদস্য তা জানাতে পারেনি।

এছাড়া প্রায় সমসাময়িক সময়ে নিখোঁজ হন জামায়াতের আরো দুই নেতা। তারা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম রতন ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াত আমির ইউনুস আলীর ছেলে শিবরামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম।

এরমধ্যে সাইফুল ইসলামকে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ গত ১৮ জানুয়ারি এমপি লিটন হত্যা মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে গাইবান্ধা আদালতে পাঠান। আদালত সোমবার তার রিমান্ড শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু এখনও খোঁজ মিলেনি সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম রতনের।

রতনের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের দাবি তার স্বামী রতনকে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা গত ১০ জানুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের তার খালু শ্বশুরের বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও তাকে থানা বা আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তার কোন খোঁজও দিতে পারছে না পুলিশ বা অন্য কোন আইনশৃংখলা বাহিনী।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, এমপি লিটন হত্যা মামলায় পুলিশ তাকে খুঁজছে। আবার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে তাকে আইনশৃংখলা বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। হয়তো পালিয়ে থেকেও পরিবার থেকে এমন অভিযোগ করা হতে পারে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: