সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শাল্লায় ইজারাচুক্তি লঙ্ঘণ করে অবাধে মৎস্য নিধনের ঘটনায় উত্তেজনা

2.-daily-sylhet-666-2আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ:: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পুটকার জাওর গ্রুপ জলমহালে ইজারাচুক্তি লঙ্ঘণ করে অবাধে মৎস্য নিধনের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেচ পাম্প দ্বারা জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে এলাকার বোর ফসলের ক্ষতিসাধন হচ্ছে। এ নিয়ে যেকোন সময় সাধারন মৎস্যজীবী ছাড়াও স্থানীয় কৃষকদের সাথে জলমহাল ইজারাগ্রহীতাদের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তথাকথিত ইজারাচুক্তি বাতিলক্রমে অবিলম্বে মৎস্য নিধন বন্ধের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জলমহাল এলাকার স্থানীয় জনগন। অন্যদিকে ইজারাচুক্তি বাতিলের দাবীতে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় চন্ডিপুর-ধনপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি সৈয়দুর রহমান।

অভিযোগে প্রকাশ, জলমহালের দূরবর্তী দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের কালিদ্রুম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাশের নামে উন্নয়ন স্কীমের আওতায় গত ৩/১০/২০১৩ইং তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় বর্ণিত জলমহালটি ৬ বছরের জন্য ইজারা প্রদান করে। কাগজেপত্রে একটি মৎস্যজীবী সমিতির নামে জলমহালটি ইজারা দিলেও বাস্তবে অমৎস্যজীবীরা জলমহালটি লুঠেপুটে খাচ্ছে। বিশেষ করে সন্তোষপুর গ্রামের মৃত মিয়াবক্স এর পুত্র আব্দুল কদ্দুছ ও তার সহযোগীরা প্রতিবছরই জলমহালটির পানি শুকিয়ে অবাধে মৎস্য নিধন করে যাচ্ছেন।

ইজারা চুক্তি ২০০৯ এর নীতিমালা অনুযায়ী ইজারাগ্রহীতাগন মাছের অভয়াশ্রম স্থাপনসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু ইজারা গ্রহনকারী সমিতির লোকজন উন্নয়নমূলক কাজ না করে ও মাছের অভয়াশ্রম তৈরী না করেই বছরের পর বছর ধরে মা মাছ শিকার করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে চন্ডিপুর-ধনপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি সৈয়দুর রহমান ভূমি মন্ত্রণালয়ে ইজারা গ্রহনের প্রথম বছরেই ইজারাচুক্তি লঙ্ঘনের মাধ্যমে জলমহালটি হতে ইজারাগ্রহনকারীরা অবাধে মৎস্য আহরণ করায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত ২১/১২/২০১৪ইং তারিখে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মোনায়েম খান ৪৭৫ নং স্মারকে,২৪/২/২০১৬ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আশিক ইকরাম ১৯৯ নং স্মারকে,২৮/৬/২০১৬ইং তারিখে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম ১৩৪৫ নং স্মারকে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে মন্ত্রণালয়ে নীতিমালা ও ইজারাচুক্তি ভঙ্গের ব্যাপারে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করেন।

উক্ত প্রতিবেদনে কালিদ্রুম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করে চন্ডিপুর-ধনপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর অনুকুলে উন্নয়ন স্কীমের আওতায় ইজারা মঞ্জুরীর জন্য ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও বলা হয়। বিগত ৩ বছরে ৩বার মন্ত্রণালয়ে পৃথক ৩টি স্মারকে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম প্রেরিত প্রতিবেদনে ইজারাচুক্তি বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

অন্যদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় সমিতির সভাপতিকে। তদন্ত ২৭/১১/২০১৬ইং তারিখে সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাশ অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগের বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি মর্মে স্বীকার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। তারপরও প্রশাসনের শোকজ ও তদন্ত প্রতিবেনে আনা অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইজারাচুক্তি লঙ্ঘণক্রমে চতুর্থ বৎসরেও মৎস্য নিধন করে যাচ্ছে আব্দুল কদ্দুছ ও তার সহযোগীরা।

fakhrul_islam

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: