সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তরুণীর চোখে এক্স-রে!

full_79877099_1485074147আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: রাশিয়ার ৩০ বছর বয়সি তরুণী নাতালিয়ার দাবি, তিনি চাইলেই কোনও মানুষের শরীরের অভ্যন্তরের অবস্থা দেখে নিতে পারেন শুধুমাত্র নিজের দৃষ্টিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে।

বর্তমানে মস্কোর স্টেট স্টেমাটোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ডাক্তারি পাঠরত নাতালিয়া জানিয়েছেন, তার বয়স যখন ১০ বছর, তখনই প্রথম আবিষ্কার করেন নিজের এই অদ্ভুত ক্ষমতা। এক দিন নাতাশার মা তাতিয়ানা দাঁড়িয়ে রয়েছেন নাতালিয়ার সামনে, হঠাৎই ছোট্ট নাতালিয়ার কেমন একটা ঘোর এসে যায়। সে খেয়াল করে, মায়ের শরীরের চামড়া ভেদ করে শরীরের অভ্যন্তরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। গড়গড় করে সমস্ত মায়ের ইন্টার্নাল অর্গ্যানের বিবরণ দিয়ে যেতে থাকে ১০ বছরের মেয়েটি।

তাতিয়ানার মুখ থেকে পাড়া-প্রতিবেশীরা শুনেছিলেন নাতালিয়ার এই অলৌকিক ক্ষমতার কথা। ক্রমশ নাতালিয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ২০০৩ সালে রাশিয়ার সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন মারফত গোটা দেশ জেনে যায় ‘এক্স-রে গার্ল’ নাতালিয়ার কথা।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ারও নজর পড়ে নাতালিয়ার দিকে। তিনি পাড়ি দেন ব্রিটেন। বিভিন্ন টেলিভিশন শো-এ নিয়ে যাওয়া হয় নাতালিয়াকে। একটি টেলি-শো-এ গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত এক মহিলার দিকে তাকিয়েই নাতালিয়া বলে দেন, মহিলার শরীরের কোন কোন হাড় ভেঙেছে এবং শরীরের ভিতরে কোথায় কোথায় বিঁধে রয়েছে ধাতব পিন। ব্রিটেন সফর শেষ হওয়ার পরে আমেরিকায় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নাতালিয়াকে।

কিন্তু নাতালিয়ার এই অলৌকিক অত্যদ্ভুত ক্ষমতার ব্যাখ্যা কী? কী ভাবে এক জন মানুষ দেখতে পান চামড়া-মাংসের আস্তরণ ভেদ করে অন্য মানুষের শরীরের ভিতরে? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর নেই খোদ নাতালিয়ার কাছেও। বিজ্ঞানীরাও তাকে পরীক্ষা করে তার শরীরে আর পাঁচটা মানুষের চেয়ে অতিরিক্ত ক্ষমতার কোনও লক্ষণ পাননি। তবে কি নাতালিয়া যা দাবি করছেন সবটাই মিথ্যে, তার মনগড়া? তা-ই বা হয় কী করে? কারণ বহু মানুষের দিকে তাকিয়ে নির্ভুল ভাবেই তো তিনি বলে দিয়েছেন তাদের শরীরের আভ্যন্তরীণ অবস্থা।

তবে ব্যর্থও যে নাতালিয়া হননি, তা নয়। আর সেই সমস্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই দানা বেধেছে বিতর্ক। ব্রিটেন সফরের সময়ে টেলি-ফিজিশিয়ান ক্রিস স্টিলের দিকে তাকিয়ে নাতালিয়া বলেছিলেন, ক্রিসের কিডনিতে পাথর জমেছে, এবং তার বর্ধিত লিভারের সমস্যা রয়েছে। পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা যায়, ক্রিস সম্পূর্ণ সুস্থ। আমেরিকায় করা নাতাশার কিছু ডায়েগনোসিসও পরবর্তী কালে ভুল বলে প্রমাণিত হয়। ফলে অনেকেই ধরে নেন, নাতালিয়া যা কিছু বলছেন, তার সবটাই ভাঁওতাবাজি। নাতালিয়া অবশ্য দাবি করেন, তার যে সমস্ত ডায়গনোসিস ভুল বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলির ক্ষেত্রে তিনি রোগীকে পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি।

এই সমস্ত বিতর্ক নাতালিয়ার খ্যাতিতে কলঙ্কের দাগ বসাতে পারেনি। তিনি মস্কোয় চালাচ্ছেন, ‘সেন্টার অফ স্পেশাল ডায়গোনিস্টিকস অফ নাতালিয়া ডেমনিকা’। সেখানে তিনি এবং তার মতো অন্যান্য অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষদের দ্বারা রোগীদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়। সেই চিকিৎসা কেন্দ্রের উপর কিন্তু যথেষ্ট আস্থা রয়েছে সাধারণ মানুষের। প্রতি দিন বহু মানুষ নাতালিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছেন, শরীরের আভ্যন্তরীণ অবস্থা নির্ভুল ভাবে জানার জন্য। এক্স-রে গার্লও সাধ্যমতো রোগীদের সুস্থ করে তোলার জন্যে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: