সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের উৎসব

ssddddssssচুনারুঘাট সংবাদদাতা ::

চুনারুঘাট উপজেলার সুতাং নদীর ‘গ’ অংশ হাইকোর্টের স্ট্যাটাস্কো নিয়ে নদীর ‘খ’ অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালী একটি মহল। নদীর এক অংশ লিজের নামে মহাল নিয়ে অন্য অংশ থেকে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মহাল গ্রহিতা জিতু মিয়া নদীর অন্য অংশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন বলে এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের জিতু মিয়া নামে জনৈক ব্যক্তি মহামান্য হাইকোর্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস্কোর আদেশ এনে সুতাং নদীর ‘গ’ অংশ থেকে কয়েক মাস পূর্বে বালু উত্তোলন শুরু করেন। কিছুদিন পরই তিনি ‘গ’ অংশে পর্যাপ্ত পরিমাণ বালু না-থাকায় তিনি অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করেন সুতাং নদীর ‘খ’ অংশে। গত ১৫ দিন ধরে তিনি মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে তার মহালে এনে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক্টর বালু উত্তোলন করে চা বাগানের জমি নিয়ে নিয়ে আসছেন আমতলী এলাকায়। সেখান থেকে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ বালু পাচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ ট্রাক বালু যাচ্ছে বিবাড়িয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতি ট্রাক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হিসেবে তিনি প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অথচ এ বালু মহাল থেকে সরকার কোন রাজস্ব পাচ্ছেনা। তিনি ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতাকে ম্যানেজ করে এ অবৈধভাবে এ বালু বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

জানা গেছে- জিতু মিয়া এলাকার একটি বাহিনী তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সুতাং নদীর বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন।

সম্প্রতি তিনি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে সুতাং নদীর ‘গ’ অংশের জন্য স্ট্যাটাস্কো এনে বালু উত্তোলন শুরু করেন। কিছুদিন পরই তিনি ‘গ’ অংশের বালুর সাথে লিজ বহির্ভূত ‘খ’ অংশ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি চা বাগানকে ম্যানেজ করে চা বাগানের জমি ব্যবহার করে এ বালু পরিবহণ করছেন। প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক্টর এ বালু পরিবহণ করছে।

নিয়ম অনুযায়ী সুতাং নদীর বালু উত্তোলনে কোন প্রকার মেশিন ব্যবহার করা যাবেনা বলা হলেও তিনি এ আইন না-মেনে ৫ থেকে ৬টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করছেন। অথচ স্থানীয় প্রশাসন এগুলো দেখেও না-দেখার ভান করছে।

জিতু মিয়া স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ বালু উত্তোলন করছেন বলে এলাকায় প্রচার করছেন। উপজেলা প্রশাসনও অবৈধ বালু উত্তোলন বিষয়ে কোন ভূমিকা নিচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়- প্রতিদিন ১-২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বালু উত্তোলিত হলেও সরকার কোন রাজস্ব পাচ্ছে না। সরকারের এ রাজস্ব আদায়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের কোন ভূমিকা নেই।

এ বিষয়ে ভূমি অফিস সূত্র জানায়- তাদের জনবল নেই। তারপরও তারা প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। কিন্তু সুতাং নদীর ‘খ’ অংশের বালু উত্তোলনের বিষয়ে কোন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কিংবা কোন কর্মকর্তাই এ নদীর ধারে-কাছে যেতে দেখা যায়নি।

স্থানীয় অধিবাসীরা এ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: