সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাণীবিজ্ঞানী সাজিদে মুগ্ধ হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়

1484247315নিউজ ডেস্ক:: ড. সাজিদ আলী হাওলাদার। বাংলাদেশি তরুণ। বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রাণিবিজ্ঞানী। ২০১১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র থাকার সময়ে মাত্র ২৬ বছর বয়সে আবিষ্কার করেন ‘ফেজারভেরিয়া আসমতি’ নামের ব্যাঙ। ইংরেজ শাসনামলের পরে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এটাই ছিলো নতুন কোনো চতুস্পদী মেরুদন্ডী প্রাণী আবিষ্কারের ঘটনা।

২০১৫ সালে আবিষ্কার করেন ‘ইউফ্লিকটিস কলসগ্রামেনসিস’ ও ২০১৬ সালে ‘জাকেরানা ঢাকা’ নামের আরো দুটি ব্যাঙ। অর্জনের ঝুড়ি এখানেই শেষ নয়। বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্টের স্বীকৃতি পেয়েছেন।

ড. সাজিদ আলী হাওলাদার ‘জাকেরানা’ নামের নতুন এক জাতের ব্যাঙের নামকরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ‘ফেজারভেরিয়া’ নামের যে জাতটি দক্ষিণ এশীয় বিভিন্ন ব্যাঙের নামের আগে যুক্ত হতো, সেটাকে বাতিল করে নতুন জাতের প্রচলন ঘটান এই তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানী। এছাড়া ২০১৩ সালে ফিনল্যান্ডের ‘হেলসিঙ্কি কালচারাল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ লাভ করেন তার বিভিন্ন গবেষণাকর্মের জন্য। অ্যাওয়ার্ডটি জৈব প্রযুক্তি গবেষণার জন্য প্রতিবছর একজনকেই দেয়া হয়। সে বছর আমাদের এই তরুণ প্রাণিবিজ্ঞানী সাজিদই হলেন সেই একজন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত জার্নাল ‘প্লসওয়ান’ সাজিদ আলীর ‘ইউফ্লিকটিস কলসগ্রামেনসিস’ ব্যাঙ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর আগে এ রকম আরেকটি ব্যাঙের নাম ছিল ‘ইউফ্লিকটিস সায়ানোফ্লাইকটি’। ১৭৯৯ সালে সেটি জার্মান প্রকৃতিবিদ জে জি স্কুনেইডারের দেয়া। সাজিদের ব্যাঙটির জিনগত বৈশিষ্ট্য, আকার ও গঠন আগের ব্যাঙটির চেয়ে পৃথক হওয়ায় ‘ইউফ্লিকটিস কলসগ্রামেনসিস’কে নতুন ব্যাঙ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

বরিশালের কলসগ্রাম নামের জায়গা থেকে ব্যাঙটি আবিষ্কৃত হওয়ায় সাজিদ ব্যাঙটির বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে জুড়ে দেন কলসগ্রাম শব্দটি। এছাড়া সাজিদের ‘জাকেরানা ঢাকা’ নামের ব্যাঙটির আবিষ্কারের ঘটনা আরো তাত্পর্যপূর্ণ। ঢাকার মতো প্রবল ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা, যেখানে নগরায়নের ফলে অসংখ্য বন্যপ্রাণি বিলুপ্তির মুখে রয়েছে, সেখান থেকে নতুন বন্যপ্রাণি আবিষ্কার পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

সাজিদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায়। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় জন্ম নেয়া সাজিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ২০১১ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের আগেই ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে জীববিজ্ঞান বিভাগে ব্যাঙের শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যার (ট্যাক্সনমি) ওপর গবেষণা করার জন্য আমন্ত্রণ পাঠায়। পরবর্তীতে হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাজিদকে মাস্টার্স ছাড়াই বিশেষ ব্যবস্থায় পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানেও ‘সাজিদ যাদু’তে মুগ্ধ হন হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো সায়েন্স বিভাগ থেকে তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ‘ইকোলজি এ্যান্ড ইভ্যুলেশন’ বিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এই তরুণ। বর্তমানে পপুলেশন জেনেটিক্স ও ইভোল্যুশন বায়োলজির গবেষক হিসেবে সেন্ট্রাল ফিনল্যান্ডের এভাসকুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপিয়ান সবুজ ব্যাঙের উত্পত্তি ও বিবর্তনের উত্সমুখ খুঁজতে গবেষণার কাজে হাত দিয়েছেন তরুণ এই প্রাণিবিজ্ঞানী।

ড. সাজিদ আলী হাওলাদারের মতে, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ইউরোপের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বাংলাদেশের একটা অংশ ‘ইন্দো-বার্মা বায়োডাইভার্সিটি হটস্পট’এর অংশ। তাই বাংলাদেশের প্রাণীদের নিয়ে কাজ করে সারা পৃথিবীতে হৈচৈ ফেলে দেয়ার সুযোগ খুব বেশি। গোটা বিশ্বে প্রাণিবিদ্যা গবেষণায় যে কর্মযজ্ঞ চলছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে আমাদেরকে প্রচুর কাজ করতে হবে।

উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আওতায় স্বতন্ত্র প্রাণী জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেসব জাদুঘরে বাংলাদেশের নতুন প্রজাতি সনাক্তকরণ কাজের পাশাপাশি প্রাণী আবিষ্কার ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের উদ্যোগ বাইরের দুনিয়ায় বাংলাদেশের সুনাম যেমন বৃদ্ধি করবে, তেমনি দেশের গবেষণার মানকে আরো সামনে এগিয়ে নেবে।

প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি নিয়ে পড়াশুনার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন। এর অনেকে আর ফিরে আসেন না। পিএইচডি, পোস্ট-ডক্টরেট, গবেষণা, শিক্ষকতা করে দিব্যি দেশের বাইরে গোটা জীবন কাটিয়ে দেন। সারা জীবন দেশের সাধারণ মানুষের টাকায় পড়াশুনা করে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞানের অধিকারী হয়ে বিদেশে রয়ে যান।

ড. সাজিদ আলী হাওলাদার ফিরে আসবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি চাই প্রাণিবিদ্যা গবেষণায় বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। পিএইচডি শেষ করেছি, এবার দেশে ফিরতে চাই। আমার সমস্ত জ্ঞান ও শিক্ষা নিংড়ে দিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই। সম্ভব হলে শিক্ষকতার পাশাপাশি যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রাণী জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করবো, যেটা নতুন প্রজাতি সনাক্তকরণ, আবিষ্কার, সংরক্ষণ ও উচ্চতর গবেষণার একটি তারুণ্য নির্ভর প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে। আমি বিশ্বাস করি, আমার দেশ আমাকে এই সুযোগটি করে দেবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: