সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জামালগঞ্জে জলাবদ্ধতায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকার সম্ভাবনা

1. daily sylhet &জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে ছোট বড় প্রায় ১৩ টি হাওরের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকদের বোর ফসল আবাদ করার অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। একের পর এক সমস্যা সৃষ্টিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক কুল। উপজেলার বৃহত্তর ফসলী এলাকা বেহেলী-জামালগঞ্জ ইউনিয়নের হালির হাওর, ফেনারবাক-ভীমখালী ইউনিয়নের পাকনার হাওরের পানি নিষ্কাসন না হওয়ায় চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। তিন ভাগের দুই ভাগ কৃষি জমিতে চারা রোপন করতে পারলেও এক ভাগ জমি পতিত থেকে যায়।

জামালগঞ্জে গত বোর মৌসমে বোর ফসল উদপাদনের লক্ষ মাত্রা ছিল এক লাখ মেট্রিটনেরও বেশী যার বাজার মূল্য ২ শত ৩০ কোটি টাকা। উপজেলা বৃহত্তর ফসলী এলাকা পাকনার হাওর, হালির হাওর এই সময় কৃষকরা ব্যাস্ত থাকেন বোর ফসলের চারা রোপনের কাজে কিন্তু এবছর সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় অনেক কৃষকরাই জলাবদ্ধতার কারণে পোর জমি আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গঙ্গাধরপুর, ছয়হারা, রাজাপুর, বিনাজোরা, দৌলতপুর, ফেনারবাক, লক্ষীপুর, ভূতিয়ারপুর, সুজাতপুর, রামপুর, আলীপুর, গজারিয়া, বিষ্ণপুর, নিধিপুরের অনেক জমি পতিত থাকতে দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে কানাইখালী নদী থেকে গজারিয়া স্লুইস গেইট পর্যন্ত নদী পলি মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাসন হচ্ছে না। অপর দিকে হালির হাওরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় জামালগঞ্জের বৌলাই নদী যেন এখন মরা খাল। যে নদী পার হতে গিয়ে মরেও বেঁচে গেছি কোন রকম সাতরে তীরে উঠেছি সেই বৌলাই নদী বছরের পর বছর সীমান্তবর্তী ভারতীয় পলি এসে মরা খালে পরিনত হয়েছে। কথাগুলো বলেন, মমিনপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে নবী হোসেন (৭০)। আরো বলেন, লম্বাবাক গ্রামের সাবেক মেম্বার মোঃ সবর আলী (৬৫)। তিনি বলেন, কৃষকের পুড়া কপাল আর ফিরল না একটার পর একটা সমস্যা লাইগাই আছে। আগের বার নিল হিলে গত বার নিল পানিতে এই বার নিবে জলাবদ্ধতায়। বারবার কৃষকের সমস্যা কৃষকরাই পূরণ করতে হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড যেনতেন ভাবে কাম করে কৃষকের উপরে ফালাইয়া তুইয়া যায়। ধান পাকার সময় এক দিকে ধান কাটা আবার বেপারী সংকট অন্যদিকে বাঁধ রক্ষা করতে কৃষকরা ব্যাস্ত হয়ে যায়। এই যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। এই বার আবার নতুন সমস্যা হাওরের পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় প্রায় হাজার একর বোর জমি পতিত থাকার সম্ভবনা দেখা দিয়াছে। কামিনীপুরের জায়েদ আলী (৮০) বলেন, বৌলাই নদী দিয়ে লঞ্চ, ষ্টিমার, বড় বড় জাহাজ ভারতের বর্ডার টেকেরঘাট থেকে লক্ষ লক্ষ টন কয়লা কার্গ দিয়া সারা বাংলাদেশে যাইত ফাজিলপুরের বালু বৌলাই নদী দিয়া বড় বড় ট্রলার, কার্গ দিয়া সারা বাংলাদেশে যাইত হেই নদী এখন মরা খালে পরিনত হইছে। বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার সাথে বালি, চুনা পাথর, কয়লা যাওয়া বন্ধ হওয়া সহ পাহাড়ী ঢলে ভেসে আসা পলি মিশ্রিত পানি এসে নদীর তলা শুকিয়ে এখন মরুভূমিতে পরিনত হয়েছে। যার কারণে হালির হাওরের বেহেলী, আলীপুর, রাধানগর, লম্বাবাক, কালীপুর, কামিনীপুর, মমিনপুর, উল্টর কামলাবাজ, সাচনা রহিমাপুর, ঝুনুপুর,ইনছানপুরের হাজারো একর জমি পানি নিষ্কাষনের না হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে অতিদ্রুত পানি নিষ্কাষন না করা হলে হাজারো একর জমি পতিত থাকবে। কামিনীপুর গ্রামের জাকির হোসেন জানান জামালগঞ্জের বৌলাই নদী খননের অভাবে এখন জামালগঞ্জের মানচিত্র থেকে নদীটি হারিয়ে যাচ্ছে। আর সেই সুযোগে এলাকার মানুষ নদীর তীরবর্তী জায়গা দখল করে চাষাবাদ করছে। অনেকে আবার নদীতে বাঁধ দিয়ে অবৈধ ভাবে মাছ আহরণ করছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রভাবশালীরা দখল করে বাড়ী ঘর সহ চাষাবাদ করছে। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে নির্বিকার। তবে এলাকাবাসী কৃষক, জনতা, এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ প্রতি বছরেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলেও নিরাশায় কাটাতে হচ্ছে কৃষকদের। গতকাল নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তীর নিকট কামিনীপুর গ্রামের মৃত খোয়াজ আলীর ছেলে মোঃ জাকির হোসেন হালির হাওরে ছাতি ধরা বিলের পানি নিষ্কাসন করে অত্র এলাকার কৃষকদের ফসল আবাদ করার জন্য এলাকাবাসী পক্ষে আবেদন করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: