সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইসি পুনর্গঠনে এখনই আইন করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

1484224994নিউজ ডেস্ক:: সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। তারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিতর্ক এড়াতে আইন প্রণয়ন জরুরি। দরকার হলে অধ্যাদেশ জারি করে হলেও কমিশন গঠন করা উচিত।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব বলেন। ২০১২ সালে বিদায়ের আগে ‘ইসি নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের আলাদা খসড়া’সহ নির্বাচনী আইন সংস্কারে বিভিন্ন সুপারিশ করেছিল তত্কালীন ড. এটিএম শামসুল হুদার কমিশন। তার মধ্যে থেকে কিছু সুপারিশের বাস্তবায়ন হলেও আইন আর হয়নি। শামসুল হুদার ইসির করা সেই খসড়া নিয়েই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

গোলটেবিল আলোচনায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. শামসুল হুদা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি ভালো নির্বাচন কমিশন দরকার। যাদের আমরা কমিশনার বলব, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কী? অতীতে কোন দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিনা? অথবা কোনও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিনা? অথবা কোনও দলের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন কিনা? এই রকম লোককে নির্বাচন কমিশনার করলে তা নিরপেক্ষ হবে না।’

দ্রুত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করে সাবেক সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সংসদে আইন করুন, না হলে অর্ডিন্যান্স জারি করে কমিশনার নিয়োগ করা হোক। গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার রিপোর্ট বিবেচনা করে সঠিক কমিশনার গঠনের দাবি জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে শামসুল হুদা বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারেন, তাহলে জাতি তাকে চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

কমিশনে সদস্য কমানোর প্রস্তাব করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচজনের পরিবর্তে তিনজনকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করলে ভালো। কারণ তিনজন নিয়ে গঠিত হলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করা সহজ হবে।

দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সংলাপ করছেন এটা ভালো। এখন গণতন্ত্রের স্বার্থে হাসিনা-খালেদা যদি একবার বৈঠকে বসেন, তাহলে সমস্যার সমাধান সহজ হবে। এজন্য খালেদা জিয়ার উচিত প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেয়া। দরকার হলে তার সঙ্গে দেখা করা। তারা দু’জন এক সঙ্গে না বসলে রাষ্ট্রপতির এ সংলাপ হাওয়ায় উড়ে যাবে। তখন সরকার তার ইচ্ছামতো নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।

সভাপতির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, যেহেতু সংবিধানে বলা আছে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শ দেওয়াটা রহিত করা দরকার। এটা ব্যতিক্রম হতে পারে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগে উনি যেমন পরামর্শ দেন না, তেমন। এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগের জন্য যুগোপযোগী আইন করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়ার অনুরোধ করেন।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চান না, সেহেতু তিনি এবার নাম প্রস্তাব না করুন। রাষ্ট্রপতি তার মতো কাজ করুক। গোলটেবিল আলোচনায় আরো অংশ নেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শিক্ষক আসিফ নজরুল, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: