সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গ্রেনেডের আঘাতে সিলেটের আমিরুলের ফ্রেমবন্দী জীবন

1. daily sylhet 0-7জীবন পাল:: গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমিরুল হাঁটার ফ্রেমে ভর দিয়ে ডেইলি সিলেট অফিসে এসে তাঁর দুরবস্থার কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আজ ১২ জানুয়ারি ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৩ বছর পূর্তি। দিনটির কথা স্মরণ করে আমিরুল বলেন, ‘এ তারিখটি আমার জীবনে এক অভিশপ্ত দিন। এদিন গ্রেনেড হামলায় মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ায় আমি এখন শয্যাশায়ী। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমি জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে একাধিক আবেদন করেছিলাম। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই পর্যন্ত জেলা পরিষদ থেকে ২০ হাজার, সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে ১০ হাজার এবং বিভাগীয় কমিশনার থেকে ৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছি। সেই টাকা পাওয়ায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়ায় চিকিৎসা করাতে যায়। সেখানে থেকে চিকিৎসক আমার প্রাইমারী চিকিৎসা করার পর জানান আমাকে স্পাইনাল কর্ড সার্জারী করতে হবে। সেই চিকিৎসায় প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হতে পারে। টাকা সংগ্রহের জন্য আমি দেশে চলে আসি। আমাকে এক মাস পর সেখানের চিকিৎসক যেতে বলেছেন।

dsylht-12আমিরুল বলেন, ‘পরিবারে আমিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলাম। পঙ্গু হয়ে পড়ায় আমাদের প্রায় দিনই এখন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন। যেখানে খেতেই পারছি না, সেখানে চিকিৎসা করাব কেমন করে?’

বছর ১৩ আগে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ওরসে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন আমিরুল ইসলাম। ফ্রেম ছাড়া এখন তিনি হাঁটতে পারেন না l আমিরুল ইসলাম (৩৮) ছিলেন পেশায় বাবুর্চি। সুস্বাদু রান্নায় সিলেটে তাঁর জুড়ি ছিল না। নানা উৎসব-বিয়ে-শিরনিতে তাঁর ডাক পড়ত নিয়মিত। বাবুর্চির কাজ করে আমিরুল স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে দিব্যি ছিলেন। বাড়ি তাঁর সিলেট নগরের সাদীপুর এলাকায়।

২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি আমিরুলের জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। প্রতিবছরের মতো ওই দিন তিনি সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ওরস উপলক্ষে রান্নাবান্না করতে গিয়েছিলেন। দিনভর রান্না শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রান্নাঘর থেকে বের হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে জঙ্গিরা মাজারে গ্রেনেড হামলা চালায়।

গ্রেনেডের আঘাতে আমিরুলের মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য আহত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই মাস পর ঢাকা ও সাভারে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেন। নিজের সহায়-সম্বল আর জমানো টাকা খরচ করেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। এখন তিনি পঙ্গু অবস্থায় বাড়িতে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন।

fakhrul_islam

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: