সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মুসলিমরা অন্য সবার মতোই দেশপ্রেমিক

1484160817আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, মুসলিমরা অন্য সব আমেরিকানদের মতই দেশপ্রেমিক। তাদের বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়া ঠিক হবে না। ধর্ম বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, আমরা যদি সংবিধানকে রক্ষা করতে পারি তাহলে রাশিয়া কিংবা চীন কেউই আমেরিকার ক্ষতি করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টা) শিকাগোতে শেষ ভাষণে অশ্রুসিক্ত প্রেসিডেন্ট ওবামা এসব কথা বলেন। তিনি সবাইকে আমেরিকার গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সহায়তা করায় স্ত্রী মিশেল ওবামা ও সন্তানসহ সব আমেরিকানদের ধন্যবাদ জানান।

মুসলিম এবং গণতন্ত্র ইস্যু

প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব পোষণ সমর্থন করেন না। কারণ তারা আমাদের মতোই দেশকে ভালবাসেন এবং দেশের জন্য কাজ করেন। তিনি বিশ্বের ছোট দেশগুলোকে বোকা বানানোর চিন্তা মাথায় না আনার আহবান জানিয়ে বলেন, তাদের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, কেবল নির্বাচনের সময় নয়, গণতন্ত্রের প্রতি মুহূর্তে দেশবাসীকে প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, নিজের মতকে শ্রেষ্ঠ না ভেবে প্রমাণের ভিত্তিতে অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। তিনি যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন সামনে থেকে অনেকে চিত্কার করে বলছিলেন, আরো চার বছর, আরো চার বছর। ওবামা উত্তরে বলেন, সেটা সম্ভব নয়, কারণ সংবিধান আমাকে সেই ক্ষমতা দেয়নি। আর যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটা মাইলফলক হলো ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর। প্রেসিডেন্ট ওবামা মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে তিনটি বিষয়ে কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হচ্ছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য, জাতিগত বিভেদ এবং অলীক কল্পনা।

ভাষণের সময় ওবামা ছিলেন কখনো আবেগপ্রবন, কখনো আবার ঘরোয়া প্রকৃতির মানুষ, আবার তিনি কখনো হয়ে উঠেছেন তুখোড় রাজনীতিবিদ, হয়ে উঠেছেন কূটনীতিক। তিনি চেয়েছিলেন তার বক্তৃতা যেন সব আমেরিকানদের হূদয় স্পর্শ করে, এমনকি যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন তারাও যেন এই তালিকা থেকে বাদ না যায়। প্রেসিডেন্ট ওবামা আমেরিকার বর্তমান ক্ষমতাকে ধরে রাখতে আমেরিকানদেরই এগিয়ে আসার আহবান জানান। বিদায় বেলার ভাষণে শত্রু দেশকেও ছেড়ে কথা বলেননি ওবামা। তিনি রাশিয়া এবং চীনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানান।

বারাক ওবামা বলেন, পরিবর্তনের জন্য প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর নয়, বরং নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। বিশ্বাস রাখলে ইতিহাসের তাগিদেই সেই পরিবর্তন আসবে। তবে সাধারণ মানুষের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন ওবামা। তিনি বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে চাকরিতে কর্মী নিয়োগের আহবান জানান।

দুই মেয়াদের সাফল্য

ওবামা বক্তব্যের প্রথম দিকে তার টানা দুই মেয়াদের শাসনামলের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মন্দা মোকাবেলা, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা, আইএসের বিরোধী অভিযানে সফলতা, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি, কিউবার সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং সমকামী বিয়েকে বৈধতা প্রদান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি স্বাস্থ্য সেবা বিল ‘ওবামাকেয়ার’ সম্পর্কে বলেন, কেউ যদি আপনাদেরকে এর চেয়ে কম মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার নীতি দিতে পারেন তাহলে আমি তা প্রকাশ্যেই সমর্থন জানাবো। উল্লেখ্য, ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ক্ষমতায় এসেই ‘ওবামাকেয়ার’ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় ৪০ মিনিট ওবামার তার শেষ ভাষণটি মার্কিনীদের সামনে দেন।

শিকাগোবাসীকেও শ্রদ্ধা

শিকাগোতে প্রায় ২০ হাজার সমর্থকের উদ্দেশ্যে বারাক ওবামা বলেন, প্রায় সব বিবেচনাতেই আট বছর আগের তুলনায় আমেরিকা এখন অনেক ভাল ও শক্তিশালী দেশ। ৫৫ বছর বয়স্ক ওবামা ২০০৮ সালে আশা এবং পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি ওবামার কিছু নীতিতে পরিবর্তন আনবেন। আগামী ২০শে জানুয়ারি ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।

ভাষণের শুরুতে ওবামা বলেন, শিকাগো থেকেই আমার আর মিশেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই শহরই আমাদের ক্ষমতা এবং মৌলিক ভালোত্বের পাঠ পড়িয়েছিল। গত কয়েকদিনে আমি আর মিশেল আপনাদের থেকে যে শুভেচ্ছা পেয়েছি তা আমাদের দু’জনেরই মন ছুঁয়ে গেছে। প্রতিদিন আমি আপনাদের কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। আপনারাই আমাকে আরো ভালো প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আপনাদের জন্যেই আমি আরো ভালো মানুষ হতে পেরেছি। দীর্ঘ বক্তৃতায় ওবামা বলেন, গত আট বছরে তিনি বারবার শিখেছেন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততাই একটি দেশে পরিবর্তন আনতে পারে। পূর্বসূরীদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারাই আমাদের স্বাধীনতার, স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্নকে নিজের পরিশ্রম দিয়ে সফল করার সাহস দিয়েছেন। ২৪০ বছরের ইতিহাস প্রত্যেক প্রজন্মকে নতুন কাজ এবং জীবনের মূল্য শিখিয়েছে।

বাদ যায়নি স্ত্রী সন্তান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট

ওবামার সাথে ছিলেন স্ত্রী ও কন্যা। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের শেষ ভাগে স্ত্রী, কন্যা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ তার প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দেন ওবামা। সব শেষে তিনি তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত ২৫ বছরে তুমি শুধুমাত্র আমার স্ত্রী বা আমার সন্তানদের মা-ই নও, আমার সব থেকে প্রিয় বন্ধু হয়ে আমার পাশে থেকেছ। নতুন প্রজন্ম তোমাকে তাদের রোল মডেল হিসেবে দেখে। তুমি হোয়াইট হাউসে এসে উদাহরণ সৃষ্টি করেছ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবামা বলেন, তিনি তো কেবল ভাইস প্রেসিডেন্টই ছিলেন না, তিনি তার ভাইয়ের মতোই। তিনি বক্তৃতার শেষে প্রত্যেক দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের জন্যে কাজ করতে পারার সুযোগ পেয়ে তিনি ধন্য। ঈশ্বরের কাছে দেশবাসীর জন্যে শুভকামনা করেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এয়ারফোর্স ওয়ানে শেষ যাত্রা

বিদায়ী ভাষণ দেয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ এবং বিল ক্লিনটন তাদের শেষ ভাষণ হোয়াইট হাউসে বসেই দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা দিলেন শিকাগো গিয়ে। এই ভাষণ দেয়ার জন্য শিকাগোকে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে ওবামা বলেন, তিনি যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানেই শেষ করতে চেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৪৪৫তম বারের মত এয়ারফোর্স ওয়ান নামক বিমানটিতে করে শিকাগোতে যান ওবামা। ২০০৮ ও ২০১২ সালে নির্বাচনে জয়ের পরও ওবামা এখান থেকেই দেশবাসীকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট শিকাগোতে প্রেসিডেন্ট ওবামা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ৪৪৫ তম বার এবং শেষবারের মতো যাত্রা করেন। ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ এই বিমানে ১১৬ দিন বা ২ হাজার ৮০০ ঘন্টা কাটিয়েছেন। ওবামা বাকি দুই বছর ওয়াশিংটনে থাকবেন। কারণ এই দুই বছর তার কনিষ্ঠ কন্যা সাশা তার হাইস্কুল জীবন শেষ করবে। গতকাল বুধবার পরীক্ষা থাকায় সাশা ভাষণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেনি। তথ্যসূত্র : সিএনএন, বিবিসি ও রয়টার্স

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: