সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম  চা বাগান এলাকার  ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়  

1-daily-sylhetকমলগঞ্জ প্রতিনিধি:: দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় সমুহকে ধাপে ধাপে জাতীয়করণ করে সরকারি বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগান এলাকার ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ বঞ্চিত রয়েছে। মাসিক নামমাত্র সম্মানী পেয়ে নিজের অর্থে শিক্ষা উপকরণ ক্রয়সহ যাতায়ত ব্যয় নির্বাহ করে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণভুক্ত না হলে এক সময় বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হবে। চা শ্রমিক পরিবারের শিশুরা শিক্ষার সুবিধা বঞ্চিত হবে। কমলগঞ্জ উপজেলার ১২টি চা বাগান ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।
সরেজমিন দেখা যায়, সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘাছড়া, চাম্পারায়, কুরমা, কুরঞ্জী, মাধবপুর ইউনিয়নের মদনমোহনপুর, মাধবপুর, পদ্মছড়া,  পাত্রখোলা, শমশেরনগর ইউনিয়নের শমশেরনগর, কানিহাটি, ডবলছড়া ও দেওছড়া চা বাগানে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চাম্পারায় ও মদনমোহনপুর চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২০ সালে। কুরমাা চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে। কুরঞ্জী চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে। মাধবপুর চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। পদ্মছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। বাঘাছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। শুরু থেকেই এসব বিদ্যালয়ে চা বাগান কর্র্তৃপক্ষ একজন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সাপ্তাহিক বেতনের ভিত্তিতে একজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটি ক্লাসে পাঠদান করাতেন।
প্রধান শিক্ষকরা জানান, ২০১২ সালে সরকারী বিধি মোতাবেক প্রতিটি বিদ্যালয়ে চারজন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করলেও চা বাগান কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকদের সমহারে মাসিক ১২ শত টাকা বেতন প্রদান করছেন। এ টাকা দিয়েই শিক্ষা উপকরণ কিনতে ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত ব্যয়ই ঠিকমত হয় না। বাঘাছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক অনুপম কুমার সিনহা, কুরমা চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক  সুনিল কুমার পাল, মদন মোহনপুর চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সুমন বণিক ও মাধবপুর চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজীৎ নুনিয়া বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে সফল ফলাফল অর্জন করছে।
চাম্পারায় চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক চায়না খাতুন, কুরঞ্জী চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিপেন সাহা, পদ্মছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রওশন আলী ও পাত্রখোলা চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে গড়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে সরকারী নীতিমালা মেনে আন্তরিকভাবে শিশুদের পাঠদান করালেও আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলো ও শিক্ষকদের জাতীয় করণ করা হয়নি। স্বল্পহারে সম্মানি গ্রহন করে তাদের পক্ষে সংসারের খরচ চালানো দুরুহ বিষয় বলে তারা বিগত ৫ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পর্যন্ত যোগাযোগ করেও তাদের বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয় করণভুক্ত করতে পারছেন না। প্রধান শিক্ষক ও এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয়করণ ভুক্ত হওয়ার মত সকল প্রকার অবস্থা বিরাজমান থাকলেও তাদের বিদ্যালয়গুলো এখন জাতীয়করণ ভুক্ত হচ্ছে না। অথচ কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত একেবারে নতুন বিদ্যালয়ও জাতীয়করণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকরা আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী শ্রীমঙ্গল উপজেলার চা বাগানগুলোর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণভুক্ত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরী ও মনু-ধলই ভ্যালির (অঞ্চলের) সাধারন সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা কমলগঞ্জের ১২টি চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ বঞ্চিত হয়েছে ও শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপনের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারা আরও বলেন, সরকার যেখানে ঝড়ে পড়া রোধে অনেক চেষ্টা করছে সেখানে কিভাবে এই ১২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলো তা ভাবতে পারছেন না। বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। অন্যতায় এক সময় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, তিনি বদলী হয়ে কমলগঞ্জে নতুন এসেছেন। এসব বিদ্যালয় সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। তবে তার আগের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিস্তারিত জানতে পারবেন বলে তিনি জানান।  ইতিপূর্বে কমলগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা (বর্তমানে রাজনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা) ইফতেখায়ের হোসেন ভূঁইয়া ১২ টি চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ বঞ্চিত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, এর মাঝে পাত্রখোলা, চাম্পারায় ও পদ্মছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণভুক্ত হওয়ার সর্বশেষ তালিকায় নাম শিক্ষা অধিদপ্তরে গেছে। তিনি আশা করেন, বাকীগুলো হয়তো পর্যায়ক্রমে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: