সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হারিয়ে গেছে রাজধানীর অধিকাংশ পার্ক

1484106860নিউজ ডেস্ক:: রাজধানীর তিলপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মোরশেদ আলম তার চার বছরের ছেলে আদনানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সংসদ ভবন এলাকায়। ফুটফুটে বাচ্চাটি সেখানে বেলুন নিয়ে খেলছে, এদিক সেদিক ছুটোছুটি করছে। তাই সুযোগ পেলেই ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হন মোরশেদ। একটু খোলামেলা জায়গায় গিয়ে কাটান কিছুটা সময়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ছোট্ট ছেলেটির দিন কাটে রীতিমতো খাঁচায় বন্দি পাখির মতো। জানালা দিয়ে বাইরের আকাশ দেখা কিংবা পাশের বাড়ির অন্যকোনো বাচ্চার সঙ্গে চিত্কার করে একটু কথা বলা ছাড়া জগতের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ থাকে না তার। ইচ্ছে থাকলেও বাসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ মহল্লায় একটুখানি খোলা জায়গা, পার্ক কিংবা খেলার মাঠের কোনো অস্তিত্ব নেই। সেইসঙ্গে নিরাপত্তার ভয় তো সারাক্ষণই তাড়া করে সব বাবা-মাকে।

রাজউক এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হিসেব অনুযায়ী স্বাধীনতার পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত পার্ক ছিল ৪৭টি। কিন্তু বাস্তবে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় বড় জোর ১৫টির। একইভাবে ১৯টি খেলার মাঠের মধ্যে ৮টির অস্তিত্ব কোনোমতে টিকে আছে। বাকিগুলো বেদখল হয়ে গেছে নগর কর্তৃপক্ষের লোকজনের চোখের সামনেই। বিগত কয়েক বছরে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বার বার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে বেহাত হয়ে যাওয়া পার্ক ও খেলার মাঠগুলো পুনরুদ্ধার করে নগরবাসীর ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। কিন্তু গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও শ্যামলীর শিশুমেলা ছাড়া আর কোনো পার্ক বা খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নথিপত্রে থাকা ৪৭টি পার্কের মধ্যে রয়েছে গোলাপবাগ পার্ক, ধুপখোলা মাঠ, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পার্ক, সায়েদাবাদ পার্ক, বাহাদুর শাহ পার্ক, বাংলাদেশ মাঠ, নাজিরাবাজার পার্ক, সিরাজউদ্দৌলা পার্ক, আরমানিটোলা পার্ক, হাজারীবাগ পার্ক, হাজারীবাগ কসাইখানা পার্ক, রায়েরবাজার পার্ক, বাসাবো মাঠ, মগবাজার পার্ক, গুলিস্তান পার্ক, মতিঝিল বিআরটিসি ভবন সংলগ্ন পার্ক, বিমান অফিসের পূর্ব দিকের পার্ক, ওসমানী উদ্যান, ধানমন্ডি ৩ নম্বর গেট পার্ক, শেরশাহ সূরী লেন পার্ক, কলাবাগান পার্ক, কলাবাগান শিশু পার্ক, মুক্তাঙ্গন পার্ক, ধানমন্ডি পার্ক, লালমাটিয়া ডি ব্লক পার্ক, মোহাম্মদপুর শহীদ পার্ক, ইকবাল রোড শিশু পার্ক, ইকবাল রোড মাঠ, বাবর রোড পার্ক, তাজমহল রোড পার্ক, পশু হাসপাতালের সামনের পার্ক, স্বামীবাগ পার্ক, কাওরান বাজার পার্ক, বাংলামটর সংলগ্ন পার্ক, তালতলা পার্ক, গুলশান ট্যাংক পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক, গুলশান-২ নম্বর পার্ক, গুলশান পার্ক, বনানী পার্ক, নীমতলী পার্ক, আনন্দবাজার দক্ষিণ পার্ক, শ্যামলী পার্ক (ওভারব্রীজ সংলগ্ন), বংশাল মোড় পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, ইংলিশ রোড পার্ক এবং সার্ক ফোয়ারা সংলগ্ন পান্থকুঞ্জ পার্ক। এছাড়া ডিসিসির মালিকানাধীন খেলার মাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে, গোলাপবাগ মাঠ, বাংলাদেশ মাঠ, বাসাবো মাঠ, লালবাগ শ্মশানঘাট মাঠ, কিল্লার মোড় মাঠ, ধুপখোলা মাঠ, ধানমন্ডি মাঠ, কলাবাগান মাঠ, বনানী মাঠ ও গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক মাঠ।

কিন্তু এখনকার বাস্তব চিত্র হলো- যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় কখনো কোনো পার্ক ছিল তা আজ আর কল্পনা করারও কোনো উপায় নেই। মগবাজার পার্কটি কবে, কোথায় ছিল তা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও পরিষ্কার করে বলতে পারেন না। কাওরান বাজার ও বাংলামটর এলাকায় বহুকাল ধরেই কোনো পার্কের অস্তিত্ব নেই। মোহাম্মদপুর ও গুলশান-বনানী এলাকার পার্কগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকলেও অন্যসব এলাকার পার্কগুলো ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে গেছে। কোথাও পার্কের জায়গায় তৈরি হয়েছে মার্কেট বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। আবার কোথাও পার্ক দখল করে গাড়ি কিংবা রিকশার গ্যারেজ বানানো হয়েছে। অভিযোগ আছে, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজনের যোগসাজশেই বিভিন্ন সময় বেদখল হয়ে গেছে এসব পার্ক।

মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মালিকানায় ছিল অন্তত দুই ডজন পার্ক, কিন্তু আজকাল এসব পার্কের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক প্রভাবে স্বার্থান্বেষী মহল জবরদখল করে নিয়েছে এসব পার্ক। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও চন্দ্রিমা উদ্যান দখলমুক্ত রয়েছে এবং এগুলোর পরিবেশও তুলনামূলক ভালো। গুলশান ও বনানী এলাকার মাঠগুলোও তুলনামূলক অক্ষত রয়েছে। এছাড়া বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত পার্কটি দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে বারিধারা সোসাইটি। এ কারণে পার্কটির সামগ্রিক পরিবেশ যথেষ্ট ভালো। এছাড়া গুলশান ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও শ্যামলী শিশু পল্লী পার্কটি উদ্ধার করা হয়েছে। যা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার নবাবগঞ্জ পার্কটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার শিকার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সাইন বোর্ড দিয়ে পার্কের ভিতর যে কোনো ধরনের বিয়ে, গায়ে হলুদসহ অন্য অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান মো.বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, ১৯৮৭ সালের এক সার্কুলার অনুযায়ী রাজউকের নির্মিত সকল পার্ক, খেলার মাঠ, মার্কেট ও রাস্তাঘাট ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি করপোরেশনের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক পার্ক ও খেলার মাঠ বেদখল হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. সাঈদ খোকন বলেন, রাজধানীবাসীকে পরিকল্পিত ও পরিবেশ সম্মত নগরী উপহার দেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। পুরান ঢাকার প্রতিটি পার্ক ও খেলার মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরনো তালিকা মোতাবেক অবশিষ্ট খেলার মাঠ ও পার্কগুলো উদ্ধার করে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা চলছে। – ইত্তেফাক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: