সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনা নেই

1483935593নিউজ ডেস্ক:: দেশে ভূমিকম্পের মত দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনতে সঠিক পরিকল্পনা নেই। এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি নীতি নির্ধারকরা এখনও সচেতন নন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই। তাই ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশের অভাবনীয় ক্ষতি হবে। এই ক্ষতির মাত্রা আরো বাড়াবে ভবন নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়িত না হওয়ায়।

গতকাল রবিবার রাজধানীতে ব্রাক ইন সেন্টারে ‘ভূমিকম্পে সাড়াদান ও প্রস্তুতি: ঘাটতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কর্মরত ১০টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সংগঠন ‘নারী কনসোর্টিয়াম’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাসিরউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম। নগর ঝুঁকির দিক দিয়ে ১১তম। এখন বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ শহরে বাস করে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটি হবে ৫০ শতাংশ। এটি ঝুঁকির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেবে। অথচ ভূমিকম্পের মত দুর্যোগের মোকাবেলা এবং ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনতে সঠিক পরিকল্পনা নেই। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যাও খুবই কম।

বক্তারা বলেন, নির্দেশনা তৈরির ২০ বছর ও আইন হওয়ার প্রায় ১০ বছর পরেও বাস্তবায়ন হয়নি ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’। এ কারণে অপরিকল্পিতভাবে শহর এবং গ্রামে ভবন নির্মাণ বাড়ছে। অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় আগে যন্ত্রপাতি ছিল না বললেই চলে। গত দুই-তিন বছরে প্রায় ২২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আগামীতে আরো প্রায় ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ‘বিল্ডিং কোড যদি বাস্তবায়ন করা যায় তবে ৯০ শতাংশ ঝুঁকি কমানো যায়। তাই ভবন নির্মাণ বিধিমালা প্রয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান মাকসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। দুঃখের বিষয়, ভবন নির্মাণ বিধিমালা এখনও আমরা প্রয়োগ করতে পারিনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, ডিসিসি মার্কেট ধসে পড়ার আগে আমি মার্কেট কমিটিকে বারবার অনুরোধ করেছি যে আপনাদের ভবনের পরিস্থিতি খুব খারাপ। যখন বলছি, তখন তারা কানে তোলেনি। এরকম পরিস্থিতি প্রায় সব জায়গায়।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘এত বিশাল জনগষ্ঠির দেশে ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। ভয়াবহতা মাথায় নিয়ে কাজ করা খুবই জরুরি।’ এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় শুধুমাত্র রাজউক বা সরকারের উপর ভরসা করলে হবে না। আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: