সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৮ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে ব্যবসায়ীদের কর্মসূচি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত

unnamed-6শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা:: শ্রীমঙ্গলে বিজিবি কর্তৃক ব্যাবসায়ী ও নিরীহ জনসাধারণের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে পাল্টা-পাল্টি কর্মসুচি দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়িরা। শনিবার সকাল ৬ টা থেকে মৌলভীবাজার জেলায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। তাদের দাবী বিজিবি কর্তৃক ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরন প্রদান এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত শনিবার সকাল ৬ টা থেকে মৌলভীবাজারে অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘট চলবে এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হবে। একই দাবীতে শনিবার সকালে মৌলভীবাজার জেলা ট্রাক মালিক সমিতির উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্তওে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সভাপতি মো: আখতার আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মো খয়ের খানসহ মালিক নেতারা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা শতশত পর্যটক।

অন্যদিকে ব্যবসায়িরা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটি সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার থেকে এক সাপ্তাহ সময় বেধে দিয়ে তাদের কর্মসুচি স্থগিত করেন। অন্যদিকে প্রশাসনসহ সমঝোতায় নিয়োজিত জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিজিবি সদস্য কর্তৃক এ হামলায় দু:খ প্রকাশ ছাড়া এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসাবে অফিসারসহ বেশ কয়েকজন বিজিবি সদস্য কে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলেও জানান। এছাড়া ক্ষতিপুরণ দেওয়ার কথা বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমদকে প্রধান করে ৪ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্ত্বরে এক সভায় সংঘঠিত ঘটনায় সমঝোতায় নিয়োজিত জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়িদের এক এ কথা জানান। শ্রীমঙ্গল পৌর সভার মেয়র মো: মহসিন মিয়া মধুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চিফ হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো: আব্দুস শহীদ এমপি। আওয়ামী লীগ নেতা এনাম আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এসময় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রণধীর কুমার দেব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আছকির মিয়া, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান প্রমুখ। সাবেক চিফ হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো: আব্দুস শহীদ এমপিসহ বক্তারা জানান, শুক্রবার রাতে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে বিজিবি, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন শ্রমিক নেতা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের উপস্থিতিতে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা তাদের ঘোষিত কর্মসুচি এক সাপ্তাহের জন্য স্থগিত করলেও পরিবাহন শ্রমিকরা তাদের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে সুন্দর ও সম্প্রীতি কোন একটি গোষ্ঠির হাতে নষ্ট হতে দেওয়া যাবেনা। তারা পরিবহন শ্রমিকদেও তাদের পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহবান জানান।

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শুরু এই পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন। আটকা পরেছেন কয়েক শত পর্যটকও। সকালে শহরে কোন ধরনের সঙ্ঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। থম থমে পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচলও কমে গেছে। পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা আছেন উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। শহর জুড়ে মোতায়েন করা আছে অতিরিক্ত পুলিশ।
উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের পানসী রেষ্টুরেন্টের সামনে সংঘটিত বিজিবি ও পরিবহণ শ্রমিক সংঘর্ষের জের ধরে শ্রীমঙ্গল ৯নং সেক্টর সদর দপ্তর থেকে শতাধিক বিজিবি সদস্যরা এসে নির্বিচারে শহরের দোকান-পাট ভাংচুর, ব্যবসায়ী, পথচারীসহ নিরিহ জনসাধারণের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। প্রায় ২ঘন্টা ব্যাপি চালানো এই হামলায় ৬জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। প্রায় শতাধিক দোকান-পাট ও শহরে অবস্থিত প্রচুর গাড়ী ভাংচুর করেছে বিজিবি সদস্যরা।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

ধর্মঘটের কারণে ঢাকা-সিলেট সহ সরাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল থেকে দুরপাল্লা বা সল্পপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছেনা পরিবহণ শ্রমিকরা। এই পরিস্থিতিতে কাঁচামাল পরিবহণ বন্ধথাকায় শীতকালিন সব্জি বা ফল চাষিসহ কাচামাল ব্যবসায়ীরা আছেন বিপাকে। ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে তাদের পণ্য পচে যাওয়ার সম্ভাবনা আশঙ্কা রয়েছে। শ্রীমঙ্গল ঘরতে আসা পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন, তারা রেষ্টহাউজ বা হোটেলের বাইরে বের না হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছেন। আর যারা আজকের মধ্যে শ্রীমঙ্গল ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তাদের ভোগান্তি আরও বেশি। আর যারা আজ আসার কথাছিল তারাও আছেন, অনিশ্চয়তায়।

এদিকে এই ঘটনায় বিজিবির কোন বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ৪৬ বিজিবি ব্যটালিয়নের পক্ষ থেকে তারা ই-মেইলে তাদের একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে। ভাংচুরের ঘটনায় বিজিবি জড়িত নয় বলে জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: