সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এফডিসির দুরাবস্থা নিয়ে চিন্তিত শিল্পীরা

actress24বিনোদন ডেস্ক ::
গত বৃহস্পতিবার ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। পরিচালকদের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন অনেক অভিনেতা। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপশি চলচ্চিত্রের বর্তমান দৈন্যদশা নিয়ে কথা বলেছেন তারা। সেখান থেকেই কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি।

মিশা সওদাগর
দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের চলচ্চিত্র খারাপ সময় পার করছেন। এই দৈন্যদশা থেকে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে পরিচালকদের ভুমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি একজন শিল্পী। আর একজন শিল্পী হিসেবে আমি পরিচালকদেরকে “মা” আর প্রযোজকদের “বাবা” বলে মনে করি। আর একটি চলচ্চিত্রের কাজের মাধ্যমেই একজন শিল্পী এই অঙ্গনে ভুমিষ্ট হন। যে কারণেই এই গর্ভধারনের ক্ষমতা সম্পূর্ণদেরই পরিচালনায় আসা উচিৎ। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখ্যজনক হলেও সত্যি যে, অনেক নতুন পরিচালক আসছে যারা পরিচালনার সম্পূর্ণ যোগ্যতা রাখেনা। তাই পরিচালক সমিতিকে বলবো আপনার নতুন পরিচালকদের সমিতির অনুমোদন দেওয়ার সময় এই বিষয়টা অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে দেখবেন।

ওমর সানী
আমরা নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে এসেছি। আমাদের সময়কে বলা হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ। তখন পরিচালনায় যারা আসতেন তাদের অনেক সময় ব্যয় করে শিখে আসতে হতো। একজন পূর্ণ পরিচালকের সাথে সহকারী হিসেবে কয়েক বছর কাজের পর কেউ পরিচালনার সাহস করতেন। কিন্তু এখন যে কেউ চাইলেই পরিচালক হয়ে যাচ্ছে। মেধা ও দক্ষতাহীনরা যদি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন তাহলে তার ফল কি করে শুভ হবে? এখন চলচ্চিত্রের যে অবন্থা, তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। বিষয়টি নতুন পরিচালক সমতি গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখবেন।

গাজী রাকায়েত
মনোবিজ্ঞানিদের এক গবেষনায় প্রকাশ যে, মানুষের উপভোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভ্রমণ করা ও হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। হলে গিয়ে সিনেমা দেখে দর্শক স্বর্গের সুখ আনুভব করেন। কিন্তু আমাদের দর্শকরা সেই বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা দর্শকদের হলে ফেরাতে পারছিনা। এটা চলচ্চিত্র সংস্লিষ্টদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতাকে ডিঙ্গয়ে দর্শকদের হলে ফেরাতে হবে।

রুবেল
বিএফডিসি বঙ্গবন্ধর হাতে গড়া। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বাংলাদেশের হলে উপমহাদেশের কোন চলচ্চিত্র পদর্শিত হবে না। এই দেশে বঙ্গকন্ধুর দেশ । বঙ্গবন্ধু কণ্যা এদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালিন সময়ে কিভাবে ভারতীয় চলচ্চিত্র এদেশে প্রদর্শন হয়? তারা কারা যে, বঙ্গবন্ধুর কথা অমান্য করে এদেশের চলচ্চিত্রকে ধংসের দিকে ঠেলছে। মিশা সওদাগড় ওমরসানীর সাথে একাত্ব হয়ে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নে পরিচালকদের গুরুত্ব অপরিসীম। জাহাজের নাবিকের মত তারা চলচ্চিত্রের নাবিক। গাজী রাকায়েতের কথার সূত্র ধরে রুবেল বলেন, হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখা স্বর্গের সুখ পাওয়ার মত। কিন্তু আমাদেরে দেশের হলগুলোর যে পরিবেশ সেখানে স্বর্গের পরিবর্তে নরকের কষ্ট। হাতে গোনা কয়েকটি হলের বাইরে সকগুলোতেই তিন ঘন্টা বসে থাকার অবস্থা নেই। তাই হলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে না পারলে। দর্শক কি করে ফিরবে?

রিয়াজ
এফডিসিতে অনেক লোকজন, কিন্তু এতগুলো ফ্লোরের কোথাও কোনো শুটিং হচ্ছেনা। এফডিসি একরকম মরুভূমি। সিনেমা তৈরির কারখানায় যদি সিনেমা উৎপাদনই বন্ধ হয়ে যায়, তা দেখতে বড়ই কষ্ট লাগে।’ তিনি মনে করেন ‘আমরা হয়তো অভিমান করে সরে না গেলে এমনটা হতো না। ভালো পরিচালক বা সে রকম গল্প কিংবা যাঁদের কাছ থেকে আমরা কিছু শিখব বা জানব, সে রকম কাউকে না পাওয়ায় আমরা সরে দাঁড়িয়েছি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: