সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিজিবি ও পরিবহন শ্রমিক সংঘর্ষে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

1-daily-sylhet-0-3নিজস্ব প্রতিবেদক:: বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে এক বিজিবি সদস্যের কথা কাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষে দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। এই কর্মসূচি পালনের লক্ষে শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক নেতা ছাড়াও শ্রীমঙ্গলের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ঝিনু মিয়া জানান, এর সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে এই ধর্মঘট। সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট চলবে।52

উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার গাড়ি পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে শ্রীমঙ্গলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দুই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় কমপক্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছে। হামলা-সংঘর্ষে ৩ শতাধিক যানবাহন ও দোকান পাট ভাংচুর হয়েছে। এ ঘটনায় সারা শহরের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদে চলে যায়। শহরে ভুতূড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এদিকে, আহতদের মধ্যে ৭ জনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও গুরুতর আহত একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর বিজিবি ও পরিবহন শ্রমিকরা একে অপরকে দোষারোপ করছে।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা বন্ধ হওয়া দোকান পাট খুলে দিতে ব্যবসায়ীদেরকে আহবান জানান।

সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যানবাহন চালক, স্থানীয় জনগণের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের উত্তরসূর এলাকার সিএনজি পেট্টোল পাম্পের সম্মুখে সিএনজি অটোরিক্সা চালক ও বিজিবির এক সদস্যের মধ্যে গাড়ি পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর পুনরায় পানসী রেস্টুরেন্টের সম্মুখে পরিবহন শ্রমিকদের স্ট্যান্ডের পাশে দুজনের মধ্যে মৃদু হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর বিজিবির ওই সদস্য স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ জানালে ৫০/৬০ জন বিজিবি সদস্য ঘটনাস্থলে আসে। এসময় পরিবহন শ্রমিকরা বিজিবি সদস্যদের উপর চড়াও হয়।

এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘন্টা সংঘর্ষ চলাকালে শ্রীমঙ্গল চৌমোহনা থেকে পানসী রেস্টুরেন্ট এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কার, মাইক্রোবাস, যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও স্ট্যান্ডে অবস্থানরত প্রায় ২ শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করা হয়। এসময় সিএনজি পাম্প, বিভিন্ন মার্কেটের কাপড়ের দোকানসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক দোকানপাটের গ্লাস, দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। পানসী রেস্টুরেন্টের বাইরে সাইনবোর্ড, ভেতরের গ্লাস, আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয় বলে বিজিবির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। তবে ঘটনার জন্য পরিবহন শ্রমিকরা বিজিবিকে এবং বিজিবি পরিবহন শ্রমিককে দায়ী করছে।

এসময় শ্রীমঙ্গল শহরের শাপলা আবাসিক এলাকার জিতেন্দ্র পালের ছেলে পবিত্র পাল (৩০) ও মৃত সুনাতন দাশের ছেলে সুকুমার দাশ (৫০), শ্রীমঙ্গলের নতুনবাজার এলাকার জমসেদ এর ছেলে শাহ আলম (৩০)ও শ্রীমঙ্গলের সেলিম মিয়ার ছেলে মো. ইকবাল মিয়াসহ (২০) আটজন আহত হন। এর মধ্যে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহতরা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. পলাশ রায় জানান, আহতদের অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। গুরুতর আহত একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল বিজিবির অধিনায়ক ল্যাফটেন্যান্ট কর্ণেল সাজ্জাদ সাংবাদিকদের জানান, পরিবহন শ্রমিকরা বিজিবি উপর হামলা চালিয়েছে। বিজিবি আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। ভাংচুর ও সংঘর্ষের জন্য বিজিবি দায়ী নয় বলে তিনি জানান।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, ঘটনা তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: