সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দশ বছর পর ফেসবুকে খোঁজ মিললো সিলেটী বৃদ্ধের!

death_dailysylhetমারুফ হাসান:: সিলেট গোলাপগঞ্জের আব্দুল মন্নান। বয়স ৭০ এর বেশি। নিখোজ ছিলেন ১০ বছর। ফলে হয়ে পড়েছিলেন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন । অনেক সন্ধান করে আব্দুল মন্নান কে না পাওয়ায় হতাশ হয়ে এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন তার স্বজনরা। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে ! অবশেষে নয় সন্তানের জনক আব্দুল মন্নানের খোজ মিললো ফেসবুকে।

জানা গেল’ তিনি ভর্তি আছেন ঢাকার একটি হাসপাতালে । ৫০ তরুণ-তরুণীদের গড়া একটি ফেসবুক গ্রুপে তার ছবি দেওয়ার পর প্রবাসে থাকা ছোট ছেলে সনাক্ত করে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে। ফলে তাকে ঘরে ফেরাতে ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌছেছেন তার আত্নীয় স্বজনরা । প্রথমে চিনতে না পারলেও কিছুক্ষন দেখার পর সবাইকে চিনতে পেরেছেন আব্দুল মন্নান। অস্থির হয়ে উঠেছেন বাড়ি ফেরার জন্য ।

জাতীয় একটি অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টার সময় রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বসে কাঁদছিলেন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। এ সময় স্টেশনে টিকিট কাটতে গিয়ে বৃদ্ধের কান্নার দৃশ্যটি চোখে পড়ে রেজাউল করিম নামে এক যুবকের। পরদিন এই দৃশ্য দেখে সেই রেজাউলি করিম বৃদ্ধের কাছে যান এবং কান্নার কারণ জানতে চান।

বৃদ্ধ জানান, তার নাম আব্দুল খালেক। সন্তানরা সব সম্পত্তি নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। রেজাউল করিম বৃদ্ধের কিছু ছবি তোলেন এবং রাতে বৃদ্ধের করুণ কাহিনী তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেই সঙ্গে পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় আব্দুল খালেককে হাসপাতালে ভর্তির জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুদের সাহায্য চান। পরদিন সকাল ৯টায় স্টেশনে গিয়ে কোনো বন্ধুকে না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন রেজাউল করিম।

এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে সেখানে দুজন লোক ভাড়া করে বৃদ্ধ আব্দুল খালেককে গোসলের ব্যবস্থা করেন এবং নতুন কাপড় কিনে সেগুলো পরান। পরে তাদের সহযোগিতায় তিনি তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আব্দুল খালেককে হাসপাতালে ভর্তির পর রেজাউল করিম এ কাজে কোনো বন্ধুকে কাছে না পাওয়ায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এরপর Desperately Seeking-Explicit (DSE) নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা ঝাঁপিয়ে পড়েন।এরপর থেকেই DSE গ্রুপের সদস্যরা প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টায় মোট ছয় তরুণ-তরুণী আব্দুল খালেকের দেখভালের দায়িত্ব নেন এবং তারা সারাক্ষণ তার বিষয়গুলো তাদের গ্রুপে জানান দেন। এ সময় অনেকেই তাদের এই মিশনে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়ালেও তারা বৃদ্ধের জন্য খাবার বা ওষুধ অথবা কাপড় কিনে দেয়ার অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে রেজাউল করিম জানান, বৃদ্ধ বাবার করুণ কাহিনী জানার পর এ পর্যন্ত চারজন বন্ধু আমাকে প্রায় ৫ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বাকি টাকা আমিই ব্যবস্থা করেছি। গত কয়েকদিনে এই কাজে দৌড়ানোর কারণে অনেক ক্লান্ত আমি। কিন্তু যে তৃপ্তি আমার মাঝে কাজ করছে তা বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। প্রতিটি ভালো কাজে আল্লাহ পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিয়ে রেখেছেন।

এই বৃদ্ধই সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ (দেওপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল মন্নান। প্রায় ১০ বছর আগে ২০০৭ সালে নিখোঁজ হন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বৃদ্ধের ভাতিজা জিল্লুর রহমান। ডেইলি সিলেটের সাথে আলাপকালে জিল্লুর আরো জানান, চাচা নিখোজ হবার পর আমরা অনেক খুজেছি তাকে পাইনি সেই সময় আমরা গোলাপগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি করি।

তিনি বলেন, আমার এই (আব্দুল মন্নান) চাচার ৫ ছেলে ৪ মেয়ে। তিন ছেলে প্রবাসী। প্রবাসে যারা থাকেন তাদের মধ্যে সবার ছোট ভাই ফেসবুকে চাচার ছবি দেখে চিনে ফেলে। এবং গ্রামের বাড়িতে খবর পাঠায়। তার দেয়া খবরে আমরা ঢাকায় আসি। এখন চাচা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা সবাই এখন পাশে আছি।

জিল্লুর আরো জানান, প্রথম প্রথম চিনতে না পারলেও এখন তিনি সবাইকে চিনতে পারছেন। তার মেয়েদের তিনি নাম ধরে ডাকছেন। দীর্ঘ সময় অযত্নে অবহেলা কেটেছে বিধায় চাচার কিছুটা মানসিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। তবে এখানে চিকিৎসার পর তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ্য।

আব্দুল মন্নানের ছেলেরা সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়ে বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জিল্লুর বলেন, প্রশ্নই উঠে না, প্রথমদিকে উনি ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না, এমনকি নিজের নামটিও ভুল বলছিলেন । আব্দুল খালেক নামে উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কিন্তু আসলে উনার নাম আব্দুল মন্নান। তার বর্তমান শারীরক অবস্থা কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে জিল্লুর বলেন, রেজাউল করিম (যিনি উদ্ধার করেছেন) ভাই যে অবস্থায় চাচাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন সেই তুলনায় অনেক ভালো।

যারা উদ্ধার করেছেন তারা ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আত্নীয়তার সুত্র নিশ্চিত করেই আব্দুল মন্নান কে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তিনি সবাইকে চিনতে পারায় তা করা হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে সিলেট আনার প্রস্তুতি চলছিলো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: