সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বরিশালে বিএনপির কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার অভিযোগ, আহত ১৫

1483612138নিউজ ডেস্ক:: নগরীতে বিএনপি ঘোষিত ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশের প্রস্তুতিকালে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের দফায় দফায় হামলায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। মহানগর বিএনপি জানিয়েছে, এ হামলায় তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সমাবেশের প্রস্তুতিকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং পরবর্তীতে সদর রোডে দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদারসহ জেষ্ঠ্য নেতাদের পুলিশ লাঠিপেটা করে।

বরিশাল মহানগর আ্ওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকে গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, সারাদেশেই বিএনপির মধ্যে যে অভ্যান্তরীণ কোন্দল তারই একটা বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বরিশালে। তাদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণেই আজকের ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত না।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক হামলার দাবি অস্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে বিএনপি হামলার নাটক সাজিয়েছে। বিএনপি নিজেরাই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উপর দায় চাপাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও কালোপতাকা উত্তোলন কর্মসূচীর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রাজপথ দখলে রাখার পাল্টা কর্মসূচী সেখানে আগেই অবস্থান গ্রহনকারী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠি সোটা নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলায় বিএনপি নেত্রী কামরুন্নাহার রোজী, সংরক্ষিত কাউন্সিলর তসলিমা কালাম পলি, মামুন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপির নেত্রী সেলিনা রহমান, আজাদ সিকদার, আসাদুজ্জামান মারুফ, জয়নব বেগম, বাবুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। কামরুন্নাহার রোজীর উপর হামলা চালানোর ভিডিও চিত্র ধারনের সময় চ্যানেল আই’র ক্যামেরাপারসনকে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া স্থানীয় পত্রিকার সংবাদকর্মী নাদিম মাহমুদ, শামীম আহমেদ ও সুমনকে পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করে। আহতদের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়।

মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার গোলাম রউফ জানান, সকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। একই সময় কিছুটা অদূরে সদর রোডে অবস্থান করছিল শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে একটি বোতল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে। এতে আওয়ামী লীগের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

পরে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়া বিএনপির দক্ষিণ জেলার সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়া সিকদারসহ জেষ্ঠ্য নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে বের হয়ে যান। অনামি লেন পর্যন্ত যাওয়ার পর পিছন থেকে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশ জেলা বিএনপির সভাপতি, সম্পাদক ও মহানগর সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন জেষ্ঠ্য নেতার উপর লাঠিচার্জ করে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: