সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৮ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বেদেরাও চায় সন্তানেরা লেখাপড়া শিখে ভিন্ন পেশা বেছে নেবে

1483607289নিউজ ডেস্ক:: মোরা এক ঘাটেতে রান্ধি-বাড়ি, মোরা আরেক ঘাটেতে খাই, মোদের ঘরবাড়ী নাই। সব দুনিয়া বাড়ি মোদের,সকল মানুষ ভাই। জনপ্রিয় এই লোক সঙ্গীতটি কানে ভেসে আসলেই চোখের সামনে চলে আসে যে ছবি তার নাম বেদে অর্থাৎ বেদে সম্প্রদায়। গ্রামের মেঠোপথে ঘুরে শিঙ্গা লাগানো আর সাপ খেলা দেখান এদের প্রধান পেশা হলেও বর্তমানে বেশির ভাগ বেদেরাই চায় তাদের সন্তানেরা লেখাপড়া শিখে ভিন্ন পেশা বেছে নিক। তাদের মধ্যেই অনেকেই বুঝতে পেরেছে শিঙ্গা লাগানো আর সাপ খেলা দেখান ভাল পেশা হতে পারে না।
দ্বীপ জেলা ভোলার জলে স্থলে সবখানেই দেখা মিলছে বেদেদের । কখনও খালের মোহনায় বা নদীর কূলে নৌকার মধ্যে আবার  কখনও শহরের ব্যস্ত এলাকার কোন  খালি জায়গায় নৌকার মত ঘর তুলে তাদের বসত । অনুসন্ধান করে দেখা গেছে নৌকায় থাকা নারী ও পুরুষেরা প্রধানত নদী ও খালে মাছ ধরে তা লোকালয়ের বাজারে এবং দাদন নেয়া মাছের গদিতে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে । অন্য দিকে ডাঙ্গায় নৌকার মত খুপরি করে থাকা বেদে সম্প্রদায়ের নারীরা বিভিন্ন এলাকায় শিঙ্গা লাগিয়ে আর সাপ খেলা দেখিয়ে যে আয় তা দিয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে বেচে আছে মাত্র। ডাঙ্গায় থাকা বেদে পুরুষদের বেশিরভাগই নৌকার মত খুপরি ঘরে থাকতে দেখা গেছে । আবার কেউ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে পুকুরে হারানো অলংকার খুঁজে বেড়ায়।
ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাগমার ব্রিজের উপর কথা হয় বেদে সম্প্রদায়ের পুরুষ মো: নুর ছালাম (৩২) এর সাথে। তার বাবার নাম মকছুদ সর্দার, বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়। মো. নুর ছালামরা ৬ ভাই আর ৩ বোন। এই সম্প্রদায়ের মধ্যেই তাদের বিয়ে। তার ভাইবোন সবাই বেদে। বেদেদের প্রধান পেশা শিঙ্গা লাগানো আর সাপ খেলা দেখিয়ে যে আয় হয় তা দিয়েই সংসারের খরচ চালায়।
মো: নুর ছালাম জানায় তার দাদা লেদু মিয়া বহু বছর পূর্বে চট্টগ্রামের মিরসরাই এসে বসত করে। জাতিতে বেদে লেদু মিয়া সাধু নামের একটি বানর নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বানরের ইশারা ইঙ্গিতে মানুষের ভাগ্য গুনতেন আর ভবিষ্যৎ বলতেন। দাদা  লেদু মিয়ার মৃত্যুর পর মো: নুর ছালাম দাদার বানর সাধুকে নিয়ে বেছে নেন দাদার মত ভাগ্য গোনার পেশা । তার ৩ সন্তান এর মধ্যে ১৪ বছরের অপু আর ৮ বছরের শান্তকে লেখাপড়া করাচ্ছেন মিরসরাই জোরানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শরীফা আকতা আর ছোট কন্যা হাফছানা আকতারসহ নৌকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায় । যেকোনো ঘাটে নৌকা বেধে  স্ত্রী শরীফা চলে যায় গ্রামে শিঙ্গা লাগাতে আর নুর ছালাম বানর সাধুকে নিয়ে বেড়ায় মানুষের ভাগ্য গুনতে । ভাগ্য গোনার নির্দিষ্ট কোন রেট নেই যে যা দেয় তাতেই সে খুশি । ভোলা জেলা সদরের বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল আর আর ফায়ার সার্ভিস অফিসের মাঝ খানে হেলিপ্যাড সড়কে বসত করা একদল বেদের অস্থায়ী বাস। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এরা না খায়ে এসেছে বিক্রমপুর লৌহজং থেকে । ৬০ বছরের মনজিলা আর ২০ বছরের বৃষ্টির সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের পরিবারের সদস্যরা পূর্ব পুরুষের পেশাই ধরে রেখেছে । তারা অন্য কোন কাজ শেখেনি বা কেউ লেখাপড়াও করেনি তাই এই বেদে সম্প্রদায়ের নারীরা বিভিন্ন এলাকায় শিঙ্গা লাগিয়ে আর সাপ খেলা দেখিয়ে যে আয় তা দিয়ে কোন মতে খেয়ে নাখেয়ে বেচে আছে মাত্র। ডাঙ্গায় থাকা বেদে পুরুষদের বেশিরভাগই নৌকারমত খুপরি ঘরে থাকতে দেখা গেছে । আবার কেউ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে পুকুরে হারানো অলংকার খুঁজে বেড়ায় । তবে বৃষ্টি আরো জানায় তাদের পরিবারের নতুন সদস্যদের তারা লেখাপড়া শেখাতে আগ্রহী । তার ভাই এবং ভাইর বউ বেদে পেশায় থাকলেও তাদের সন্তানদের লৌহজং খড়িয়া গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছেন। তারা এখন বুঝতে পেরেছেন গ্রামে ঘুরে শিঙ্গা লাগান আর সাপ খেলা দেখান পেশা হতে পারেনা । তার চান সরকার বা বিভিন্ন সংস্থা তাদের পাশে দাঁড়াক তাদের সন্তানরা লেখাপড়া শিখে ভাল কাজ করুক। দেশের কাজে লাগুক।
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: