সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৫০ তরুণ-তরুণী দাঁড়ালেন এক অসহায় বাবার পাশে

abdul-khalek320170104163830ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

২৭ ডিসেম্বর। সময় তখন বেলা ১১টা। রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বসে কাঁদছিলেন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। এ সময় স্টেশনে টিকিট কাটতে গিয়ে বৃদ্ধের কান্নার দৃশ্যটি চোখে পড়ে রেজাউল করিম নামে এক যুবকের। সেদিন তিনি ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

পরদিন রাত ১০টায় রেজাউল করিম আবারো স্টেশনে গেলে একই স্থানে ওই বৃদ্ধকে দেখতে পান। এরপর কৌতূহলবশত তিনি বৃদ্ধের কাছে যান এবং কান্নার কারণ জানতে চান। আব্দুল খালেক নামে ওই বৃদ্ধ জানান, তার সন্তানরা সব সম্পত্তি নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

এর আগেও তাকে বাড়িতে সব সময় নির্যাতন করা হতো। তিনি সিলেট থেকে এখানে এসেছেন। এসব ঘটনা জানার পর তিনি আব্দুল খালেকের কিছু ছবি তোলেন এবং রাতে বৃদ্ধের করুণ কাহিনী তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেই সঙ্গে পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় আব্দুল খালেককে হাসপাতালে ভর্তির জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুদের সাহায্য চান।

পরদিন সকাল ৯টায় স্টেশনে গিয়ে কোনো বন্ধুকে না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন রেজাউল করিম। এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে সেখানে দুজন লোক ভাড়া করে বৃদ্ধ আব্দুল খালেককে গোসলের ব্যবস্থা করেন এবং নতুন কাপড় কিনে সেগুলো পরান। পরে তাদের সহযোগিতায় তিনি তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

abdul-khalek420170104163827আব্দুল খালেককে হাসপাতালে ভর্তির পর রেজাউল করিম এ কাজে কোনো বন্ধুকে কাছে না পাওয়ায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এরপর Desperately Seeking-Explicit (DSE) নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা ঝাঁপিয়ে পড়েন।

এরপর থেকেই DSE গ্রুপের সদস্যরা প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টায় মোট ছয় তরুণ-তরুণী আব্দুল খালেকের দেখভালের দায়িত্ব নেন এবং তারা সারাক্ষণ তার বিষয়গুলো তাদের গ্রুপে জানান দেন। এ সময় অনেকেই তাদের এই মিশনে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়ালেও তারা বৃদ্ধের জন্য খাবার বা ওষুধ অথবা কাপড় কিনে দেয়ার অনুরোধ জানান।

গ্রুপের অ্যাডমিন জেবিন ইসলাম বলেন, বাবার বয়সী ওই বৃদ্ধের জন্য গ্রুপের প্রতিটি সদস্যের একটি আলাদা মায়া কাজ করছিল। তাই যখনই হাসপাতালে চার ঘণ্টা থাকার ব্যাপারে গ্রুপে পোস্ট দিয়ে আহ্বান জানানো হতো প্রতিবারই অসংখ্য বন্ধু এ কাজে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

abdul-khalek220170104163832তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫০ জন তরুণ-তরুণী এ কাজে নিয়োজিত। প্রত্যেকের আলাদাভাবে কাজ ভাগ করা ছিল। আমার দায়িত্ব ছিল বৃদ্ধ বাবাকে সময় মতো খাবার দেয়া। বন্ধু ইমন খানের দায়িত্ব ছিল ব্যবস্থাপনার। বন্ধু বীথি হকের দায়িত্ব ছিল চিকিৎসকদের মেইনটেইন করা। কারো দায়িত্ব ছিল সময় মতো ওষুধ খাওয়ানো। কারো ছিল কাপড় বদলানো। কারো আবার দায়িত্ব ছিল মলমূত্র পরিষ্কার করার। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, সবাই অনেক আন্তরিকভাবে কাজগুলো করেছেন।

জেবিন ইসলাম আরো বলেন, আমরা মূলত বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধদের নিয়ে কাজ করি। এসব কাজে আমাদের গ্রুপের প্রায় দুই লাখ সদস্যের কেউ না কেউ অনেক বেশি আন্তরিক। আর এ কাজে বিপ্লব, তিন্নী, শিফা, সাজিদ, সাফাসহ অনেকে অনেক কষ্ট করেছেন। বিশেষ কৃতজ্ঞতা ইমরান ভাইয়ের প্রতি।

এ ব্যাপারে রেজাউল করিম জানান, বৃদ্ধ বাবার করুণ কাহিনী জানার পর এ পর্যন্ত চারজন বন্ধু আমাকে প্রায় ৫ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বাকি টাকা আমিই ব্যবস্থা করেছি। গত কয়েকদিনে এই কাজে দৌড়ানোর কারণে অনেক ক্লান্ত আমি। কিন্তু যে তৃপ্তি আমার মাঝে কাজ করছে তা বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। প্রতিটি ভালো কাজে আল্লাহ পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিয়ে রেখেছেন।

তিনি বলেন, ব্যস্ততার কারণে এ বিষয়ে আইনি সহায়তা নেয়া হয়নি। আজ কমলাপুর রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

রেজাউল করিম আরও বলেন, আজ সকালে বৃদ্ধ বাবাকে দেখতে এসেছে কিছু মানুষ। তারা বলছেন, বৃদ্ধের সঙ্গে তাদের বাবার ৫০ ভাগ চেহারার মিল রয়েছে। তারা আব্দুল খালেককে নিয়ে যেতে চান। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।

সূত্র : জাগো নিউজ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: