সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৫ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আ.লীগ-বিএনপি

bd-pratidin-26-09-16-f-07ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস এবং বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। আজ ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষ পূর্তির দিনটি ঘিরে প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। ওই দিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ বলেছে, ৫ জানুয়ারি জনগণ বিএনপিকে মাঠে নামতে দেবে না। আর বিএনপি বলেছে, তাদের কর্মসূচি হবেই। এদিকে সিলেটে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিজয় দিবস পালন করবে আজ। জেলা ও মহানগর বিএনপি নগরীতে কালো পতাকা মিছিল করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। এরপর থেকে দিনটি বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে। এবারও বিএনপি সেদিন ঢাকার বাইরে সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল এবং ৭ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।অন্যদিকে ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আওয়ামী লীগ। এবার ওই দিন রাজধানীর রাসেল স্কয়ার ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সারা দেশেও একই কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি সামনে রেখে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ৫ জানুয়ারি বিএনপিকে জনগণ মাঠে নামতে দেবে না। হানিফের এই বক্তব্যের পরপর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ৫ জানুয়ারি সারা দেশে মহানগর-জেলায় কালো পতাকা মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণের যে কর্মসূচি বিএনপি ঘোষণা করেছে, সেটা হবেই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ জানুয়ারির সমাবেশও হবে।৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে লাগাতার অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তিতে গত ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে সমাবেশ করেছিল বিএনপি।পাঁচ জানুয়ারি উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে এবং হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকার বাইরে সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল এবং ৭ জানুয়ারি ঢাকার সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছতে না পারলে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেবে বলেও মন্তব্য করেছেন দলের নেতারা।সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে বুধবার সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি।সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করতে পারবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয় দলটির পক্ষ থেকে।পাঁচ জানুয়ারি ঢাকার বাইরে কালো পতাকা মিছিল এবং ঢাকায় ৭ তারিখের সমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তবে, এখনো সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও ৫ জানুয়ারি প্রসঙ্গে তুলে কথা বলেন।সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্যের কথাও বলেন বিএনপির এ নেতা।বিএনপির সূত্র জানায়, দলটি মনে করছে, এবার আওয়ামী লীগ বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে নাও দিতে পারে। হানিফের বক্তব্যের পর তাদের সে আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। আবার একই দিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে হবে। নতুবা তাঁর জামিন বাতিল হবে। বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন, এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকতে পারে।জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় শক্তি ও পেশিশক্তি ব্যবহার করার কথা আগে থেকে ভিন্নভাবে বলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকেই উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে। ওই দিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সব জায়গায় ব্যবহৃত হচ্ছে।আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির কর্মসূচি প্রতিহত করার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে ওই দিন দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৫ জানুয়ারি এলেই ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি যে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- করেছিল, তা মনে করিয়ে দেয়। তারা যদি এবারও জ¦ালাও-পোড়াও করতে চায়, তাহলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘœ হয়, কাউকে এমন কিছু করতে দেওয়া হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: