সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিমান প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী বৈমানিকের অভিযোগ

biman_boeing_737-800_priyoডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক নারী বৈমানিকের রুট ট্রেনিংয়ে ‘রহস্যজনক’ ফেলের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই নারী বৈমানিক রুট চেকের সময় তার প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেনের রোষানলের শিকার হয়েছেন।

জাতীয় দৈনিক যুগান্তর বিশেষ প্রতিবেদনে বলছে, এ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিলে ফল খারাপ হবে- এমন আশঙ্কা প্রকাশের পরও নারী বৈমানিককে বাধ্য করা হয় ওই ক্যাপ্টেনের অধীনে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ভালো করার পরও প্রশিক্ষক তাকে অন্যায়ভাবে ফেল করিয়েছেন। প্রতিবাদ করলে নারী বৈমানিককে মানসিক রোগী বলে অভিযুক্ত করে পাঠানো হয় মনোচিকিৎসকের কাছে। এমনকি তার বেতন ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী কো-পাইলট ফারিয়াল আহমেদ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিষয়টি এরই মধ্যে বিমান ম্যানেজমেন্ট, পরিচালনা পর্ষদ পেরিয়ে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। এতে বিমানের ‘টপ টু বটম’ বিব্রতবোধ করছেন। তবে কেউ-ই মুখ খুলছেন না।

এ বিষয়ে ফারিয়াল আহমেদ বলেন, আমার অভিযোগ আমি বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে জানিয়েছি।

বিমানের ফ্লাইট অপারেশন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, বিমানের এক প্রভাবশালী পাইলটের ভাই হচ্ছেন বিমান ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তা। এ কারণে ম্যানেজমেন্টও ক্যাপ্টেন ফারিয়ালের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন (অব.) মোসাদ্দিক আহম্মেদ বলেন, ফারিয়ালের বেতন বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য ফ্লাইট অপারেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। তবে ফারিয়ালকে আবার অপারেশনে ফিরে আসতে হলে আগে ইন্সট্রাকটরের দেওয়া ফেল রিপোর্ট মেনে নিতে হবে।

‘এরপর তাকে দ্বিতীয় দফায় অপর একজন ইন্সট্রাকটের অধীনে রুট চেক ট্রেনিংয়ে পাঠানো হবে,’ যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিমানের এমডি’র কাছে বিষয়টি জানতেও চাওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারী বৈমানিক ফারিয়ালের রুট চেকের প্রশিক্ষক ছিলেন বিমানের চুক্তিভিত্তিক বৈমানিক ক্যাপ্টেন ইন্সট্রাকটর কামরুল হাসান জোয়ারদার। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অসংখ্য অভিযোগ বিমানে ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

এর আগে ২০০৮ সালে নানা অভিযোগে ক্যাপ্টেন কামরুল হাসান জোয়ারদারকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানায় সূত্র। এরপর তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলায় জয়ী হয়ে ২০১১ সালে ফের যোগ দেন বিমানে। এরপর ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান।

ক্যাপ্টেন কামরুল হাসান বলেন, রুট চেকে পাস করার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, কো-পাইলট ফারিয়াল কোনোটিই পূরণ করতে পারেননি। তিনি ফেল করেছেন। এখানে কোনো ধরনের খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।

‘দীর্ঘদিন গ্রাউন্ডেট থাকার কারণে তিনি কো-পাইলট হিসেবে আনফিট ছিলেন। ককপিটে বসেই তিনি অসংলগ্ন আচরণ করেন। একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ওই রুট চেকের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। ওই ফ্লাইটে তাকে পাইলটের আসনে বসিয়ে বলা হয়েছিল বিমান চালানোর জন্য। কিন্তু ফারিয়াল কোনো কমান্ডই সঠিকভাবে দিতে পারেননি,’ বলেন তিনি।

রোষানলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন কামরুল হাসান বলেন, বিমানে ফ্লাইট ডাটা মনিটরিং করার জন্য ব্ল্যাকবক্স আছে, তা পরীক্ষা করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

মানসিক চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত, বিমানের চিফ মেডিকেল অফিসার (সিএমও) জানেন। এ নিয়ে আমি কোনো সুপারিশ করিনি।

এ প্রসঙ্গে বিমানের সিএমও ডা. তাসলিমা বলেন, কো-পাইলট ফারিয়ালকে মানসিক ডাক্তারের কাছে পাঠানো বিমানের নিয়মিত কাজের একটি অংশ।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী প্রথম দফায় মেডিকেল পরীক্ষায় ফিট প্রমাণিত হলে দ্বিতীয় দফায় মেডিকেল করাতে হলে পরিচালকের (হেলথ) অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নিয়েছেন কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যা যা করার দরকার সব করা হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: